images

ইসলাম

জুমাবারে দান-সদকার বরকত ও ফজিলত

ধর্ম ডেস্ক

১৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

ইসলামি অর্থব্যবস্থা ও সমাজকাঠামোয় দান-সদকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো অভাবী ও আর্তমানবতার সেবা করা। যদিও ইসলামে দান-সদকা করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বা ক্ষণ বেঁধে দেওয়া হয়নি; অর্থাৎ বছরের ৩৬৫ দিনই দান করার সওয়াব রয়েছে। তবুও জুমাবারের বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলতের কারণে এ দিনে দান করাকে অধিক বরকতপূর্ণ মনে করা হয়।

জুমাবারের বিশেষত্ব

জুমাবার বা শুক্রবার হলো সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন। একে ‘সায়্যিদুল আইয়াম’ বা দিনসমূহের সর্দার বলা হয়। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় এ দিনে ইবাদত-বন্দেগির মর্যাদা যেমন বেশি, তেমনি দান-সদকার সওয়াবও অনেক গুণ বৃদ্ধি পায়। প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ.) বলেন, ‘অন্যান্য দিনের তুলনায় জুমাবারে দান-সদকার দৃষ্টান্ত হলো বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় রমজান মাসে দান-সদকা করার মতো।’ (জাদুল মাআদ)

পবিত্র কোরআনের আলোকে দান-সদকা

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন স্থানে দান-সদকার গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। জুমাবারে বা অন্য যেকোনো দিনে দানের ক্ষেত্রে এই আয়াতগুলো আমাদের অনুপ্রাণিত করে-

বিপুল সওয়াবের প্রতিশ্রুতি: কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর পথে তাদের সম্পদ ব্যয় করে, তাদের দৃষ্টান্ত একটি বীজের মতো, যা সাতটি শীষ উৎপন্ন করে এবং প্রতিটি শীষে থাকে ১০০ দানা। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বহু গুণে বৃদ্ধি করে দেন।’ (সুরা বাকারা: ২৬১)

আরও পড়ুন: দান-সদকার যে প্রতিদান দুনিয়াতে দেওয়া হয়

মৃত্যুর সময়ের আক্ষেপ: আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি তোমাদের যা দিয়েছি তা থেকে মৃত্যু আসার আগেই ব্যয় করো। অন্যথায় সে (মৃত্যুর সময়) বলবে, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে আরও কিছুকাল সময় দিলে না কেন? তাহলে আমি সদকা করতাম এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতাম।’ (সুরা মুনাফিকুন: ১০)

হাদিসের আলোকে জুমাবারের দান-সদকা

রাসুলুল্লাহ (স.)-এর বিভিন্ন হাদিস থেকে জুমাবারের আমল ও সাধারণ সদকার ফজিলত স্পষ্ট হয়-

শ্রেষ্ঠ দিন: রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে জুমাবার হলো শ্রেষ্ঠ দিন।’ (সহিহ মুসলিম)। শ্রেষ্ঠ দিনে শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে দান-সদকা করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

গুনাহ মোচন: রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘সদকা গুনাহসমূহকে মিটিয়ে দেয়, যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।’ (তিরমিজি)

দোয়ার কবুলিয়াত: জুমাবারের দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়, আল্লাহ তাকে তা-ই দান করেন। দান-সদকা করার পর সেই মুহূর্তে দোয়া করা কবুল হওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ।

আরও পড়ুন: যাদের দান করলে সওয়াব বেশি

যদিও দান চিরন্তন, তবে জুমাবার কেন বিশেষ?

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, দান করার জন্য বিশেষ কোনো দিন বা তারিখের প্রয়োজন নেই। একজন মুমিন যেকোনো সময় তার সামর্থ্য অনুযায়ী দান করতে পারেন। তবে জুমাবারে দান করার কয়েকটি বিশেষ যৌক্তিক কারণ রয়েছে-

  • এ দিনে মুসলিম উম্মাহর বড় জমায়েত হয়, ফলে আর্তমানবতার পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ বেশি থাকে।
  • জুমাবারের বরকতময় সময়ে আমল করলে তার সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
  • এটি সাপ্তাহিক ঈদের দিন হওয়ায় গরিব-দুঃখীদের মুখে হাসি ফোটানো সুন্নাহর চেতনার সাথে সংগতিপূর্ণ।

পরিশেষে বলা যায়, দান-সদকা এমন একটি আমল যা কবরের আজাব ও জাহান্নামের আগুন থেকে মানুষকে রক্ষা করে। যদিও আমরা প্রতিদিন দান করার চেষ্টা করব, তবে জুমাবারের বিশেষ বরকত হাসিলের উদ্দেশ্যে এ দিনে দান-সদকার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া বা নিয়মিত রাখা উত্তম। এটি আমাদের সম্পদকে পবিত্র করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথকে প্রশস্ত করে।