images

ইসলাম

শবে কদরে ফেরেশতারা কীভাবে নাজিল হন?

ধর্ম ডেস্ক

১৬ মার্চ ২০২৬, ০৫:০১ পিএম

ইসলামি আকিদায় শবে কদর বা লাইলাতুল কদর এক অনন্য আধ্যাত্মিক রজনী। এই রাতে আকাশ থেকে পৃথিবীতে এক বিশেষ নূরানি প্রবাহ তৈরি হয়। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, ফেরেশতাকুলের সর্দার জিবরাইল (আ.)-এর নেতৃত্বে অসংখ্য ফেরেশতা এই রাতে পৃথিবীতে নেমে আসেন। তাঁদের এই অবতরণের প্রক্রিয়া ও তাৎপর্য নিচে তুলে ধরা হলো।

১. যেভাবে নাজিল হন (অবতরণ প্রক্রিয়া)

সুরা কদরে ফেরেশতাদের অবতরণ বোঝাতে ‘তানাজ্জালু’ (تَنَزَّلُ) শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। আরবি ব্যকরণের নিয়ম অনুযায়ী, এর অর্থ হলো কোনো কাজ বারবার বা দফায় দফায় হওয়া। অর্থাৎ, এই রাতে ফেরেশতারা আসমান থেকে একবারে নয়, বরং দলে দলে, এক দলের পর অন্য দল অবিরাম ধারায় পৃথিবীতে নামতে থাকেন। ফেরেশতাদের এই নূরানি কাফেলা সূর্য ডোবার পর থেকেই নামা শুরু করে এবং তা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

আরও পড়ুন: ফেরেশতার রূপ কেমন? কোরআন-হাদিসে বর্ণিত বাস্তব চিত্র

২. ‘রুহ’ বা জিবরাইল (আ.)-এর নেতৃত্ব

সুরা আল-কদরের ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সে রাতে ফেরেশতারা ও রুহ নাজিল হয় তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে।’ এখানে ‘আর-রুহ’ বলতে হজরত জিবরাইল (আ.)-কে বোঝানো হয়েছে। তাঁর বিশেষ মর্যাদার কারণে সমস্ত ফেরেশতার ভিড়ে তাঁর কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ফেরেশতাদের এক বিশাল দল নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করেন।

৩. বালুকণার চেয়েও বেশি ফেরেশতা

শবে কদরের রাতে কতসংখ্যক ফেরেশতা পৃথিবীতে আসেন, তা নিয়ে হাদিসে এক বিস্ময়কর বর্ণনা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘লাইলাতুল কদরের রাতে পৃথিবীতে ফেরেশতারা এত বেশি অবতরণ করেন যে, তাঁদের সংখ্যা পাথরকুচি বা বালুকণার চেয়েও বেশি।’ (মুসনাদে আহমদ) পাথরকুচির চেয়ে বেশি হওয়ার অর্থ হলো- এই রাতে পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে ফেরেশতাদের বিচরণ ঘটে। প্রতিটি মসজিদ ও মুমিন বান্দার ঘরে তাঁরা আল্লাহর রহমত নিয়ে উপস্থিত হন।

আরও পড়ুন: ডানার সাহায্যে ফেরেশতারা যেসব কাজ করেন

৪. কেন তাঁরা পৃথিবীতে আসেন?

ফেরেশতারা মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে পরবর্তী এক বছরের ভাগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো (আমরে হাকিম) নিয়ে আসেন। আগামী এক বছর কার রিজিক কী হবে বা কার মৃত্যু হবে—এমন সব বিষয়গুলো ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া তাঁরা ইবাদতকারীদের জন্য শান্তির বার্তা নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন: নেককারের মৃত্যুতে ফেরেশতা সান্ত্বনা দেন যেভাবে

৫. মুমিনদের জন্য সালাম ও শান্তি

সুরা আল-কদরের শেষ আয়াতে এই রাতকে ‘সালাম’ বা শান্তি বলা হয়েছে। ইমাম ইবনে কাসির (র.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, ফেরেশতারা যখন ইবাদতকারীদের পাশ দিয়ে যান, তখন তাঁদের সালাম জানান। যাবতীয় অনিষ্ট ও বিপদাপদ থেকে এই রাতটি ফজর পর্যন্ত শান্তিময় থাকে। ফেরেশতারা মুমিনদের ইবাদত প্রত্যক্ষ করেন এবং তাঁদের জন্য আল্লাহর দরবারে রহমতের দোয়া করতে থাকেন।
পাথরকুচির চেয়েও বেশি ফেরেশতা যখন পৃথিবীতে শান্তির বার্তা নিয়ে দলে দলে বিচরণ করেন, তখন মুমিন বান্দার উচিত ইবাদত ও মুনাজাতের মাধ্যমে সেই বরকতের ভাগীদার হওয়া। 

আল্লাহ আমাদের সবাইকে শবে কদরের পূর্ণ বরকত ও ফেরেশতাদের দোয়া নসিব করুন। আমিন।