images

ইসলাম

খুতবার সময় একটি ‘টু শব্দ’ কেড়ে নিতে পারে জুমার ফজিলত

ধর্ম ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৬ এএম

মুসলিম উম্মাহর কাছে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন শুক্রবার বা জুমার দিন। এই দিনকে ‘সাপ্তাহিক ঈদ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। জুমার নামাজের অন্যতম প্রধান এবং আবশ্যিক অংশ হলো খুতবা। তবে পরিতাপের বিষয় হলো, খুতবা চলাকালীন মোবাইল ফোন ব্যবহার, ফিসফিস করে কথা বলা কিংবা অন্যমনস্ক থাকার কারণে অনেকেই অজান্তেই হারান জুমার মূল ফজিলত ও সওয়াব।

খুতবার সময় নীরবতার গুরুত্ব

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, জুমার খুতবা শোনা ওয়াজিব বা আবশ্যক। খতিব যখন মিম্বরে খুতবা প্রদান করেন, তখন উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য কথা বলা বা অন্যকোনো কাজে লিপ্ত হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ধর্মীয় বিধানে জুমার খুতবাকে নামাজের কাছাকাছি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নামাজে যেমন কথা বলা যায় না, খুতবা চলাকালীনও তেমনি নিশ্চুপ থাকা জরুরি।

হাদিসের কঠোর হুঁশিয়ারি

খুতবার সময় নীরবতা পালনে অবহেলার পরিণাম সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (স.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘জুমার দিন খুতবা চলাকালে যদি তুমি তোমার সঙ্গীকে বলো- ‘চুপ করো’, তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (সহিহ বুখারি: ৯৩৪, সহিহ মুসলিম: ৯৩১)

আরও পড়ুন: জুমার দিনের সুন্নাহভিত্তিক আমল ও ফজিলত

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, কাউকে ভালো কাজের আদেশ দেওয়া বা মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখা সওয়াবের কাজ হলেও খুতবা চলাকালীন তা মৌখিকভাবে করা নিষেধ। এমনকি পাশে থাকা কেউ কথা বললে তাকে ইশারায় চুপ করতে বলা যাবে, কিন্তু মুখে ‘চুপ করো’ বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য হবে, যা জুমার ফজিলতকে নষ্ট করে দেয়।

স্মার্টফোন: খুতবার একাগ্রতায় নতুন বাধা

বর্তমান সময়ে জুমার খুতবার সময় মোবাইল ফোনের ব্যবহার একটি বড় ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক মুসল্লিকে দেখা যায় খুতবা চলাকালীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করতে, মেসেজ আদান-প্রদান করতে কিংবা খুতবার ভিডিও রেকর্ড করতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোনের এই ব্যবহার কেবল নিজের মনোযোগই নষ্ট করে না, বরং আশেপাশের মুসল্লিদের একাগ্রতাও বিঘ্নিত করে। মসজিদের ভেতরে ফোনের রিংটোন বেজে ওঠা কিংবা ভিডিও করার মাধ্যমে খুতবার পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ হয়।

আরও পড়ুন: জুমার দিনের এক ঘণ্টা: যে সময়ের দোয়া ফেরত যায় না 

সওয়াব হারানো বা অনর্থক জুমার নামাজ

অনেক আলেম মনে করেন, খুতবা মনোযোগ দিয়ে না শুনলে জুমার যে বিশেষ ফজিলত ও গুনাহ মাফের প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা থেকে ওই ব্যক্তি বঞ্চিত হতে পারেন। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে ইমামের খুতবার সময় কথা বলে, সে যেনো পুস্তক বহনকারী গাধার মতো! অন্যত্র বলেছেন- তার কোনো জুমা নেই (অর্থাৎ তার জুমা বরবাদ হলো) (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ: ২/১৮৪, হাদিস: ৩১২৩, ৩১২৫)

সচেতনতায় করণীয়

জুমার পূর্ণ ফজিলত পেতে মুসল্লিদের জন্য কিছু শিষ্টাচার মেনে চলা জরুরি-

  • খুতবা শুরুর অন্তত ১৫-২০ মিনিট আগে মসজিদে প্রবেশ করা এবং সামনের কাতারে বসার চেষ্টা করা।
  • মসজিদে প্রবেশের পরপরই মোবাইল ফোন বন্ধ অথবা সাইলেন্ট মুডে রাখা।
  • খুতবা চলাকালীন খতিবের দিকে মুখ করে বসা এবং পিনপতন নীরবতা বজায় রাখা।
  • খুতবার সময় তসবিহ পাঠ বা অন্যকোনো নফল ইবাদত না করে কেবল খুতবায় মনোযোগ দেওয়া।

জুমার দিনটি আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিনদের জন্য এক বিশেষ উপহার। খুতবা হলো সেই উপহারের আধ্যাত্মিক পাথেয়। তাই সামান্য অসচেতনতা বা একটি অপ্রয়োজনীয় ‘টু শব্দ’ যেন আমাদের সারা সপ্তাহের প্রতীক্ষিত জুমার ফজিলতকে কেড়ে নিতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রতিটি মুসল্লির ঈমানি দায়িত্ব।