ঢাকা মেইল ডেস্ক
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামের রেকর্ড উল্লম্ফন এবারের রমজানে জাকাতের হিসাবে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে, যা জাকাতদাতাদের নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত এক বছরে স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে জাকাত ফরজ হওয়ার ‘নিসাব’ বা সম্পদসীমাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো জাকাত। এটি সম্পদের পবিত্রতা ও সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বাধ্যতামূলক দান। বছরের যেকোনো সময় জাকাত আদায় করা গেলেও, অধিক সওয়াবের আশায় অধিকাংশ মুসলিম রমজান মাসকেই বেছে নেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রমজানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল প্রায় ২ হাজার ৯০০ ডলার, যা এখন ৫ হাজার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। স্বর্ণের এই উচ্চমূল্য জাকাতদাতার ওপর দুটি সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
প্রথমত, জাকাত ফরজ হওয়ার সর্বনিম্ন সম্পদসীমা বা নিসাব অনেক বেড়ে গেছে। ৮৫ গ্রাম (৭.৫ তোলা) স্বর্ণের বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী নিসাব দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এটি প্রায় ১৮ লাখ টাকার সমান। গত বছর এই নিসাব ছিল ৮ হাজার ডলারের নিচে। ফলে গত বছর যারা জাকাত দিয়েছিলেন, তাদের অনেকেই এবার নিসাবের নিচে থাকায় জাকাতের আওতামুক্ত হতে পারেন।
আরও পড়ুন
দ্বিতীয়ত, যাদের কাছে স্বর্ণ গচ্ছিত রয়েছে, বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী তাদের প্রদেয় জাকাতের আর্থিক পরিমাণও বেড়েছে।
জাকাত একটি ফরজ ইবাদত। এটি বছরে একবার নিসাব পরিমাণ সম্পদের ওপর ২.৫ শতাংশ (৪০ ভাগের ১ ভাগ) হারে দিতে হয়। অন্যদিকে সদকা হলো স্বেচ্ছামূলক দান। এটি যেকোনো সময় যেকোনো পরিমাণে দেওয়া সম্ভব।
জাকাত হিসাব করতে হয় স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী, কেনার সময়ের মূল্যে নয়। হিসাবের সুবিধার্থে নিচের মানদণ্ডগুলো খেয়াল রাখা জরুরি-
১. বিশুদ্ধ ওজন (২৪ ক্যারেট): (মোট স্বর্ণের ওজন × ক্যারেট) ÷ ২৪
২. বাজারমূল্য: বিশুদ্ধ ওজন (গ্রাম) × ১৬৪ ডলার (প্রতি গ্রাম মূল্য)
৩. প্রদেয় জাকাত: মোট বাজারমূল্য × ২.৫%
উদাহরণ: কারো কাছে যদি ৪০ গ্রাম ওজনের ১৮ ক্যারেটের একটি অলঙ্কার থাকে, তবে তার বিশুদ্ধ স্বর্ণের ওজন হবে ৩০ গ্রাম। বর্তমান বাজারদরে এর মূল্য হবে প্রায় ৪,৯২০ ডলার। যদি এটিই কারো একমাত্র সঞ্চয় হয়, তবে তিনি নিসাব (১৫,০০০ ডলার) পূর্ণ না হওয়ায় জাকাতের আওতাভুক্ত হবেন না।
জাকাত কেবল নগদ অর্থ বা স্বর্ণে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সঞ্চয়, ব্যবসায়িক পণ্য, বিনিয়োগ, কৃষিজ পণ্য ও গবাদিপশুর ওপরও প্রযোজ্য। তবে ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি, বসতবাড়ি বা প্রয়োজনীয় পোশাক-আসবাবপত্রের ওপর জাকাত নেই।
পবিত্র কোরআন অনুযায়ী জাকাত পাওয়ার আটটি খাতের মধ্যে দরিদ্র, ঋণগ্রস্ত ও মুসাফিররা অন্তর্ভুক্ত। তবে নিজ পরিবারের সদস্য- যাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব জাকাতদাতার ওপর থাকে (যেমন: মা-বাবা, সন্তান বা স্ত্রী/স্বামী) তাদের জাকাত দেওয়া যাবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক হিসাব ও সচেতনতার মাধ্যমে জাকাত আদায় করলে তা শুধু ইবাদতই নয়, সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএইচআর