images

ইসলাম

৬ রোজায় ৩৬৫ দিনের সওয়াব: হিসাবটা জানুন

ধর্ম ডেস্ক

২২ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

রমজান মাসের ৩০টি রোজার পর শাওয়াল মাসে মাত্র ৬টি রোজা রাখলে পুরো বছরের সমপরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়- এই হাদিস অনেকেরই জানা। তবে প্রশ্ন জাগে, মাত্র ৬ দিন কীভাবে পুরো বছরের সমান হতে পারে? এর পেছনে রয়েছে এক চমৎকার ধর্মীয় ও গাণিতিক ব্যাখ্যা।

হিসাবটা যেভাবে কাজ করে

ইসলামি শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো- প্রতিটি নেক কাজের প্রতিদান কমপক্ষে ১০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে একটি সৎকাজ করবে, সে তার দশগুণ প্রতিদান পাবে’ (সুরা আনআম: ১৬০)। এই সূত্র অনুযায়ী হিসাবটি দাঁড়ায়-

রমজানের ৩০ দিন: ৩০ × ১০ = ৩০০ দিন
শাওয়ালের ৬ দিন: ৬ × ১০ = ৬০ দিন

মোট: ৩০০ + ৬০ = ৩৬০ দিন

আরও পড়ুন: ‘শাওয়ালের ৬ রোজা’ কাজা রোজার আগে নাকি পরে?

একটি আরবি চান্দ্রবছর সাধারণত ৩৫৪ বা ৩৫৫ দিনেরই হয়ে থাকে। অর্থাৎ, শাওয়ালের এই ৬টি রোজা রাখলে একজন মুমিন বছরের প্রতিটি ‘রোজা রাখার যোগ্য’ দিনে রোজা রাখার সওয়াব লাভ করেন। 

৫টি নিষিদ্ধ দিন ও নিখুঁত হিসাব

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বছরে ৫টি দিনে রোজা রাখা হারাম বা নিষিদ্ধ। দিনগুলো হলো- ঈদুল ফিতরের দিন, ঈদুল আজহার দিন এবং পরবর্তী তিন দিন (আইয়ামে তাশরিক)।
রাসুলুল্লাহ (স.) এই ৫ দিন রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন (সহিহ বুখারি: ১৯৯১, সহিহ মুসলিম: ২৫৪৮)। এখন গাণিতিক হিসাবটি লক্ষ্য করুন- মোট সওয়াব ৩৬০ দিন থেকে এই ৫টি নিষিদ্ধ দিন বাদ দিলে থাকে (৩৬০ - ৫) = ৩৫৫ দিন (এক চান্দ্রবছর)। এভাবেই মাত্র ৩৬টি রোজার মাধ্যমে পুরো বছরের আমলনামা পূর্ণ হয়।

আরও পড়ুন: শাওয়ালের রোজা কবে শুরু, ৬টার কম রাখা যাবে?

করণীয় ও টিপস

  • শাওয়াল মাসের যেকোনো সময়ে (টানা বা বিরতি দিয়ে) এই রোজা রাখা যায়।
  • ঈদের পরদিন থেকেই রোজা শুরু করা উত্তম।
  • রমজানের কাজা রোজা থাকলে তা আদায় করার পর শাওয়ালের নফল ৬ রোজা রাখতে হবে।

অল্প পরিশ্রমে অধিক সওয়াব অর্জনের এমন সুযোগ হাতছাড়া করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তাই শাওয়ালের এই ছয় রোজার মাধ্যমে রমজানের ইবাদতকে পূর্ণতা দিন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে এগিয়ে যান।