ধর্ম ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৫ পিএম
কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ভার্চুয়াল জীবনে সতর্কতা
আজকের ডিজিটাল যুগে বন্ধুত্ব মানে শুধু আশপাশের মানুষ নয়; সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন গ্রুপ ও ভার্চুয়াল সঙ্গও আমাদের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। রাসুল (স.) বলেছেন- ‘মানুষ তার বন্ধুর ধ্যান-ধারণার অনুসারী হয়।’ (সুনানেতিরমিজি: ২৩৭৮)
যেভাবে খারাপ বন্ধু বাস্তবে মানুষকে বিপথে নিয়ে যায়, তেমনি অনলাইনের ভুল সঙ্গও ধীরে ধীরে ঈমান, চরিত্র ও সময়কে নষ্ট করে দেয়। তাই কোরআন সুন্নাহর শিক্ষা হলো—ভালো সঙ্গ বেছে নাও, খারাপ সঙ্গ এড়িয়ে চলো, হোক সেটা বাস্তবে বা ডিজিটাল দুনিয়ায়।
আজ আর সঙ্গী মানে কেবল আশপাশের মানুষ নয়। এখন সঙ্গ বলতে বোঝায়— সোশ্যাল মিডিয়ার ফলো করা পেইজ, ইউটিউব চ্যানেল ও পডকাস্ট, অনলাইন গ্রুপ ও কমিউনিটি, গেমিং পার্টনার ও ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব। এসবই অজান্তে আমাদের চিন্তা, আচার-আচরণ ও ঈমানের উপর প্রভাব ফেলে। কোরআনের সতর্কবাণী: ‘যখন আপনি দেখবেন, তারা আমার আয়াত নিয়ে ঠাট্টা করছে, তখন তাদের থেকে সরে যান...।’ (সুরা আনআম: ৬৮)
ডিজিটাল বাস্তবতায় এই আয়াতের অনুসরণ হতে পারে- ১. ইসলামবিরোধী পেইজে না ক্লিক করা, ইসলামকে উপহাস করা পোস্ট এড়িয়ে চলা এবং বিতর্কিত কমেন্ট সেকশনে না যাওয়া। বরং ইসলামিক শিক্ষামূলক কনটেন্ট ফলো করা।
আরও পড়ুন: ফেসবুক-ইউটিউব থেকে উপার্জন কি হালাল?
১. সোশ্যাল মিডিয়া ডিটক্সিফিকেশন করুন: আনফলো/আনসাবস্ক্রাইব করুন ইসলামবিরোধী পেইজ, অশ্লীল কনটেন্ট নির্মাতা ও ফিতনাবাজ অ্যাকাউন্ট
২. ডিজিটাল সময়সীমা নির্ধারণ করুন: সকালে-সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহার করুন।
৩. কনটেন্ট ফিল্টার ব্যবহার করুন: YouTube → Restricted Mode ON, Facebook → Content Preferences, X (Twitter) → Sensitive কনটেন্ট ব্লক
৪. ইসলামিক অ্যালগরিদম বানান: লাইক-শেয়ার করুন কোরআন তেলাওয়াত, ইসলামি লেকচার ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট
৫. দ্বীনি অনলাইন কমিউনিটিতে যোগ দিন: কোরআন স্টাডি গ্রুপ, হাদিস আলোচনা ফোরাম এবং ইসলামিক নলেজ প্ল্যাটফর্ম
৬. দৈনিক ডিজিটাল আত্মসমালোচনা করুন: আজ আমি কত সময় নষ্ট করলাম? কী শিখলাম, কী দেখলাম? এসব নিয়ে আত্মসমালোচনা করুন।
৭. প্রোডাক্টিভ অ্যাপস ব্যবহার করুন: TikTok → Bayanah, PUBG → Quran Memorize অ্যাপ
৮. পরিবারের সাথে নিয়ম বানান: রাত ৯টার পর সব ডিভাইস লিভিং রুমে রাখুন।
৯. অফলাইন কার্যক্রম বাড়ান: মসজিদে বেশি সময় দিন, ইসলামি বই পড়ুন এবং পরিবারের সাথে সময় কাটান।
১০. দোয়া ও ইস্তিগফার করুন: ‘হে আল্লাহ! ইন্টারনেটের ফিতনা থেকে আমাকে হিফাজত করুন।’
আরও পড়ুন: ডিজিটাল আসক্তির যুগে ইসলামি জীবন ধরে রাখবেন যেভাবে
বনি ইসরাইলের ১০০ খুনিকে বলা হয়েছিল ‘তুমি মন্দ গ্রাম ছেড়ে উত্তম গ্রামে চলে যাও, সেখানে তাদের সঙ্গে ইবাদত করো।’ (বুখারি: ৩৪৭০; মুসলিম: ২৭৬৬) সেটার আধুনিক প্রয়োগ হতে পারে- খারাপ গ্রুপ/পেইজ ছেড়ে দিন এবং ভালো ইসলামিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দিন।
আজই আপনার ডিজিটাল জীবনকে রিবুট করুন। মনে রাখবেন, আপনার লাইক-শেয়ার-ফলোই আপনার আখেরাতের সাক্ষী হবে। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ইন্টারনেটের ভালো অংশ চাই এবং এর খারাপ অংশ থেকে আপনার আশ্রয় চাই।