ধর্ম ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:৪০ পিএম
জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী তাঁর ফেসবুক পেজে প্রিয়নবী (স.)-কে নিয়ে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সেখানে তিনি মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর শারীরিক সৌন্দর্য ও মহৎ চরিত্র চমৎকারভাবে তুলে ধরেছেন।
আজহারী নবীজির দৈহিক সৌন্দর্য নিয়ে লেখেন, নবীজি (স.) ছিলেন মধ্যম উচ্চতার, সুগঠিত দেহের অধিকারী। তাঁর মুখমণ্ডল ছিল চাঁদের মতো উজ্জ্বল, সর্বদা মায়াময় মুচকি হাসিতে ভরপুর। প্রশস্ত কাঁধ, দৃপ্ত পদক্ষেপ, শুভ্র দাঁত ও কোমল দৃষ্টি তাঁর ব্যক্তিত্বকে আরও অনন্য করে তুলেছিল। চোখ ছিল হরিণীর মতো মায়াবী—সাদা অংশ ছিল ধবধবে শুভ্র আর কালো অংশ ছিল কুচকুচে কালো।
তিনি উল্লেখ করেন, নবীজির (স.) চুল ছিল হালকা কোঁকড়ানো, কখনো কান ছুঁই ছুঁই করত, আবার কখনো কাঁধ পর্যন্ত পৌঁছাত। জীবনের শেষ প্রান্তে তাঁর দাড়ি-চুলে মাত্র কুড়ি গোটা সাদা চুল দেখা গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের ঐক্য ও ষড়যন্ত্র নিয়ে যা বললেন আজহারী
ড. আজহারী তাঁর লেখায় নবীজির (স.) চরিত্রগত সৌন্দর্যের শ্রেষ্ঠত্বও তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ‘তিনি কখনো মিথ্যা বলেননি, কখনো কাউকে কষ্ট দেননি, কখনো খাবারে দোষ খুঁজেননি। বরং যা সামনে আসত তাই খেয়ে নিতেন। তাঁর নম্রতা, দয়া, ক্ষমা, ধৈর্য এবং সত্যবাদিতা ছিল অসাধারণ।’
সাহাবিদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, নবীজিকে (স.) প্রথমবার দেখলে অন্তরে ভয়মিশ্রিত শ্রদ্ধা জন্ম নিত, আর সান্নিধ্যে এলে গভীর ভালোবাসা জন্ম দিত। হাসসান বিন সাবিত (রা.)-এর কবিতা উদ্ধৃত করে তিনি লেখেন- ‘আপনার চেয়ে সুন্দর কাউকে আমার চোখ দেখেনি, আর আপনার চেয়ে মহিমান্বিত কাউকে কোনো নারী জন্ম দেয়নি। আপনাকে প্রতিটি ত্রুটি থেকে মুক্ত করে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন আপনার ইচ্ছা মতো আপনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের বাণী তুলে ধরতে হবে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে: আজহারী
আজহারীর এই স্ট্যাটাস মুহূর্তেই হাজারো ভক্ত-অনুরাগীর হৃদয়ে আলোড়ন তোলে। অনেকেই মন্তব্যে ভালোবাসা ও সালাম জানিয়ে নবীজি (স.)-এর স্মৃতিচারণায় শামিল হন। সর্বোপরি, ড. আজহারীর এই লেখাটি প্রিয়নবী (স.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার অনন্য প্রকাশ।