ধর্ম ডেস্ক
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৩ পিএম
মানুষ হিসেবে আমরা ভুলের ঊর্ধ্বে নই। নফস ও শয়তানের প্ররোচনায় প্রতিনিয়ত আমাদের দ্বারা গুনাহ হয়ে যায়। কিন্তু একজন মুমিন সবসময় চায় গুনাহমুক্ত পবিত্র জীবন গড়তে এবং শয়তানের ধোঁকা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে। রাসুলুল্লাহ (স.) উম্মতকে এমন একটি সহজ অথচ অত্যন্ত শক্তিশালী আমল শিখিয়েছেন, যা ফজরের নামাজের পর মাত্র ১০ বার পাঠ করলে সারাদিন শয়তানের অনিষ্ট ও গুনাহ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়।
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, এই দোয়াটি পাঠ করলে শয়তানের যাবতীয় প্রবঞ্চনা থেকে পাঠকারীকে বাঁচিয়ে রাখা হয় এবং সারাদিন কোনো গুনাহ তার কাছে ঘেঁষতে পারে না।
দোয়াটি হলো- لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।’ (তিরমিজি: ৩৪৭৪)
অর্থ: ‘একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তাঁর কোনো শরিক নেই। সর্বরাজত্ব তাঁরই। সমস্ত প্রশংসাও তাঁর। তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু দান করেন। আর তিনিই সবকিছুর ওপর সর্বশক্তিমান।’
আরও পড়ুন: যে দোয়া পড়লে জীবনে শান্তি নেমে আসে
হজরত আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের পর, (নামাজের বৈঠকে) হাঁটু মোড়া অবস্থাতেই কারো সঙ্গে কথা বলার আগে দোয়াটি ১০ বার পড়বে, তার জন্য নিম্নোক্ত পুরস্কারগুলো নির্ধারিত হবে-
১. তার আমলনামায় ১০টি পুণ্য লেখা হবে।
২. তার ১০টি গুনাহ মাফ করা হবে।
৩. তার ১০টি মর্যাদা বুলন্দ করা হবে।
৪. পুরোটা দিন সে সবরকম অপ্রীতিকর বিষয় থেকে সুরক্ষিত থাকবে।
৫. শয়তানের অনিষ্ট থেকে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হবে।
৬. এবং সেদিন আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা ছাড়া আর কোনো গুনাহ তার কাছে ঘেঁষতে পারবে না।’ (তিরমিজি: ৩৪৭৪)
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ফজরের নামাজের পর, কারো সঙ্গে কথা বলার আগে প্রতিদিন ১০ বার এই দোয়াটি পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।