images

ইসলাম

অনিচ্ছাকৃত বমিতে রোজা ভাঙে না: ইসলামের সঠিক বিধান

ধর্ম ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে অনেকেরই শারীরিক অসুস্থতা, দুর্বলতা বা গ্যাস্ট্রিকের কারণে বমি হতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, মুখ ভরে বমি হলে রোজা ভেঙে যায় এবং তা কাজা করতে হয়। তবে ইসলামের সঠিক ও বিশুদ্ধ বিধান হলো- অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

অনিচ্ছাকৃত ও ইচ্ছাকৃত বমির পার্থক্য

রোজার অবস্থায় বমির বিধানটি মূলত ধরনের ওপর নির্ভর করে। যদি কোনো রোজাদারের অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয়, তবে তার পরিমাণ অল্প হোক বা মুখভর্তি বেশি- এতে রোজা ভাঙবে না। অনিচ্ছাকৃত বমি হওয়ার পর রোজা ভেঙে গেছে ভেবে খাওয়া-দাওয়া করা একটি বড় ভুল।
পক্ষান্তরে, কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে (যেমন গলায় আঙুল দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে) মুখভর্তি বমি করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে এবং পরবর্তীতে ওই রোজার কাজা আদায় করা ওয়াজিব হবে। তবে ইচ্ছাকৃত বমি যদি সামান্য হয় (মুখভর্তি না হয়), তবে রোজা ভাঙবে না। (উল্লেখ্য, ‘মুখভর্তি বমি’ বলতে এমন পরিমাণকে বোঝায়, যা জবরদস্তি ছাড়া মুখে আটকে রাখা সম্ভব হয় না।)

আরও পড়ুন: কানে পানি ঢুকলে কি রোজার ক্ষতি হয়?

হাদিসের নির্দেশনা

এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) সুষ্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। ইরশাদ করেছেন- ‘যার অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলো, তাকে ওই রোজার কাজা করতে হবে না। কিন্তু যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, তাকে অবশ্যই কাজা করতে হবে।’ (সুনানে তিরমিজি: ৭২০; সুনানে আবু দাউদ: ২৩৮০)

বমির অংশ পুনরায় পেটে গেলে করণীয়

বমি হওয়ার পর যদি ওই বমির কোনো অংশ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে পুনরায় গিলে ফেলে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। তবে যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে বা নিজের অজান্তেই বমির কোনো অংশ আবার পেটে চলে যায়, তবে এতে রোজা ভাঙবে না। বমি হওয়া বা তা অনিচ্ছাকৃতভাবে পেটে ফিরে যাওয়া একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

আরও পড়ুন: যেসব কারণে রোজা ভেঙে দিলে কাফফারা জরুরি নয়

বমি হওয়ার পর ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা

বমি হওয়ার পর রোজা ভাঙেনি নিশ্চিত হওয়ার পর মুখ ভালোভাবে কুলি করে পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত। তবে কুলি করার সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন গলার ভেতরে পানি চলে না যায়। একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে, বমি পরিষ্কার করলে শরীর নাপাক হয়ে যায় না এবং এর ফলে গোসল করাও ফরজ হয় না। কেবল মুখ পরিষ্কার করে নিলেই রোজা অব্যাহত রাখা সম্ভব।

বমি হওয়া একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া। শরিয়তের সহজ বিধান হলো- যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিজে থেকে রোজা ভাঙার কোনো কাজ না করছেন, ততক্ষণ আপনার রোজা সুরক্ষিত। অতএব, বমি হলে আতঙ্কিত হয়ে রোজা ভেঙে ফেলা বা খাওয়া-দাওয়া করা থেকে বিরত থেকে মুখ পরিষ্কার করে রোজা পূর্ণ করাই মুমিনের কাজ।

(রদ্দুল মুখতার: ৩/৩৯২; ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ১/২০৩; হেদায়া: ১/১২১)