ধর্ম ডেস্ক
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নিম্নআয়ের ৫০ হাজার রোজাদারের মাঝে খাদ্যসহায়তা বিতরণের বিশাল এক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সেবাধর্মী সংগঠন আল-মারকাজুল ইসলামী (এএমআই)। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর সাহরি ও ইফতারের কষ্ট লাঘব করাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় এই ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর ও লালমনিরহাট, কক্সবাজারের আলীকদম ও পোয়ামুহূরী, খুলনার উপকূলীয় দাকোপ, বরিশালের বাবুগঞ্জ এবং শরীয়তপুর জেলার চরাঞ্চলের বেদে পল্লীসহ বিভিন্ন এলাকা।
কর্মসূচি সম্পর্কে সংগঠনের চেয়ারম্যান শায়খ হামজা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান চাপে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। রমজানে কোনো পরিবার যেন সাহরি ও ইফতারে অনাহারে বা কষ্টে না থাকে, সেই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। গত ৩৮ বছর ধরে আল-মারকাজুল ইসলামী মানবসেবায় কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রতিবারের মতো এবারও আমরা রোজাদারদের পাশে দাঁড়িয়েছি।’
আরও পড়ুন: ভ্রাতৃত্বের দস্তরখান: ২৩৩ টন ইফতার নিয়ে দেশজুড়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
সংগঠনটি জানায়, বিতরণকৃত প্রতিটি খাদ্যপ্যাকেট এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে একটি পরিবারের পুরো মাসের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়। প্রতিটি প্যাকেটে রয়েছে ২৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ৫ কেজি পেঁয়াজ, ৫ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি চিনি, ১ কেজি ছোলা ও ২ কেজি মুড়ি।
সহায়তা কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা সরাসরি বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত অভাবীদের তালিকা প্রণয়ন করছেন এবং তাদের হাতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। এ বিষয়ে সংগঠনের ফান্ড রেইজিং অফিসার জানান, একটি খাদ্যপ্যাকেট হয়তো একটি পরিবারের জন্য সামান্য কিছু দিনের সহায়তা, কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের দোয়া ও কৃতজ্ঞতা।
আল-মারকাজুল ইসলামী এই মানবিক কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত করতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে। আর্তমানবতার সেবায় রমজানের সহমর্মিতার এই বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে বিত্তবানদের অংশগ্রহণ জরুরি বলে মনে করে সংগঠনটি।