ধর্ম ডেস্ক
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা ‘এপস্টেইন ফাইল’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি এই কেলেঙ্কারিকে কেবল একটি অপরাধ হিসেবে নয়, বরং আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার নৈতিক পতনের একটি ‘বীভৎস আয়না’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, মানবাধিকার, নারী স্বাধীনতা ও উদারনীতির দাবিদার পশ্চিমা বিশ্ব আসলে কতটা গভীর নৈতিক অধঃপতনের মধ্যে নিমজ্জিত, এই ফাইল তার এক মর্মন্তুদ দলিল। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ তার লেখায় উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রনায়ক, শিল্পপতি, ক্রীড়া ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে সংস্কৃতির নামকরা মুখগুলো- যাদের অনেকে সম্মান ও অনুসরণ করে, তারা শিশু পাচার, যৌন নির্যাতন এমনকি মানবমাংস ভক্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে জড়িত ছিল। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ভয়হীন সমাজ যত ঝকঝকে তকতকে হোক, সুযোগ থাকলে ভোগবাদী মানুষ ধীরে ধীরে কোন স্তরে পৌঁছাতে পারে, এই ঘটনা তারই চাক্ষুষ প্রমাণ।’
আরও পড়ুন: মানবসভ্যতা টিকিয়ে রাখতে পরিবারব্যবস্থার বিকল্প নেই: শায়খ আহমাদুল্লাহ
এপস্টেইন ফাইলের মতো গুরুতর ঘটনায় দেশের তথাকথিত সুশীল সমাজের নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর কারো ব্যক্তিগত বা বিচ্ছিন্ন কিছু পেলে সেটা পুরো সমাজের বিরুদ্ধে অস্ত্র বানিয়ে তুলকালাম কাণ্ড শুরু করা তথাকথিত সুশীলদের দেখবেন, এরকম গুরুতর ঘটনায়ও একেবারে নিশ্চুপ। এমন দ্বিমুখী আচরণে বারবার তাদের আসল রূপ উন্মোচিত হয়।’
এপস্টেইন কেলেঙ্কারিকে স্রেফ ব্যক্তিগত বিকৃত মানসিকতা বলতে নারাজ শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি একে ‘সুসংগঠিত শয়তানতুষ্টির প্রচেষ্টা’ বা স্যাটানিক রিচুয়াল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক মানুষ একত্রে ও ধারাবাহিকভাবে এমন জঘন্য পাশবিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে, একে কেবল মানসিক বিকৃতি বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। এতে শয়তানি উপাসনা ও আরাধনার এক সুসংগঠিত রূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন- পশ্চিমারা সুকৌশলে মুসলমানদের ঈমান-আমল ও দ্বীনি আচার-অনুষ্ঠান নিয়ে উপহাস করে আধ্যাত্মিক শক্তি দুর্বল করেছে, অথচ তারা নিজেরা পর্দার আড়ালে তাদের ‘স্যাটানিক রিচুয়ালিটি’ ঠিকই বজায় রেখে চলেছে।
আরও পড়ুন: তরুণ-তরুণী ও অভিভাবকদের উদ্দেশে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
পশ্চিমা সংস্কৃতি ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে চরম ভোগবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, এর ফলেই পারিবারিক বন্ধন ও লজ্জা-সম্মানবোধের অবলুপ্তি ঘটেছে। এর বিপরীতে ইসলাম মানুষকে প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত করে বিবেক, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতির মাধ্যমে একটি সুস্থ সমাজ গঠনের শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, ‘ইসলামে নারী সম্মানিত, শিশু সুরক্ষিত এবং পরিবার একটি পবিত্র দুর্গ।’
প্রতিবেদনের শেষ পর্যায়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ বর্তমান বিশ্বের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, আমরা কোন সংস্কৃতি বেছে নেব- যেখানে ভোগই শেষ কথা, নাকি যেখানে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতা প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে? তিনি মানুষকে শয়তানি রিচুয়াল বর্জন করে মহান আল্লাহর সাথে পবিত্র সম্পর্ক গভীর করার পথে হাঁটার আহ্বান জানান।
শায়খ আহমাদুল্লাহর এই বিশ্লেষণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই তার এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে পশ্চিমা সভ্যতার নৈতিক অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।