images

ইসলাম

জুতা পরিধানের সুন্নাহ ও ইসলামি আদব

ধর্ম ডেস্ক

২৪ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, যা মানুষের অতি সাধারণ কাজগুলোকেও সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ করে তোলে। জুতা পরিধান করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রিয়নবী (স.)-এর শেখানো পদ্ধতিতে এই সাধারণ কাজটি সম্পাদন করলে তা কেবল শিষ্টাচারই নয়, বরং ইবাদতের মর্যাদাও লাভ করে।

ডান-বাম সংক্রান্ত সুন্নাহ (পরিধান ও খোলার নিয়ম)

জুতা পরিধানের ক্ষেত্রে প্রধান সুন্নাহ হলো ডান পা দিয়ে শুরু করা এবং খোলার সময় বাম পা দিয়ে শুরু করা। এটি ডান দিকের প্রতি সম্মান ও বরকতের প্রতীক। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছে- ‘তোমাদের কেউ যখন জুতা পরিধান করে, সে যেন ডান দিক থেকে শুরু করে। আর যখন খুলে ফেলে, তখন যেন বাম দিক থেকে শুরু করে। যেন ডান পা পরিধানের ক্ষেত্রে প্রথম এবং খোলার ক্ষেত্রে শেষ হয়।’ (সহিহ বুখারি: ৫৮৫৫)

আরও পড়ুন: টি-শার্ট পরে নামাজ পড়ার বিধান

বসে জুতা পরা উত্তম শিষ্টাচার

রাসুলুল্লাহ (স.) দাঁড়িয়ে জুতা পরতে নিষেধ করেছেন মর্মে হাদিস বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জুতা পরতে হাতের সাহায্য প্রয়োজন হয় (যেমন ফিতা বা স্ট্র্যাপওয়ালা জুতা), সেগুলো বসে পরা সুন্নাহ ও নিরাপদ। হজরত জাবির (রা.) বলেন- ‘রাসুলুল্লাহ (স.) লোকদেরকে দাঁড়িয়ে জুতা পরিধান করতে নিষেধ করেছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪১৩৫)
শিক্ষা: বসে জুতা পরলে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকি থাকে না। তবে সাধারণ চটি বা স্যান্ডেল যা সহজে পরা যায়, তা প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে পরলে কোনো সমস্যা নেই।

lucid-origin_Prompt_A_high-quality_photorealistic_close-up_shot_of_a_person_sitting_on

এক পায়ে জুতা পরে হাঁটা পরিহার করা

ইসলামে ভারসাম্য ও সৌন্দর্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক পায়ে জুতা পরে অন্য পা খালি রেখে হাঁটা অপছন্দনীয় কাজ।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘তোমাদের কেউ যেন এক পায়ে জুতা পরে না হাঁটে। হয় সে উভয় পায়েই জুতা পরবে, নতুবা উভয় পা-ই খালি রাখবে।’ (জামে তিরমিজি: ১৭৭৪)
শিক্ষা: এটি শারীরিক ভারসাম্যের জন্য ক্ষতিকর এবং দেখতেও অস্বাভাবিক লাগে। যদি একটি জুতা ছিঁড়ে যায়, তবে সেটি মেরামত না করা পর্যন্ত অন্যটিও খুলে রাখা উত্তম।

আরও পড়ুন: নারীর টাখনু বের হয়ে গেলে কি নামাজ ভেঙে যাবে?

মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটা

সবসময় বিলাসিতায় ডুবে না থেকে মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটা রাসুলুল্লাহ (স.)-এর একটি শিক্ষা। এর মাধ্যমে মানুষের মনে বিনয় সৃষ্টি হয় এবং অহংকার দূর হয়। হজরত ফুদালা ইবনে উবায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (স.) আমাদের মাঝেমাঝে খালি পায়ে হাঁটার নির্দেশ দিতেন।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৪১৬০)
উপকারিতা: এটি মানুষের মাঝে সরলতা গড়ে তোলে। আধুনিক স্বাস্থ্যবিজ্ঞান অনুযায়ীও নিরাপদ পরিবেশে খালি পায়ে হাঁটা শরীরের জন্য উপকারী।

without-shoe

জুতা পরিধানে সতর্কতা ও পরিচ্ছন্নতা

জুতা পরার আগে তা একবার ঝেড়ে পরিষ্কার করে নেওয়া উত্তম। রাসুলুল্লাহ (স.) একবার জুতা পরার আগে সেটি ঝেড়েছিলেন এবং দেখা গেল ভেতর থেকে একটি বিষাক্ত পোকা বেরিয়ে এল।
শিক্ষা: জুতা ঝেড়ে নিলে ভেতরে থাকা ময়লা বা ক্ষতিকর পোকা-মাকড় থেকে বাঁচা যায়। এটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

জুতা পরিধানের এই ছোট ছোট সুন্নাহগুলো আমাদের জীবনে শৃঙ্খলা, ভারসাম্য ও সৌন্দর্য এনে দেয়। এক পায়ে জুতা না পরা যেমন পরিমিতির শিক্ষা দেয়, তেমনি মাঝে মাঝে খালি পায়ে হাঁটা বিনয়ের প্রকাশ ঘটায়। প্রিয়নবী (স.)-এর প্রতিটি সুন্নাহর মধ্যেই মানবজাতির জন্য ইহকালীন ও পরকালীন কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই সুন্দর আমলগুলো নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।