ধর্ম ডেস্ক
০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম
থার্টি ফার্স্ট নাইট বা ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন ঘিরে আতশবাজির বিকট শব্দ এবং ফানুস ওড়ানোর ফলে জনজীবন ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের দুই প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ ও মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পৃথক বার্তায় তারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘অমানবিক’ ও ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে অভিহিত করে তা পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রখ্যাত ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ গভীর রাতে আতশবাজির বিকট শব্দে শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং প্রাণিকুলের কষ্টের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যে সমাজে উৎসবের নামে অন্যদের জীবন অতিষ্ঠ করা হয়, তাকে কতটা ‘সভ্য’ বলা যায়।
তিনি বলেন, ‘গভীর রাতে আতশবাজির বিকট শব্দে শিশু ও হার্টের রোগীরা আতঙ্কিত হয়। এমনকি পাখিরাও ভয়ে ছটফট করে। অল্প কিছু মানুষের এই উৃঙ্খলতার কাছে গোটা দেশ জিম্মি থাকতে পারে না।’ তিনি এই সংস্কৃতি বন্ধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগ ও পাড়ায়-মহল্লায় জনসচেতনতা তৈরির তাগিদ দেন। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষায় বিবেকসম্পন্ন আচরণ করারও আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী ফানুস ও আতশবাজির কারণে ঘটা জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টিতে গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি মনে করেন, উৎসবের এই সাময়িক উন্মাদনা মানুষের মানবিক সংবেদনশীলতাকে নষ্ট করে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘কয়েক টাকার একটি ফানুস অনেক সময় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ড ডেকে আনে। ঘনবসতিপূর্ণ শহরে এই বিকট শব্দে শিশুদের যে আর্তনাদ ও মায়েদের দুশ্চিন্তা হয়- তা কি আমরা ভেবে দেখেছি?’ অবলা প্রাণী ও পাখিদের জীবনের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘উদযাপনের এই উন্মাদনা কি মানবিকতার চেয়ে বড়?’
এই দুই ইসলামি ব্যক্তিত্বের বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাদের সঙ্গে একমত পোষণ করে লিখছেন, উৎসব যেন অন্যের ক্ষতির কারণ না হয়। বিশেষ করে ফানুসের কারণে প্রতিবছর অগ্নিকাণ্ডের যে ঝুঁকি তৈরি হয়, তা রোধে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
উল্লেখ্য, প্রতিবছরই ইংরেজি নববর্ষের প্রথম প্রহরে আতশবাজির বিকট শব্দে জনদুর্ভোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা, ফানুস থেকে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে দুই আলোচকের এমন আহ্বান জনমনে নতুন করে সচেতনতার সঞ্চার করেছে।