ধর্ম ডেস্ক
১২ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৮ পিএম
ইসলাম মানুষের জীবনকে পবিত্র, সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ করার শিক্ষা দেয়। যেকোনো কাজ যা ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক জীবনে অশান্তি ও ক্ষতি ডেকে আনে, ইসলাম তা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। জুয়া এমনই একটি গর্হিত কাজ, যা অর্থ, সম্পর্ক ও সমাজে ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনে।
জুয়া হলো সেই সব খেলা বা লেনদেন, যেখানে জয়-পরাজয় বা ভাগ্যের অনিশ্চয়তার উপর অর্থ বা সম্পদ নির্ভরশীল। মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- ‘হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তি ও ভাগ্যতীর—এগুলো শয়তানের অপবিত্র কাজ। তাই এগুলো থেকে বেঁচে থাকো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা মায়েদা: ৯০-৯১)
রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা মদপান, জুয়া খেলা এবং ঢোল বাজানো হারাম করেছেন।’ (মেশকাত: ৪৫০৩) সুতরাং জুয়া কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, এটি মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক ক্ষতি ঘটায়।
আরও পড়ুন: টাকার লেনদেন ছাড়া কার্ড খেলা কি জায়েজ?
লটারি বা ভাগ্যপরীক্ষা: অর্থের বিনিময়ে টিকিট কিনে পুরস্কারের আশা।
প্রাচীন জাহেলি পদ্ধতি: উট কেনাবেচা বা লটারি ভিত্তিক মালিকানা।
আধুনিক খেলাধুলা ও অনলাইন জুয়া: কার্ড, তাস, ক্যারম, ক্রিকেট, ফুটবল বেটিং এবং মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম।
পুরস্কারনির্ভর খেলা: খেলোয়াড়দের নিজস্ব অর্থ দিয়ে পুরস্কারের ব্যবস্থা; তবে তৃতীয় পক্ষের পুরস্কার এবং ইসলামি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে বৈধ হতে পারে।
আধুনিক প্রেক্ষাপট: স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের কারণে অনলাইন জুয়া তরুণ প্রজন্মকে সহজে প্রলুব্ধ করছে। এর ফলে পারিবারিক অশান্তি, আর্থিক দুরবস্থা ও হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ইসলামে মাদক যে কারণে নিষিদ্ধ
বাংলাদেশে জুয়া খেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। The Public Gambling Act, 1867 অনুযায়ী, জুয়ার আড্ডা বা গেমিং হাউস পরিচালনা, মালিকানা বা ব্যবস্থাপনায় জড়িত হলে সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড বা ২০০ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ড। খেলায় অংশগ্রহণ বা উপস্থিত থাকলে সর্বোচ্চ ১ মাসের কারাদণ্ড বা ১০০ টাকা জরিমানা। যদিও আইনটি ১৮৬৭ সালের, বর্তমানেও সরকার অনলাইন জুয়া, মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক বেটিং ও জুয়ার বিস্তার রোধে অভিযান চালাচ্ছে।
সব ধরনের জুয়া-বাজি ইসলামে অবৈধ। জুয়া-বাজি থেকে প্রাপ্ত সবকিছু হারাম। হারাম খেয়ে ইবাদত করলে, আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেন না। তাই মুসলমান হিসেবে সব ধরনের জুয়া-বাজি থেকে দূরে থাকা আবশ্যক। প্রত্যন্ত গ্রামেও জুয়ার আসর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষক, তরুণ, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছেন মরণনেশা জুয়ায়। মাদকের মতোই জুয়ার গ্রাস এখন দৃশ্যমান। এমতাবস্থায় অনৈতিক এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়াকে সাধুবাদ জানাতে হয়।
আরও পড়ুন: ৮ গুরুতর হারাম কাজে মানুষের অবাধ বিচরণ
এক কথায়, জুয়া শয়তানের হাতিয়ার, যা মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। আল্লাহ তাআলার সতর্কবাণী স্মরণযোগ্য- ‘এগুলো থেকে দূরে থাক, তাহলে তোমরা সফল হবে।’ (সুরা মায়েদা: ৯০)
অতএব, জুয়া থেকে বিরত থাকা কেবল ধর্মীয় নির্দেশ পালন নয়, বরং ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের শান্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষার অপরিহার্য শর্ত।