ধর্ম ডেস্ক
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
তাকদির বা ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি ও ঈমানের অপরিহার্য শর্ত। জীবনের প্রতিটি মোড়ে যখন আমাদের পরিকল্পনাগুলো ব্যর্থ হয় কিংবা আমরা কোনো না-পাওয়ার বেদনায় দগ্ধ হই, তখন তাকদিরে বিশ্বাসই আমাদের মনে প্রশান্তির সুবাতাস বইয়ে দেয়।
তাকদিরে বিশ্বাস ছাড়া কোনো ব্যক্তির ঈমান পূর্ণতা পায় না। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকায় আমরা অনেক সময় খেই হারিয়ে ফেলি এবং মনের বিপরীত কিছু ঘটলে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করি। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কোনো বান্দা মুমিন হতে পারবে না যে পর্যন্ত না সে তাকদির ও তার ভালো-মন্দের ওপর ঈমান আনবে।’ এমনকি তার এই নিশ্চিত বিশ্বাস থাকতে হবে যে, যা কিছু ঘটেছে তা কিছুতেই অঘটিত থাকত না এবং যা কিছু ঘটেনি তা কখনো তাকে স্পর্শ করবে না। (জামে তিরমিজি: ২১৪৪)
মানুষের জ্ঞান সীমাবদ্ধ, আমরা কেবল বর্তমানের বাহ্যিক রূপ দেখি। কিন্তু আল্লাহ তাআলা অসীম প্রজ্ঞার অধিকারী। অনেক সময় আমরা যা খুব করে চাই, তা আমাদের জন্য অকল্যাণকর হতে পারে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- ‘এটা খুবই সম্ভব যে তোমরা একটা জিনিসকে মন্দ মনে করো, অথচ তোমাদের পক্ষে তা মঙ্গলজনক। আর এটাও সম্ভব যে তোমরা একটা জিনিসকে পছন্দ করো, অথচ তোমাদের পক্ষে তা মন্দ। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।’ (সুরা বাকারা: ২১৬)
আরও পড়ুন: আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি সন্তুষ্টির ৫ মহা সুফল
আল্লাহর ওপর ভরসা করলে তিনি এর চেয়েও উত্তম বিনিময় দান করেন। উম্মে সালামা (রা.)-এর জীবন থেকে আমরা এক মহান শিক্ষা পাই। রাসুলুল্লাহ (স.) শিখিয়েছেন, কোনো মুসিবত এলে ‘ইন্না লিল্লাহ’ পড়ার পর যদি এই দোয়া করা হয়- ‘হে আল্লাহ! আমাকে আমার মুসিবতে সওয়াব দান করো এবং এর বিনিময়ে এর চেয়ে উত্তম বস্তু দান করো’, তবে আল্লাহ তাকে উত্তম কিছু দান করেন।
আবু সালামা (রা.)-এর মৃত্যুর পর উম্মে সালামা (রা.) বিষণ্ণ হৃদয়ে এই দোয়া করেছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন আবু সালামার চেয়ে উত্তম আর কে হতে পারে? কিন্তু আল্লাহ তাঁর সর্বোত্তম পরিকল্পনায় উম্মে সালামার (রা.) জন্য স্বয়ং বিশ্বনবী (স.)-কে স্বামী হিসেবে কবুল করেছিলেন। (সহিহ মুসলিম: ২০১)
আল্লাহর ফায়সালাকে হাসিমুখে মেনে নেওয়াই হলো মুমিনের সৌভাগ্য। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘আদম-সন্তানের জন্য আল্লাহ যা ফায়সালা করে রেখেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকাই হলো তার সৌভাগ্য। আর আল্লাহর ফায়সালার ওপর নাখোশ হওয়া তার দুর্ভাগ্য।’ (জামে তিরমিজি: ২১৫১)
আমরা যত নিখুঁত পরিকল্পনাই করি না কেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার জন্য তার চেয়েও বেশি উত্তম পরিকল্পনা করে থাকেন।
আরও পড়ুন: আল্লাহ কারো কল্যাণ চাইলে তা প্রতিরোধ করার শক্তি কারো নেই
মুমিন যখন আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর ধৈর্য ধারণ করে, তখন তার সামান্য কষ্টও বৃথা যায় না। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কোনো ঈমানদার ব্যক্তির শরীরে একটি মাত্র কাঁটার আঘাত কিংবা তার চেয়েও কোনো নগণ্য আঘাত লাগলে আল্লাহ তাআলা তার একটি মর্যাদা বাড়িয়ে দেন কিংবা তার একটি পাপ মোচন করে দেন।’ (সহিহ মুসলিম: ৬৪৫৬)
মানুষের পরিকল্পনা মাঝপথে থেমে যেতে পারে, কিন্তু আল্লাহর সর্বোত্তম পরিকল্পনা কখনও ব্যর্থ হয় না। ধৈর্য, তাওয়াক্কুল ও শুকরিয়ার মাধ্যমেই তাকদিরে বিশ্বাসের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায়। যা পাওয়া যায়নি, তা আমার জন্য কল্যাণকর ছিল না- এই বিশ্বাস রাখতে পারলেই জীবন হয়ে ওঠে শান্তিময়।