images

ইসলাম

নফল রোজাদারকে ইফতার করালে কতটা সওয়াব হয় জানেন?

ধর্ম ডেস্ক

২৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

ইসলামি শরিয়তে রোজাদারকে ইফতার করানো অন্যতম ফজিলতপূর্ণ আমল। রমজানে এই আমলটি বেশ গুরুত্বের সাথে পালন করা হলেও নফল রোজাদারকে ইফতার করানোর বিষয়টি অনেকের অগোচরেই থেকে যায়। অথচ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, নফল রোজাদারকে ইফতার করিয়ে খুব সহজেই অন্যের ইবাদতের সমান সওয়াব অর্জন করা সম্ভব।

সমান সওয়াব অর্জনের সুযোগ

রোজাদারকে ইফতার করানোর সওয়াব সংক্রান্ত হাদিসটি কেবল রমজানের জন্য নির্দিষ্ট নয়। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন- ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার (রোজাদারের) সমান সওয়াব পাবে; তবে এতে রোজাদারের সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।’ (সুনানে তিরমিজি: ৮০৭)
অর্থাৎ, শাওয়ালের নফল রোজাদারকে ইফতার করালে আপনি ঘরে বসেই তার সমান সওয়াব পাবেন।

আরও পড়ুন: শাওয়ালের রোজা কবে শুরু, ৬টার কম রাখা যাবে?

ফেরেশতাদের বিশেষ দোয়া লাভ

নফল রোজাদারকে আপ্যায়নের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেশতাদের দোয়া। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘যখন কোনো রোজাদার ব্যক্তির সামনে খাবার গ্রহণ করা হয়, তখন ফেরেশতারা তার জন্য (রোজাদার) দোয়া করতে থাকেন।’ (সুনানে তিরমিজি: ৭৮৪,৭৮৫)
অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, ফেরেশতারা আপ্যায়নকারীর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করেন।

সামান্য খাদ্যেও বিশাল সওয়াব

ইফতার করানোর সওয়াব পাওয়ার জন্য অনেক বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। নফল রোজার জন্য সামান্য খাদ্যও বিশাল সওয়াবের পথ খুলে দেয়। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘আল্লাহ তাআলা এই সওয়াব সেই ব্যক্তিকেও দেবেন যে কোনো রোজাদারকে এক চুমুক দুধ, একটি খেজুর বা সামান্য পানি দিয়ে ইফতার করাবে।’ (সহিহ ইবনে খুজাইমা: ১৮৮৭)

আরও পড়ুন: যেসব দিনে নফল রোজা রাখতেন নবীজি

সামাজিক সম্প্রীতি ও মর্যাদা

রমজানে সবাই রোজা রাখে, কিন্তু নফল রোজা রাখা হয় নিভৃতে। আপনার কোনো সহকর্মী বা প্রতিবেশী নফল রোজা রেখেছে জানলে তাকে ইফতার করানো পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য নিদর্শন। ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী, নফল রোজাদারের মর্যাদা রক্ষা করা ও তার আপ্যায়ন করা একটি উত্তম সামাজিক শিষ্টাচার।

কষ্ট ছাড়াই পূর্ণ সওয়াব

নফল রোজাদারকে ইফতার করানো মানে কষ্ট ছাড়াই পূর্ণ রোজার সমান সওয়াব পাওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ। শাওয়ালের ছয় রোজা বা সাপ্তাহিক সুন্নত রোজাগুলোর ক্ষেত্রে আমরা যদি একে অপরকে ইফতার করানোর এই সংস্কৃতি চালু করতে পারি, তবে সমাজে ইবাদতের একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে।

নফল রোজাদারকে ইফতার করানো আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক সহজ অথচ ফলপ্রসূ পথ। অন্যের ইবাদতে সহায়তা করার মাধ্যমে নিজের আমলনামাকে সমৃদ্ধ করার এই সুযোগ প্রতিটি মুমিনের গ্রহণ করা উচিত।