images

ইসলাম

কানে পানি ঢুকলে কি রোজার ক্ষতি হয়?

ধর্ম ডেস্ক

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম

রোজা অবস্থায় অজু বা গোসল করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত কানে পানি ঢুকে গেলে কি রোজা নষ্ট হয়ে যায়? অনেকের মধ্যেই এ ধরনের প্রশ্ন ও সংশয় দেখা যায়। এমনকি কেউ কেউ মনে করেন, কানের ভেতর পানি প্রবেশ করলে রোজা ভেঙে যায়। এ বিষয়ে ফিকহবিদদের নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো।

কানে পানি প্রবেশ ও রোজার বিধান

ফতোয়ার নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী, রোজা অবস্থায় কানে পানি ঢুকলে রোজা ভাঙে না। এমনকি কেউ যদি কানের ভেতর পানি পরিষ্কার করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে পানি দেয়, তবুও রোজা নষ্ট হবে না।

এর কারণ হলো- কান থেকে পাকস্থলী বা মগজ পর্যন্ত পানি পৌঁছানোর সরাসরি কোনো সুড়ঙ্গ বা পথ নেই। শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, রোজা ভঙ্গের জন্য কোনো বস্তু মুখ বা নাকের মতো স্বাভাবিক প্রবেশপথ দিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছানো শর্ত। যেহেতু কানে পানি গেলে তা পাকস্থলীতে পৌঁছে না, তাই এতে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। সুতরাং গোসলের সময় কানে পানি ঢুকে গেলে রোজা সহিহ থাকবে; কাজা বা কাফফারা কিছুই ওয়াজিব হবে না।

আরও পড়ুন: অজুর পানি গলায় গেলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

রোজা অবস্থায় যেসব কাজে রোজা ভাঙে না

দ্বীনি জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকেই অনেক বৈধ কাজকে রোজা ভঙ্গের কারণ মনে করে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। অথচ শরিয়তের দৃষ্টিতে নিম্নোক্ত কাজগুলো রোজা নষ্ট করে না-
১. ভুলে পানাহার করা: রোজা আছে—একথা ভুলে গিয়ে কিছু খেয়ে ফেললে বা পান করলে রোজা ভাঙে না। মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানাহার ছেড়ে দিতে হবে।
২. সুগন্ধি ব্যবহার: আতর, সেন্ট বা যেকোনো সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং ফুলের ঘ্রাণ নেওয়া বৈধ।
৩. থুতু বা কফ গিলে ফেলা: স্বাভাবিকভাবে মুখের ভেতর আসা থুতু বা কফ গিলে ফেললে রোজা নষ্ট হয় না।
৪. তেল বা লোশন ব্যবহার: শরীর বা মাথায় তেল, লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা।
৫. একাধিকবার গোসল করা: গরম বা ক্লান্তি দূর করতে একাধিকবার গোসল করা।
৬. স্বপ্নদোষ হওয়া: ঘুমের মধ্যে অনিচ্ছাকৃত স্বপ্নদোষ হলে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।
৭. মিসওয়াক করা: রোজা অবস্থায় যেকোনো সময় কাঁচা বা শুকনো কাষ্ঠ দিয়ে মিসওয়াক করা জায়েজ। তবে মাজন বা টুথপেস্ট ব্যবহার করা মাকরুহ।
৮. অনিচ্ছাকৃত বমি: যদি নিজে থেকে বমি আসে, তবে তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি—রোজা ভাঙবে না। (তবে ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করলে রোজা ভেঙে যায়)।
৯. চোখে সুরমা বা ড্রপ: চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করলে তার স্বাদ গলায় অনুভূত হলেও রোজা নষ্ট হয় না।
১০. ইনজেকশন গ্রহণ: চিকিৎসার প্রয়োজনে সাধারণ ইনজেকশন বা ইনসুলিন নিলে রোজা ভাঙে না। তবে গ্লুকোজ বা পুষ্টিবর্ধক ইনজেকশন পরিহার করা উচিত।

আরও পড়ুন: নাকের শ্লেষ্মা বারবার গলায় চলে গেলে রোজা ভাঙে?

সচেতনতা ও আমল

রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই কোনো বিষয়ে সন্দেহ পোষণ না করে নির্ভরযোগ্য আলেম বা প্রামাণ্য কিতাবের আলোকে সঠিক মাসআলা জেনে নেওয়া জরুরি। অহেতুক সংশয় বা দুশ্চিন্তার কারণে ইবাদতের একাগ্রতা নষ্ট করা উচিত নয়।

(তথ্যসূত্র: আল-মুহিতুল বুরহানি: ৩/৩৪৭; আদ্দুররুল মুখতার: ২/৩৯৬; আল-বাহরুর রায়েক: ২/২৭৮-২৭৯; হিন্দিয়া: ১/২০৪; ফিকহুন নাওয়াযিল: ২/২৯৭)