images

ইসলাম

কেনাকাটার ভিড়ে ‘কদর’ হারাবেন না

ধর্ম ডেস্ক

০৮ মার্চ ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

পবিত্র রমজান মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস। এই মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো শেষ দশ দিন বা নাজাতের দশক। কারণ এ সময়ের মধ্যেই রয়েছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রাত লাইলাতুল কদর; যে রাতে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যায়, অনেক মানুষ এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে ইবাদতের বদলে মার্কেট ও কেনাকাটার ব্যস্ততায় সময় কাটান। ফলে আখেরাতের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্তগুলো অজান্তেই হাতছাড়া হয়ে যায়।

রমজানকে হাদিসে ‘সাইয়িদুশ শুহুর’ বা সব মাসের সেরা মাস বলা হয়েছে। বিশেষ করে শেষ দশ রাত মুমিনদের জন্য নাজাত ও ক্ষমা লাভের সুবর্ণ সুযোগ। রাসুলুল্লাহ (স.) এই সময় ইবাদতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতেন। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন রমজানের শেষ দশ রাত শুরু হতো, তখন রাসুলুল্লাহ (স.) কোমর বেঁধে ইবাদতে মগ্ন হতেন, সারা রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও জাগিয়ে দিতেন। (সহিহ বুখারি)

আরও পড়ুন: রমজানের শেষ দশক, অধিক গুরুত্বপূর্ণ ৭ আমল

কিন্তু বর্তমান সমাজে অনেকের ক্ষেত্রে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। শেষ দশকে মার্কেটগুলোতে উপচে পড়া ভিড় থাকে। কেনাকাটার ব্যস্ততায় অনেকে নামাজ আদায়েও অবহেলা করেন বা দেরি করে ফেলেন। আবার অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও ফ্যাশনের নামে অতিরিক্ত ব্যয়ও বেড়ে যায়। অথচ পবিত্র কোরআনে অপচয়কারীদের ‘শয়তানের ভাই’ বলা হয়েছে। (সুরা বনি ইসরাইল: ২৬–২৭) একই সঙ্গে ভিড়ভাট্টার পরিবেশে অনেক সময় ইসলামের পর্দার বিধানও উপেক্ষিত হয়, যা ইবাদতের মাসের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বিশিষ্ট আলেমদের মতে, শেষ দশকের প্রতিটি রাতই একজন মুমিনের জন্য অমূল্য সুযোগ। এই সময় ইবাদত, জিকির, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা উচিত। অনেক আলেম শেষ দশকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে- সম্ভব হলে মসজিদে ইতেকাফ করা, রাতে জেগে ইবাদত করা, পরিবারের সদস্যদের ইবাদতে উৎসাহিত করা, বেশি বেশি জিকির ও তাসবিহ পড়া এবং বিজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা। এ সময় শবে কদরের বিশেষ দোয়াও বেশি বেশি পাঠ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। দোয়াটি হলো- ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧَّﻚَ ﻋَﻔُﻮٌّ ﺗُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻌَﻔْﻮَ ﻓَﺎﻋْﻒُ ﻋَﻨِّﻲ উচ্চারণ: ‘আল্লা-হুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী’। অর্থ: ‘হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল। ক্ষমা করাটা আপনার পছন্দ। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (সুনানে তিরমিজি: ৩৫১৩)

আরও পড়ুন: শবে কদরে ৬টি দোয়া করতে ভুলবেন না

ঈদের দিন নতুন বা পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা অবশ্যই সুন্নত। তবে সেই প্রস্তুতির কারণে যেন লাইলাতুল কদরের মতো মহামূল্যবান রাত হাতছাড়া না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। তাই আলেমরা পরামর্শ দেন, সম্ভব হলে ২০ রমজানের আগেই ঈদের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ করা ভালো। এতে শেষ দশকে নির্ভার হয়ে ইবাদত ও আত্মসমালোচনায় সময় দেওয়া সহজ হয়।

নতুন পোশাক আগামী বছরও কেনা যাবে। কিন্তু জীবনের শেষ রমজান যদি এটিই হয়, তবে লাইলাতুল কদরের সেই মহিমান্বিত রাত আর ফিরে আসবে না। তাই মার্কেটের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে সরে এসে রমজানের শেষ দশ দিন আল্লাহর স্মরণ, ইবাদত ও আন্তরিক দোয়ায় কাটানোই একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে।