images

ইসলাম

শবে বরাতে আপনার ইবাদত কবুল হওয়ার ৭ লক্ষণ

ধর্ম ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম

শবে বরাত বা ক্ষমার রাতে ইবাদত শেষে মুমিনের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন জাগে- আমার আমল কি আল্লাহর দরবারে কবুল হলো? ইবাদত কবুল হওয়া একান্তই আল্লাহর ইচ্ছা। তবে কোরআন, হাদিস ও নেককার মনীষীদের বক্তব্যের আলোকে এর কিছু ইতিবাচক আলামত বা লক্ষণ রয়েছে। আপনার ইবাদত কবুল হওয়ার ৭টি দালিলিক লক্ষণ নিচে তুলে ধরা হলো।

১. অন্তরে প্রশান্তি

ইবাদত শেষে মনের ভেতর এক ধরনের অনাবিল প্রশান্তি অনুভব করা কবুলিয়াতের বড় লক্ষণ। এটি জাগতিক আনন্দের চেয়ে ভিন্ন। আল্লাহ বলেন, ‘যারা ঈমান আনে এবং আল্লাহর স্মরণে যাদের চিত্ত প্রশান্ত হয়, জেনে রেখো, আল্লাহর স্মরণেই চিত্ত প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রাদ: ২৮)

২. গুনাহের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি

ইবাদতের পর যদি পাপের প্রতি মনে ঘৃণা জন্মায় এবং সহজেই গুনাহ এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়, তবে বুঝবেন আপনার তওবা গৃহীত হয়েছে এবং আমল কবুল হয়েছে। ‘নিশ্চয়ই নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আনকাবুত: ৪৫)

আরও পড়ুন: পরকালে যাদের দোষত্রুটি আড়াল করে দেওয়া হবে

৩. নেক আমলের ধারাবাহিকতা

একটি আমল করার পর পরবর্তী নেক আমলের সুযোগ পাওয়া প্রথম আমলটি কবুল হওয়ার লক্ষণ। নবীজি (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহর নিকট প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।’ (বুখারি: ৬৪৬৪)

৪. বিনয় ও অহংকারশূন্যতা

ইবাদতের পর গর্ব না হওয়া বরং নিজের দীনতা ও আল্লাহর রহমতের ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া কবুলিয়াতের আলামত। নবীজি (স.) বলেছেন, ‘তোমরা ঠিকভাবে নিষ্ঠাসহ কাজ করে নৈকট্য লাভ করো। জেনে রেখ, তোমাদের কাউকে তার আমল জান্নাতে প্রবেশ করাবে না’ (বুখারি: ৬৪৬৩) অর্থাৎ, আমল শেষে নিজেকে বড় ভাবার অবকাশ নেই।

৫. অপ্রত্যাশিত বরকত ও সম্মান

আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা আমল কবুল হলে জীবনে বরকত আসে এবং মানুষের হৃদয়ে আপনার জন্য সম্মান তৈরি হয়। ‘যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, আল্লাহ তাদের জন্য সমাধানের পথ তৈরি করেন।’ (সুরা তালাক: ২-৩) এটি বান্দার প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ।

আরও পড়ুন: সারাদিন ৬ জিকিরের অবিশ্বাস্য ফজিলত

৬. বিপদে ধৈর্য ও শুকরিয়া

যেকোনো মুসিবতে ঘাবড়ে না গিয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং ‘ইন্না লিল্লাহ...’ পাঠের শক্তি পাওয়া আমল কবুল হওয়ার একটি চিহ্ন। ‘নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করব... তবে ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫-১৫৬)

৭. সুন্দর জীবনের পথে অগ্রযাত্রা

নেককার মনীষীদের মতে, যার আমল কবুল হয়, আল্লাহ তাকে উত্তম মৃত্যুর পথ সহজ করে দেন। নবীজি (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা যদি তার কোনো বান্দার কল্যাণ করার ইচ্ছা করেন তাহলে তাকে কাজ করার তাওফিক প্রদান করেন। প্রশ্ন করা হলো- হে আল্লাহর রাসুল! তিনি কিভাবে তাকে কাজ করার তাওফিক দেন? তিনি বললেন- তিনি সেই বান্দাকে মারা যাবার আগে সৎকাজের সুযোগ দান করেন।’ (তিরমিজি: ২১৪২)

কবুলের নিশ্চয়তা পেতে ৩টি করণীয়

১. গোপন দান: ইবাদত শেষে গোপনে কিছু সদকা দিন। এটি আল্লাহর ক্রোধ নিভিয়ে দেয়। (তাবারানি)

২. দোয়া করা: নিয়মিত পড়ুন- ‘রব্বানা তাকাব্বাল মিন্না, ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলিম’।

৩. পরের জন্য দোয়া: অন্য মুসলিম ভাইয়ের জন্য দোয়া করুন। এতে ফেরেশতারা আপনার জন্য অনুরূপ দোয়া করে। (মুসলিম: ২৭৩২)

মূলকথা, শবে বরাতের ইবাদত কবুলের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো- আপনার ঈমান, আমল ও চরিত্রের ধারাবাহিক উন্নতি। ইবাদতের পর যদি আপনি আগের চেয়ে শান্ত ও বিনয়ী হন, তবে জানবেন আপনি আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত হয়েছেন।