images

ইসলাম

আল্লাহর ব্ল্যাংক চেক: যে আমলে আপনি ইচ্ছেমতো সওয়াব লিখে নেবেন

ধর্ম ডেস্ক

১৫ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

প্রতিটি নেক আমলের জন্য ইসলামে নির্দিষ্ট প্রতিদানের সীমা রয়েছে। কখনও তা ১০ গুণ, কখনও ৭০ গুণ আবার কখনও ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু মানবজীবনের এক অনন্য ইবাদত ‘ধৈর্য বা সবর’, যার সওয়াবের কোনো সীমারেখা মহান আল্লাহ নির্ধারণ করেননি। এই আমলটি যেন বিশ্বাসী বান্দার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ ‘ব্ল্যাংক চেক’, যেখানে প্রতিদানের অংকটি অবারিত রাখা হয়েছে। বান্দা তার ধৈর্য ও নিষ্ঠার মাধ্যমে এই ভাণ্ডার থেকে যত খুশি সওয়াব নিজের আমলনামায় যুক্ত করে নিতে পারে।

ধৈর্য: আল্লাহপ্রদত্ত অমূল্য পাথেয়

ধৈর্য কেবলই একটি গুণ নয়, এটি আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের শ্রেষ্ঠ পরিচয়। নবীজি (স.) মক্কার কাফিরদের চরম অত্যাচার ও সামাজিক বর্জনের মুখেও পাহাড়সম ধৈর্য ধারণ করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘আপনি ধৈর্য ধারণ করুন। আপনার ধৈর্য তো আল্লাহর সাহায্যেই।’ (সুরা নাহল: ১২৭)

অবারিত প্রতিদানের সেই ‘ব্ল্যাংক চেক’

অন্যান্য নেক আমলের সওয়াব পরিমাপযোগ্য হলেও ধৈর্যের সওয়াব অপরিমিত। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন- ‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেওয়া হবে কোনো হিসাব ছাড়াই (বে-হিসাব)।’ (সুরা জুমার: ১০)

আরও পড়ুন: সবরের বিস্ময়

বিখ্যাত মুফাসসিরদের মতে, এখানে ‘হিসাব ছাড়া’ শব্দের অর্থ হলো সওয়াব প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো দাঁড়িপাল্লা বা পরিমাপ ব্যবহার করা হবে না। অঝোর ধারায় বৃষ্টির মতো তাদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হতে থাকবে।

ধৈর্যের মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য ও বিজয়

বিপদ বা সংকটের সময় যে বান্দা ধৈর্য ধরে, স্বয়ং আল্লাহ তার অভিভাবক হয়ে যান। কোরআন আমাদের সেই আশ্বাসের বাণীই শোনায়- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা: ১৫৩)
যেখানে মহাবিশ্বের প্রতিপালক স্বয়ং সঙ্গে থাকার ঘোষণা দেন, সেখানে বান্দার সাফল্য অনিবার্য।

বিপদ যখন ধৈর্যের কষ্টিপাথর

মানুষের জীবনে ভয়, ক্ষুধা কিংবা ধন-সম্পদ ও স্বজন হারানোর মাধ্যমে পরীক্ষা আসা অনিবার্য। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘আমি তোমাদের অবশ্যই কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দ্বারা পরীক্ষা করব। আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫)

আরও পড়ুন: নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য চাইতে হয় যেভাবে 

যারা এই কঠিন সময়ে বিচলিত না হয়ে আল্লাহর ওপর অটল আস্থা রাখেন, তাদের জন্য রয়েছে বিশেষ পুরস্কার- ‘তাদের প্রতি রয়েছে তাদের রবের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত। আর তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত।’ (সুরা বাকারা: ১৫৭)

হাদিসের আলোয় ধৈর্যের মর্যাদা

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (স.) ইরশাদ করেছেন- ‘যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীলতা দান করেন। ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপক কোনো নেয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (সহিহ বুখারি: ১৪৬৯)

ধৈর্যের শ্রেষ্ঠ সময় হলো বিপদের ঠিক শুরুর মুহূর্তটি। নবীজি (স.) বলেছেন- ‘আল্লাহ তাআলা বলবেন, হে আদম সন্তান! তুমি যদি বিপদের প্রথম ধাক্কায় ধৈর্য ধারণ করো এবং সওয়াবের আশা রাখো, তবে আমি তোমার জন্য জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুতে সন্তুষ্ট হবো না।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৫৯৭)

ধৈর্য আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক বিশেষ সিঁড়ি। এটি পরকালে যেমন সওয়াবের অবারিত ভাণ্ডার, দুনিয়াতেও তেমনি প্রশান্তি ও বিজয়ের মূল চাবিকাঠি। জীবনের প্রতিটি বাঁকে অভিযোগের পথে না গিয়ে যারা সবরের পথ বেছে নেন, মহান আল্লাহর সেই ‘সিগনেচার করা ব্ল্যাংক চেক’ কেবল তাদের ভাগ্যেই জোটে। তাই আসুন, আমরা আমাদের যাপিত জীবনে ধৈর্যকে মূল হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করি এবং আল্লাহর অশেষ রহমতের ভাগীদার হই। আমিন।