images

ইসলাম

হারাম উপার্জন: দুনিয়াতেই নেমে আসে যেসব অভিশাপ

ধর্ম ডেস্ক

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:১০ পিএম

জীবনধারণের জন্য জীবিকা অর্জন অপরিহার্য। তবে সেই উপার্জনের পদ্ধতি হতে হবে কোরআন ও হাদিসের নির্দেশিত হালাল পথে। কারণ হালাল উপার্জন ও হালাল ভক্ষণ মুসলমানের জন্য ফরজ। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে যেসব পবিত্র বস্তু দিয়েছি তা থেকে খাও এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর, যদি তোমরা শুধু তারই ইবাদত কর।’ (সুরা বাকারা: ১৭২)

এর বিপরীতে অবৈধ ও নিষিদ্ধ উপার্জনকে ইসলাম হারাম ঘোষণা করেছে। অবৈধ পথে উপার্জন সাময়িকভাবে সহজ মনে হলেও এর রয়েছে ভয়াবহ পরিণতি। হারাম সম্পদ শুধু পরকালীন শাস্তির কারণ নয়, বরং দুনিয়াতেও এর নেতিবাচক প্রভাব সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। নিচে কোরআন-হাদিসের আলোকে হারাম উপার্জনের কিছু ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরা হলো।

১. দোয়া ও দান-সদকা গ্রহণ না হওয়া

হারাম খাওয়া ও হারাম উপার্জনের কারণে দোয়া কবুল হয় না। রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।’ (মুসলিম: ২২৩৬)

আরও পড়ুন: আল্লাহ সবার দোয়া কবুল করেন না কেন

আরেক হাদিসে এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে নবীজি বলেন- দীর্ঘ সফরের ফলে যার চুল উসকোখুসকো, চেহারা ধুলোবালিমাখা। সে হাত দুটো আকাশের দিকে উঠিয়ে বলছে, ‘হে আমার রব! হে আমার রব!’, কিন্তু তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম আর তার পরিপুষ্টি হয়েছে হারাম দিয়ে; (এমতাবস্থায়) কীভাবে তার দোয়ায় সাড়া দেওয়া হবে?’ (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)

২. বরকত উঠে যাওয়া, অর্থনৈতিক ধস ও দারিদ্র্য

মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন আর দান-সদকা বাড়িয়ে দেন।’ (সুরা বাকারা: ২৭৬)
তাফসিরবিদরা বলেন, যে সম্পদের সঙ্গে সুদ বা অবৈধ অর্থ যুক্ত হয়, তা অধিকাংশ সময় ধ্বংস হয়ে যায়। এমনকি আগের সম্পদও বিনষ্ট হয়ে যায়। ইতিহাসে দেখা গেছে, সুদ ও জুয়াভিত্তিক অর্থনীতি সমাজে দেউলিয়াত্ব ও ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার জন্ম দেয়।

আরও পড়ুন: যে দোয়া পড়লে হালাল রিজিক বেড়ে যাবে

৩. হৃদয় কঠিন হয়ে যাওয়া

হারাম খাদ্য গ্রহণ হৃদয়কে কঠিন করে দেয়। তখন ভালো কাজে মন সাড়া দেয় না এবং পাপকে পাপ মনে হয় না। ফলে মানুষ ধীরে ধীরে জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। রাসুল (স.) বলেন- ‘হারাম সম্পদ থেকে বেঁচে থাকো, কেননা হারামের এক গ্রাসও জাহান্নামের দিকে নিয়ে যেতে পারে।’ (মুসনাদে আহমদ: ৮৬০১)

৪. সমাজে অশান্তি ও অকল্যাণ

হারাম উপার্জন শুধু ব্যক্তিজীবন নয়, পুরো সমাজে অশান্তি ও অকল্যাণ ডেকে আনে। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে স্থল ও সমুদ্রে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে।’ (সুরা রূম: ৪১)

হারাম সম্পদের কারণে সমাজে অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও নৈতিক অবক্ষয় বৃদ্ধি পায়।

আরও পড়ুন: যেসব কারণে হালাল প্রাণীর গোশত হারাম হয়ে যায়

৫. পরিবারে অশান্তি ও দ্বীনদারিতে অবনতি

হারাম রিজিক পরিবারের সদস্যদের আচরণ ও ঈমানি চেতনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সন্তান-পরিজন অবাধ্য ও দ্বীনবিমুখ হয়ে পড়ে। পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে যায় এবং শান্তি-সুখ বিলুপ্ত হয়।

৬. অভিশপ্ত জীবন

রাসুল (স.) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক ও তার সাক্ষীদ্বয়ের ওপর অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেন এরা সবাই সমান অপরাধী। (মুসলিম: ৩৯৮৫) অন্য হাদিসে রাসুল (স.) বলেছেন, ঘুষদাতা ও গ্রহীতার ওপর আল্লাহর অভিশাপ। (ইবনে মাজাহ: ২৩১৩

তাই একজন মুসলমানের উচিত যেকোনো মূল্যে হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকা এবং হালাল জীবিকার পথে অটল থাকা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিক অর্জনের তাওফিক দিন এবং হারাম থেকে দূরে থাকার শক্তি দান করুন। আমিন।