ধর্ম ডেস্ক
২১ মার্চ ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
পবিত্র রমজান বিদায়ের পর শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা মুমিনের জন্য নেকির পাল্লা ভারী করার এক অনন্য সুযোগ। এই রোজাগুলোর ফজিলত, সময় এবং নিয়ম সম্পর্কিত একটি দালিলিক প্রতিবেদন নিচে তুলে ধরা হলো।
ঈদুল ফিতরের দিন (১লা শাওয়াল) রোজা রাখা হারাম। তাই ঈদের দিনটি অতিবাহিত হওয়ার পর থেকে এই রোজা শুরু করা যায়।
কবে শুরু: শাওয়াল মাসের ২ তারিখ থেকে এই রোজা রাখা শুরু করা উত্তম।
কবে শেষ: শাওয়াল মাসের শেষ দিন পর্যন্ত এই রোজা রাখার সুযোগ থাকে। যেহেতু হিজরি মাস চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই শাওয়াল মাসের ২৯ বা ৩০ তারিখ (চাঁদ দেখা সাপেক্ষে) পর্যন্ত এই আমলটি সম্পন্ন করা যাবে।
আরও পড়ুন: শাওয়ালের ৬ রোজা রাখতে কি স্বামীর অনুমতি লাগবে?
শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখা মুস্তাহাব বা অত্যন্ত গুরুত্ববহ একটি নফল আমল। এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়। তাই এই রোজা পালনের ক্ষেত্রে বিধান হলো-
গুনাহ হবে না: কেউ যদি ৬টির একটিও না রাখে বা কোনো কারণে ৬টির কম রাখে, তবে তার কোনো গুনাহ বা পাপ হবে না।
সওয়াবের ঘাটতি: তবে হাদিসে বর্ণিত ‘সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব’ পেতে হলে অবশ্যই ৬টি রোজা পূর্ণ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬৪)
গাণিতিক বিশ্লেষণ: পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন- ‘কেউ কোনো নেক আমল করলে, তাকে তার দশ গুণ সওয়াব প্রদান করা হবে।’ (সুরা আনআম: ১৬০) সেই হিসেবে রমজানের ৩০ দিন ও শাওয়ালের ৬ দিন মোট ৩৬ দিন। প্রতিটি আমলের সওয়াব ১০ গুণ হিসেবে তা ৩৬০ দিনে পরিণত হয়, যা প্রায় এক বছরের সমান। তাই ৬টির কম রাখলে এই বিশেষ ফজিলতটি পূর্ণ হবে না।
আরও পড়ুন: যেসব দিনে নফল রোজা রাখতেন নবীজি
শাওয়ালের ৬টি রোজা একাধারে টানা রাখা জরুরি নয়। বরং পুরো শাওয়াল মাসের মধ্যে নিজের সুবিধামতো ভেঙে ভেঙে বা বিরতি দিয়ে ৬টি রোজা পূর্ণ করলেই হাদিসে বর্ণিত সওয়াব পাওয়া যাবে।
সহজ উপায়: প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবারের সুন্নাহ রোজার সাথে মিলিয়ে অথবা চন্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের (আইয়ামে বিজ) রোজার সাথে মিলিয়ে সহজেই এই ৬টি রোজা সম্পন্ন করা যায়।
যাদের রমজানের রোজা কোনো কারণে কাজা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অধিকাংশ আলেমের মত হলো- আগে রমজানের কাজা রোজা আদায় করে নেবেন, তারপর শাওয়ালের রোজা রাখবেন। কারণ হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল (অর্থাৎ পূর্ণ করল), অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল...’।
আরও পড়ুন: নারীরা শাওয়ালে কাজা রোজা রাখলে কি নফলের সওয়াবও পান?
তবে যদি শাওয়াল মাস শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে শাওয়ালের নফল রোজা আগে রেখে পরে কাজা আদায় করার অবকাশ রয়েছে বলে অনেক ফকিহ মত দিয়েছেন।
শাওয়ালের রোজা রমজানের ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি রোজার ঘাটতি পূরণ করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়ক। ৬টি রোজা পূর্ণ করাই উত্তম, তবে কম রাখলে কোনো গুনাহ নেই; শুধু বিশেষ ফজিলত থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী শাওয়াল মাসের মধ্যেই এই আমল সম্পন্ন করার চেষ্টা করা উচিত।