images

ইসলাম

জুমার দিনের এক ঘণ্টা: যে সময়ের দোয়া ফেরত যায় না

ধর্ম ডেস্ক

২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২১ পিএম

সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে জুমার দিনকে ইসলামে ‘সায়্যিদুল আইয়াম’ বা দিনসমূহের অধিপতি বলা হয়েছে। এই দিনের অসংখ্য ফজিলতের মধ্যে অন্যতম হলো ‘দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত’। হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, জুমার দিনে এমন একটি সময় আছে, যখন বান্দার কোনো দোয়াই মহান আল্লাহ ফিরিয়ে দেন না।

হাদিসের দলিল

জুমার দিনের এই বিশেষ সময় সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (স.) সুসংবাদ দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) জুমার দিনের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন- ‘এই দিনে এমন একটি সময় আছে, যদি কোনো মুসলিম বান্দা সেই সময়টি পায় এবং নামাজরত অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই তা দান করেন।’ এরপর তিনি হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সেই মুহূর্তটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। (সহিহ বুখারি: ৯৩৫; সহিহ মুসলিম: ৮৫২)

আরও পড়ুন: জুমার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো জানুন

দোয়া কবুলের সেই সময়টি কখন?

দোয়া কবুলের এই বিশেষ সময়টি ঠিক কখন- তা নিয়ে হাদিস বিশারদ ও সলফে সালেহিনদের মাঝে একাধিক মত থাকলেও দুটি সময়কে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে-

প্রথম মত: খুতবা শুরু থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত

আবু বুরদা (রহ.) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, জুমার দিনের দোয়া কবুলের সময় সম্পর্কে আপনি আপনার পিতা আবু মুসা আশআরি (রা.)-এর কাছ থেকে কোনো হাদিস শুনেছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ, শুনেছি। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘সে সময়টি হলো- ইমাম (খুতবার জন্য মিম্বরে) বসার পর থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৯)

দ্বিতীয় মত: আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত

অধিকাংশ গবেষক আলেম ও সলফে সালেহিনদের মতে, জুমার দিনের সেই কাঙ্ক্ষিত সময়টি হলো আছরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘জুমার দিনের বারো ঘন্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে, তখন কোনো মুসলিম আল্লাহর নিকট যা-ই দোয়া করে আল্লাহ তা কবুল করেন। তোমরা এই মুহূর্তটিকে আছরের শেষে অনুসন্ধান কর।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৮)

দুই সময়েই ইবাদত করা উত্তম

ইমাম আবু ওমর ইবনে আবদুল বার (রহ.) বলেন, প্রত্যেক মুসলিমের উচিত কবুলের আশা নিয়ে দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় বিষয়ের জন্য উল্লিখিত দুই সময়েই গুরুত্বের সাথে দোয়া করা। তাহলে ইনশাআল্লাহ তার দোয়া বৃথা যাবে না। (আত-তামহিদ: ১৯/২৪)

উল্লেখ্য, হাদিসে ‘নামাজরত অবস্থায়’ দোয়া করার একটি অর্থ হলো- মাগরিবের নামাজের অপেক্ষায় থাকা। শরিয়তের বিধানমতে, যে ব্যক্তি সওয়াবের আশায় নামাজের অপেক্ষায় থাকে, সে মূলত নামাজেই থাকে।

জুমার দিনের এই মুহূর্তটি মহান আল্লাহর এক অনন্য উপহার। বিশেষ করে চলমান রমজান মাসে এই সময়ের গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। সময়ের সদ্ব্যবহার করে আমরা আমাদের জীবনকে বদলে নিতে পারি। এই সময়টুকু অবহেলা নয়, বরং আমলে ভরিয়ে তোলাই হোক প্রতিটি জুমার অঙ্গীকার।