Dhaka Mail Logo

ইসলাম

ভালো কাজের পথপ্রদর্শক যে প্রতিদান পাবেন

ধর্ম ডেস্ক

১৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:৪৮ পিএম

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যা শুধু ইবাদত-বন্দেগি নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ব, পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহযোগিতার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা নেক কাজে ও তাকওয়ার বিষয়ে একে অপরকে সহযোগিতা করো, আর পাপ ও শত্রুতার কাজে সহযোগিতা করো না।’ (সুরা মায়েদা: ২)

হাদিস ও আলেমদের ব্যাখ্যা

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হিদায়াত তথা সঠিক পথের দিকে ডাকে, তাতে তার অনুসরণকারীদের যে সওয়াব মিলবে, তারও সে পরিমাণ সওয়াব মিলবে। অনুসরণকারীদের সওয়াব তাতে কিছুই কমে যাবে না।’ (আবু দাউদ: ৪৬০৯)

আরেকটি হাদিসে এসেছে, নবী (স.)-এর নিকট এক লোক এসে তার নিজের জন্য একটি বাহন চাইল। কিন্তু তাকে তিনি দেয়ার মতো কোনো বাহন না পেয়ে তাকে অন্য এক লোকের নিকট পাঠিয়ে দিলেন। সেই ব্যক্তি তাকে একটি বাহন দিল। সে এ ঘটনাটি নবী (স.)-কে এসে বললে তিনি বলেন, 'সৎকাজের পথপ্রদর্শক উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর সমতুল্য।’ (তিরমিজি: ২৬৭০)

আরও পড়ুন: অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো মহান ইবাদত

প্রখ্যাত ইসলামিক চিন্তাবিদ ড. ইউসুফ আল কারযাভি তাঁর ‘ফিকহুল দাওয়াহ’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘ভালো কাজের পথপ্রদর্শন শুধু মুখের আহ্বান নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক দায়িত্ব। জ্ঞান বিতরণ, আর্থিক সহায়তা, পরামর্শ প্রদান কিংবা সামাজিক সংস্কার—সবই এর অন্তর্ভুক্ত।’

ইমাম গাজ্জালি (রহ.) ‘ইহইয়া উলুমুদ্দিন’-এ উল্লেখ করেছেন, ‘ভালো কাজে আহ্বান জানানো ঈমানের অন্যতম প্রধান দিক। এটি সমাজে শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার শক্তিশালী মাধ্যম।’

ভালো কাজে সহযোগিতার বাস্তব প্রয়োগ

ভালো কাজের পথপ্রদর্শন শুধু কথায় নয়, কাজে ও উদ্যোগে প্রকাশ পায়। এর কয়েকটি বাস্তব দিক হলো-

  • জ্ঞানবিতরণ: কাউকে ইসলামি জ্ঞান শেখানো, দ্বীনি বই উপহার দেওয়া বা দ্বীন শেখার উৎস তৈরি করা
  • আর্থিক সহায়তা: গরিব-দুঃখীদের সাহায্যে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করা বা সহায়তার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা
  • সমাজসেবা: মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল বা এতিমখানা প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণে অন্যদের উৎসাহিত করা
  • নৈতিকতা প্রচার: সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও আমানতদারিতার চর্চায় মানুষকে অনুপ্রাণিত করা
  • ডিজিটাল দাওয়াত: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামি বার্তা, দোয়া, বা অনুপ্রেরণামূলক গল্প প্রচার করা

আরও পড়ুন: এতিমকে সহায়তার বিশেষ ফজিলত

সতর্কবার্তা: মন্দ কাজে সহযোগিতা থেকে সাবধান

যেমন ভালো কাজের পথপ্রদর্শক সমান সওয়াব পান, তেমনি মন্দ কাজের আহ্বানকারীও সমপরিমাণ গুনাহের ভাগীদার হন। রাসুল (স.) সতর্ক করেছেন, ‘আর যে ভুল পথের দিকে ডাকে, তাতে তার অনুসরণকারীদের যে গুনাহ মিলবে, তারও সে পরিমাণ গুনাহ মিলবে। অনুসরণকারীদের গুনাহ তাতে কিছুই কমে যাবে না।’ (আবু দাউদ: ৪৬০৯)

ইবনে কাইয়িম (রহ.) তাঁর ‘আল-ফাওয়াইদ’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘ভালো কাজের দিকে আহ্বান করার সময় নিয়ত হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য; খ্যাতি বা প্রশংসা অর্জনের জন্য নয়।’

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সহজ পথ

ভালো কাজের পথপ্রদর্শক হওয়া একজন মুমিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। এটি এমন এক সওয়াবের ধারাপাত, যা মৃত্যুর পরও বন্ধ হয় না, যতদিন মানুষ সেই শিক্ষা বা প্রেরণায় ভালো কাজ চালিয়ে যায়।

অতএব, আমাদের উচিত নিজে ভালো কাজ করা এবং অন্যদেরও তাতে আহ্বান জানানো। কেননা, একটি ছোট অনুপ্রেরণাই কারও জীবন বদলে দিতে পারে, আর সেই পরিবর্তনের প্রতিটি সওয়াব আপনার আমলনামায় জমা হতে থাকবে। এভাবেই একজন মুমিন সমাজে আলো ছড়াতে পারে নিজে পথচলা শুরু করে অন্যের হাত ধরে জান্নাতের পথে এগিয়ে দিয়ে।