ধর্ম ডেস্ক
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
ইফতারের পূর্ব মুহূর্তটি এক বিশেষ মহিমায় ভাস্বর। সারাদিন ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্থ থাকার পরও কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পানাহার থেকে বিরত থাকার এই ধৈর্য ও আনুগত্যের প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ তাআলা রোজাদারের দোয়া কবুল করেন। ইফতারের সময়টি কেবল পেট ভরার উৎসব নয়, বরং এটি ক্ষমা লাভ, জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সোপান।
ইফতারের সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য বিশেষ রহমতের দুয়ার খুলে দেওয়া হয়। রোজাদারের এই বিশেষ অবস্থার কারণেই তখন দোয়া রদ করা হয় না। হজরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক দিন ইফতারের সময় অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তি দেন। আর প্রতি রাতেই তা সংঘটিত হয়ে থাকে।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৬৪৩)
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া রদ হয় না: ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ, সাওম পালনকারী- যতক্ষণ না সে ইফতার করে এবং মজলুমের দোয়া।’ (তিরমিজি: ৩৫৯৮, ইবনে মাজাহ: ১৭৫২)
আরও পড়ুন: শবে বরাতের রোজা কয়টি
ইফতারের আগের সময়টি দোয়া ও ইস্তেগফারের জন্য সর্বোত্তম। এ সময় কাজের ফাঁকে ফাঁকে জিকির ও দরুদ পাঠ করা সওয়াব বৃদ্ধির অন্যতম মাধ্যম। ইফতারের আগমুহূর্তে এই দোয়াটি পাঠ করা যায়- ‘ইয়া ওয়াসিআল মাগফিরাহতি ইগফিরলী’ (হে অবারিত ক্ষমার অধিকারী! আমাকে ক্ষমা করুন)। (শুয়াবুল ইমান: ৩৬২০)
এই ইস্তেগফার পাঠ করাও অত্যন্ত ফলদায়ক- ‘আস্তগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি’। (আবু দাউদ: ১৫১৭, তিরমিজি: ৩৫৭৭)
ইফতার গ্রহণের সময় নবীজি (স.) নির্দিষ্ট দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতেন। ইফতারের শুরুতে বলতেন- ‘আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু’ (হে আল্লাহ! আমি তোমার জন্য রোজা রেখেছি এবং তোমারই রিজিক দ্বারা ইফতার করছি)। (আবু দাউদ: ২৩৫৮)
ইফতারের পর এই দোয়াটি পড়তেন- ‘জাহাবাজ জামাউ ওয়াব তাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশা-আল্লাহু’ (পিপাসা দূর হলো, শিরা-উপশিরা সিক্ত হলো এবং ইনশাআল্লাহ সওয়াব নির্ধারিত হলো)। (আবু দাউদ: ২৩৫৭)
আরও পড়ুন: শবে বরাতে প্রচলিত ৩ বিদআত: মা-বোনদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
ইফতার হিসেবে খেজুর ও পানি খাওয়া সুন্নাহসম্মত এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নবী কারিম (স.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যদি ইফতার করে, তবে সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। এতে বরকত আছে। কেউ যদি তা না পায়, তবে সে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কেননা পানি অতি পবিত্র।’ (তিরমিজি: ৬৯৫, আবু দাউদ: ২৩৪৭)
ইফতারের বরকতময় মুহূর্তগুলোতে দালিলিক দোয়া ও আমলগুলো পালনের মাধ্যমে আমরা যেমন আধ্যাত্মিক প্রশান্তি লাভ করতে পারি এবং রোজার প্রকৃত শিক্ষা সমাজে ছড়িয়ে দিতে পারি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইফতারের মুহূর্ত সঠিকভাবে কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।