ধর্ম ডেস্ক
০৪ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
পবিত্র রমজানে রোজার সময়সীমা হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে ঘড়ির ভুল, মেঘলা আকাশ বা ভুল আজান শোনার কারণে অনেক সময় কেউ সূর্যাস্তের আগে ইফতার করে ফেলতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে শরিয়তের বিধান কী- ফিকহের আলোকে তা তুলে ধরা হলো।
হানাফি মাজহাবসহ জুমহুর ফকিহদের মতে, কেউ যদি সূর্যাস্ত হয়ে গেছে মনে করে ভুলবশত ইফতার করে ফেলেন, তাহলে তার ওই দিনের রোজা শুদ্ধ হবে না। কারণ রোজার নির্ধারিত সময় তখনও পূর্ণ হয়নি। যদিও এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল, তবুও রোজাটি বাতিল গণ্য হবে।
এ ক্ষেত্রে শুধু একটি রোজা ‘কাজা’ করা ওয়াজিব। ‘কাফফারা’ (টানা ৬০টি রোজা) দিতে হবে না। কারণ কাফফারা তখনই প্রযোজ্য হয়, যখন কেউ জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে রমজানের রোজা ভঙ্গ করে। ভুলবশত হলে গুনাহ হবে না; তবে কাজা আদায় করতে হবে।
আরও পড়ুন: ইফতার দেরিতে করলে কী হয়
এই মাসআলার পক্ষে প্রামাণ্য দলিল রয়েছে। খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে একদিন কিছু লোক সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করে ফেলেন। পরে জানা যায়, সূর্য তখনও অস্ত যায়নি। তিনি নির্দেশ দেন, যারা ইফতার করেছে তারা একটি রোজা কাজা করবে, আর যারা ইফতার করেনি তারা সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৯১৩৮)
প্রখ্যাত তাবেয়ি আতা ইবন আবি রাবাহ (রহ.)-কেও এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, শুধু কাজা করতে হবে; কাফফারা নয়। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৯১৪৭)
ইফতারের মতো সাহরির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। যদি কেউ রাত আছে মনে করে সাহরি খান, পরে জানা যায় সুবহে সাদিক হয়ে গেছে, তাহলে ওই রোজা শুদ্ধ হবে না; পরে কাজা করতে হবে।
তাবেয়ি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রহ.) একবার এমন ঘটনার পর বলেন, ‘আমি আজ রোজাদার নই’ অর্থাৎ রোজাটি হয়নি, কাজা করতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৬/১৪৯)
আরও পড়ুন: আজান দেয়নি, শুধু ঘড়ি দেখে ইফতার করা কি ঠিক?
যখনই বুঝবেন সময়ের আগে ইফতার হয়েছে বা সাহরির সময় পার হয়ে গেছে, সঙ্গে সঙ্গে পানাহার বন্ধ করতে হবে। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজাদারের মতোই বিরত থাকতে হবে। রমজানের সম্মান রক্ষার্থে এটি আবশ্যক।
ভবিষ্যতে এমন ভুল এড়াতে নির্ভরযোগ্য রমজান ক্যালেন্ডার অনুসরণ করা উচিত। মানুষ হিসেবে ভুল হওয়া স্বাভাবিক। ভুলবশত সময়ের আগে ইফতার হয়ে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং রমজানের পর একটি রোজা কাজা করে নিতে হবে। আল্লাহ তাআলা বান্দার নিয়ত দেখেন এবং অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তিনি ক্ষমাশীল।
(রদ্দুল মুখতার: ৩/৩৭৩); মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৯১৩৮, ৯১৪৭, ৬/১৪৯; ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ১/১৯৪)