images

ইসলাম

রোজার মাসে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোরআন শিক্ষার বিশেষ কোর্স

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কুরআন বিশুদ্ধকরণ ও জরুরি দ্বীনি মাসায়েল শিক্ষা দিতে চালু হয়েছে মাসব্যাপী ফ্রী কুরআন শিক্ষা কোর্স। রাজধানী ছাড়াও জেলা-উপজেলা, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও গ্রামাঞ্চলের মসজিদেও চলছে তাজবীদসহ সহীহ তিলাওয়াত শেখানোর আয়োজন। আয়োজকরা বলছেন, রমজান কোরআন নাজিলের মাস হওয়ায় এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ শুদ্ধভাবে কোরআন শেখার প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে।

রাজধানীতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে মাসব্যাপী কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ফজরের পর এবং আসরের পর আলাদা ব্যাচে শিশু, তরুণ ও বয়স্কদের তিলাওয়াত শুদ্ধকরণ, মাখরাজ চর্চা এবং নামাজের মাসায়েল শেখানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সারা বছর সময়ের অভাবে যারা শিখতে পারেন না, তারা রমজানে বিশেষভাবে অংশ নিচ্ছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদেও স্থানীয় ইমাম ও খতিবদের উদ্যোগে বিনামূল্যে কোরআন শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। অনেক জায়গায় মুসল্লিদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুদানেই এসব কার্যক্রম চলছে। 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘কোরআন শিক্ষা’  
বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও রয়েছে ব্যাপক সাড়া। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শিক্ষার্থীসহ সবার জন্য মাসব্যাপী কোরআন শিক্ষাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রতিদিন আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত ক্লাস অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, ব্যস্ত একাডেমিক জীবনের মাঝেও এমন উদ্যোগ তাদের আত্মিক প্রশান্তি দিচ্ছে।

এদিকে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ফ্রি নুরানী তাজবিদসহ সহীহ কোরআন শিক্ষা’ কার্যক্রমের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাকিরুল ইসলাম। কোর্সটি পরিচালনা করছেন সংশ্লিষ্ট হলের ইমাম ও খতিব হাফেজ কারী মাওলানা মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাকিরুল ইসলাম জানান, ‘পবিত্র কোরআন আমাদের পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান ও হেদায়েতের পথপ্রদর্শক। এই মহিমান্বিত রমজান মাসে আত্মশুদ্ধি অর্জন ও আমলের মান বৃদ্ধির জন্যই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াত শেখার এই সুযোগ কাজে লাগাতে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সাধারণ শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা আয়োজন দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সহীহ কোরআন ও নামাজ শিক্ষা কোর্স চালু হয়েছে। অনেক জায়গায় সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সহজ পদ্ধতিতে কায়দা, আমপারা ও তাজবীদ শেখানো হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, ছোট বয়স থেকেই শুদ্ধ তিলাওয়াত শেখানো গেলে ভবিষ্যতে ভুলের সম্ভাবনা কমে যাবে।

স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা আয়োজন দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সহীহ কোরআন ও নামাজ শিক্ষা কোর্স চালু হয়েছে। অনেক জায়গায় জেনারেল শিক্ষাব্যবস্থার শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে সহজ পদ্ধতিতে কায়দা, আমপারা ও তাজবীদ শেখানো হচ্ছে। আয়োজকদের দাবি, ছোট বয়স থেকেই শুদ্ধ তিলাওয়াত শেখানো গেলে ভবিষ্যতে ভুলের সম্ভাবনা কমে যাবে।

পাড়ায় পাড়ায় 'কোরআন শিক্ষা' 
রমজানে সবচেয়ে বড় কর্মযজ্ঞ দেখা যায় স্থানীয় মসজিদগুলোতে। বিশেষ করে ফজরের নামাজের পর এবং জোহরের নামাজের পর মসজিদগুলোতে শিশু ও বয়স্কদের জন্য পৃথক পৃথক ব্যাচে কোরআন শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কেন্দ্রীয় মসজিদগুলোতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে মাসব্যাপী ফ্রি কোরআন শিক্ষা কোর্স চালু হয়েছে। অনেক মসজিদে স্থানীয় ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই কোর্সগুলো পরিচালনা করেন। 

এদিকে সিলেটের কুশিঘাট এলাকার বুরহানাবাদে জামিয়া ইসলামীয়া দারুল হাদিস শাহ গাজী সৈয়দ বুরহান উদ্দিন (র.) মাদ্রাসা-এও রমজানব্যাপী কুরআন প্রশিক্ষণ কোর্স শুরু হয়েছে। আঞ্জুমানে তাহসীনুল কুরআন বাংলাদেশের উদ্যোগে আউয়াল থেকে সনদ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে প্রশিক্ষণের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে পহেলা রমজান থেকে ২৩ রমজান পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস নেওয়া হবে। শেষে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থাও রয়েছে। 

হিজড়া সম্প্রদায়ের 'কোরআন শিক্ষা' 
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতেও রমজান উপলক্ষে বিশেষ কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা। স্থানীয় উদ্যোগে তাদের জন্য আলাদা ব্যাচে সহীহ তিলাওয়াত ও নামাজ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্মীয় শিক্ষায় সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

অনলাইনে ‘কোরআন শিক্ষা’  
অনলাইনেও বাড়ছে কোরআন শিক্ষা কোর্সের পরিসর। বিভিন্ন ইসলামিক শিক্ষাপ্ল্যাটফর্ম লাইভ ক্লাসের পাশাপাশি রেকর্ডেড ক্লাসের সুবিধা দিচ্ছে। প্রবাসীদের কথা বিবেচনায় রেখে সময় নির্ধারণ করা হচ্ছে। তিলাওয়াত, তাজবীদ, কোরআনের অর্থ ও প্রয়োজনীয় মাসায়েল শেখার সুযোগ থাকায় কর্মজীবী মানুষও ঘরে বসে অংশ নিতে পারছেন।

কোর্সগুলোর সাধারণ পাঠ্যক্রমে থাকছে হরফ ও মাখরাজ শুদ্ধকরণ, সহীহ তিলাওয়াত, নামাজের শুদ্ধতা, জরুরি মাসায়েল, মৌলিক আকিদা ও নৈতিকতা শিক্ষা। কোথাও কোথাও কোরআনের অর্থ ও তাফসির নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

আয়োজক ও আলেমদের মতে, রমজান কোরআন নাজিলের মাস। এ মাসে নেক আমলের সওয়াব বৃদ্ধি পায়। তাই মানুষ এ সময়টাকে কাজে লাগিয়ে কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে আগ্রহী হয়। এই উদ্যোগগুলো সমাজে নৈতিকতা চর্চা বাড়াতে এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক পথে রাখতে সহায়ক হবে।

ইসলামিক স্কলারদের মতে, রমজান হলো কোরআনের বসন্তকাল। এই মাসে একটি নেক আমলের সওয়াব সত্তর গুণ বৃদ্ধি পায়। তাই সাধারণ মানুষ এই মাসেই কোরআন শেখার প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী থাকেন।

এএইচ/