ধর্ম ডেস্ক
০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম
মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর বা শবে কদর রমজান মাসের শেষ দশকে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে এই রাতের মর্যাদা এত বেশি যে, এটি হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। এই রাতেই পবিত্র কোরআন নাজিলের সূচনা হয়েছিল এবং আল্লাহর নির্দেশে অসংখ্য ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আপনি কি জানে লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর এক হাজার মাস অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রুহ তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে প্রত্যেক সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতীর্ণ হয়। সে রাত (আদ্যোপান্ত) শান্তি- ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত।’ (সুরা কদর: ১–৫)
কোরআনে আরও উল্লেখ রয়েছে যে, পবিত্র কোরআন রমজান মাসেই নাজিল হয়েছে। (সুরা বাকারা: ১৮৫) এবং তা নাজিল হয়েছে শবে কদরে। (সুরা কদর: ১)
তবে লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট তারিখ গোপন রাখা হয়েছে, যাতে মুসলমানরা রমজানের শেষ দশকজুড়ে ইবাদতে বেশি মনোনিবেশ করেন। এ প্রসঙ্গে হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) ইঙ্গিত করেছেন যে লাইলাতুল কদর গোপন রাখার রহস্য হচ্ছে, যাতে মানুষ এই রাতের সন্ধানে কষ্ট করে (তা পাওয়ার জন্য আমল করে)। এর পরিবর্তে যদি এই রাত নির্ধারিত হয়ে যেত, তাহলে মানুষ শুধুমাত্র এই রাতেই ইবাদতে সীমাবদ্ধ থাকত। (ফাতহুল বারি: ৪/২৩২)
মহানবী (স.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করো।’ (সহিহ বুখারি: ২০২০)
আরও পড়ুন: শবে কদর চেনার উপায়: ৫টি উল্লেখযোগ্য হাদিস
এই মহিমান্বিত রাতের ফজিলত লাভের জন্য হাদিসে কয়েকটি আমলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে-
১. শেষ দশকে ইবাদতে বেশি মনোযোগ
রমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে অধিক পরিমাণে ইবাদত করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। (সহিহ বুখারি: ২০২৪)
২. ইতেকাফ পালন
ইতেকাফ বান্দাকে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়তা করে এবং শবে কদর পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। রাসুলুল্লাহ (স.) নিয়মিত শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন এবং উম্মতকেও তা অনুসরণ করতে উৎসাহ দিয়েছেন। (সহিহ বুখারি: ২০২৭)
আরও পড়ুন: ইতেকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত
৩. বিজোড় রাতগুলোতে বিশেষ আমল
রমজানের শেষ দশকের ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখের মতো বিজোড় রাতগুলোতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই এসব রাতে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত।
৪. নফল নামাজ ও ইবাদতে রাত জাগরণ
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত জাগবে, তার পূর্বের গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৩৫)
৫. বিশেষ দোয়া ও ইস্তেগফার
হজরত আয়েশা (রা.) লাইলাতুল কদরের রাতে কী দোয়া পড়তে হবে জানতে চাইলে রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে এই দোয়া শিখিয়ে দেন- ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।’ অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন। (তিরমিজি: ৩৫১৩)
এই রাতে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
আরও পড়ুন: শবে কদরে অন্তত ৪ আমল ছেড়ে দেবেন না
হাদিসে লাইলাতুল কদরের কিছু বাহ্যিক আলামতের কথাও উল্লেখ রয়েছে। যেমন-
লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট তারিখ গোপন রাখার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মুসলমানদের রমজানের শেষ দশকে বেশি বেশি ইবাদতে মনোযোগী করা। তাই এ সময় ইতেকাফ, নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের চেষ্টা করা উচিত।