ধর্ম ডেস্ক
২৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৫০ পিএম
বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভূমিকম্পকে ‘আল্লাহর সতর্কবার্তা’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে গণতাওবা ও বাস্তবিক প্রস্তুতি নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
ভূমিকম্প ‘নিছক ভূতাত্ত্বিক নড়াচড়া নয়, এটি গভীর সতর্কবার্তা’, ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘হয়তো বড় কোনো বিপদ আসন্ন। তাই তাওবার পাশাপাশি বাস্তবিক প্রস্তুতি গ্রহণও জরুরি।’
তিনি তাঁর লেখায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের অপরিকল্পিত নগরায়ণে প্রতিটি অট্টালিকা যেন ‘সম্ভাব্য সমাধিসৌধ’। বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ঢাকায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে এক লাখের বেশি ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ফজরে ছিলেন তো? ভূমিকম্পের পর আত্মসমালোচনার আহ্বান আজহারীর
শায়খ আহমাদুল্লাহ রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতির অভাব নিয়ে মন্তব্য করেন। ‘অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর সীমিত সক্ষমতা দিয়ে হাজার হাজার ভগ্ন স্থাপনা সামলানো কেবলই কল্পনা,’ বলেন তিনি।
তিনি বিভিন্ন স্থাপনার নাম পরিবর্তন, অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্প ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে বিপুল অর্থব্যয়ের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, ‘এই অর্থের সামান্য অংশও যদি দুর্যোগ মোকাবিলায় বিনিয়োগ করা হতো, তাহলে তা সবচেয়ে যৌক্তিক বিনিয়োগ হতো।’
শায়খ আহমাদুল্লাহ কেবল রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাকেই দায়ী করেননি। তিনি সাধারণ মানুষ ও নির্মাণশিল্পের সাথে জড়িতদেরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করে আমরা নিজ হাতে তৈরি করি আমাদের প্রিয়জনদের জন্য মৃত্যুফাঁদ। এটি একপ্রকার সামাজিক আত্মহত্যা।’
আরও পড়ুন: ভূমিকম্প: আল্লাহর সতর্কবার্তা ও আমাদের করণীয়
তিনি রাষ্ট্রকে একটি সমন্বিত জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করার তাগিদ দেন, যাতে উদ্ধারকার্য, চিকিৎসা ব্যবস্থা, জরুরি আশ্রয় ও যোগাযোগব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি খোলা জায়গা সংরক্ষণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারেরও পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি শুধু ভৌত প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। ‘আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো পরিকল্পনা নিরাপত্তা দিতে পারবে না,’ বলেন তিনি। তিনি সমাজে বিস্তৃত দুর্নীতি, জুলুম ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে সকলকে গণতাওবা করার আহ্বান জানান।
শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর বক্তব্য শেষ করেন এ দোয়া দিয়ে- ‘আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিরাপদ রাখুন।’