ধর্ম ডেস্ক
২০ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
বিদায় নিয়েছে রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস পবিত্র রমজান। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা, তারাবিহের প্রশান্তি এবং সাহরি-ইফতারের আধ্যাত্মিক কর্মমুখরতা এখন শেষ। মুমিনের হৃদয়ে একদিকে প্রিয় মাসটিকে হারানোর বেদনা, অন্যদিকে মাসব্যাপী অর্জিত ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি বাকি ১১ মাস ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ।
রমজান মানেই যেন আত্মশুদ্ধি ও পরিবর্তনের মাস। যে মানুষটি হয়তো গত ১১ মাস জাগতিক মোহে ডুবে ছিলেন, তিনিও এই মাসে মগ্ন হন গভীর ইবাদতে। পাড়া-মহল্লা ও ঘরবাড়ি থেকে ভেসে আসে কোরআন তেলাওয়াতের সুর। পাপের কালিমা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে অশ্রুবিগলিত প্রার্থনা চলে। দীর্ঘ সময়ের পানাহার ত্যাগকে রোজাদাররা হাসিমুখে বরণ করেন। সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে তারা মুগ্ধতা নিয়ে শুনেন দীর্ঘ তারাবিহের তেলাওয়াত। শেষ রাতে তাহাজ্জুদের জায়নামাজে কপাল বিছিয়ে চলে তওবা ও আত্মশুদ্ধির মহোৎসব।
রমজান কেবল উপবাস নয়, এটি একটি ‘ট্রেনিং ক্যাম্প’। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন- ‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যেন তোমরা মুত্তাকি (তাকওয়াবান) হতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)
হিংসা, বিদ্বেষ, ক্রোধ ও অনৈতিকতা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার শপথই রোজাদারের তাকওয়া। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম। রোজা শুধু আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।’ (সহিহ মুসলিম: ২৭৬০)
রমজানের সার্থকতা কেবল ৩০ দিনের ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত সাফল্য হলো সেই ধারাবাহিকতা সারাজীবন ধরে রাখা। আমরা যেমন রমজানে আল্লাহর বান্দা, রমজানের বাইরেও তারই বান্দা। রমজানে আল্লাহ দেখছেন- এই ভাবনায় আমরা যেমন পাপাচার ও বৈধ পানাহার থেকে বিরত থেকেছি, বাকি ১১ মাসও সেই বোধ জাগ্রত রাখা প্রয়োজন।
রমজানে যেভাবে গুরুত্বসহকারে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে পড়েছি, জিকির ও কোরআন তেলাওয়াত করেছি, দান-সদকার হাত বাড়িয়েছি, বছরের বাকি দিনগুলোতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। কারণ আল্লাহকে পাওয়ার স্পৃহা শুধু রমজানের জন্য নয়, এটি সারা বছরের জন্য।
রমজান বিদায় নিলেও আমাদের ইবাদতের স্পৃহা যেন বিদায় না নেয়। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘কোনো বান্দা যদি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। যদি কেউ আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে আসি।’ (সহিহ মুসলিম)
রমজানের এই বিদায়ে আমাদের অঙ্গীকার হোক- পুরো বছর কাটুক রমজানের সেই পবিত্র ছোঁয়ায়। জীবন যেন তাকওয়ার রঙে রঙিন হয় এবং প্রতিটি মুহূর্ত প্রশান্তিতে ভরে ওঠে। রমজানের শিক্ষাগুলো বছরের ১২ মাস ধরে পালন করতে পারলেই আমাদের সিয়াম সাধনা সত্যিই সার্থক হবে।