Dhaka Mail Logo

ইসলাম

যে দোয়া করলে আল্লাহ খুশি হন

ধর্ম ডেস্ক

২৪ আগস্ট ২০২৫, ০৭:১১ পিএম

দোয়া ইবাদতের মূল। আল্লাহর কাছে যেকোনো কিছু প্রার্থনার মাধ্যম হলো দোয়া। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে দোয়ার গুরুত্ব বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু দোয়া রয়েছে যেগুলো করলে আল্লাহ খুশি হন। বিশেষ করে বান্দা নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করলে মহান আল্লাহ বেশি খুশি হন এবং বান্দার দোয়া তিনি কবুল করেন।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উট খুঁজে পেয়ে যতটা খুশি হও, আল্লাহ তাআলা তার বান্দার তাওবাতে এরচেয়েও বেশি খুশি হন।’ (সহিহ বুখারি: ৬৭০৯)

বান্দা যখন অন্তর থেকে গুনাহ মাফ চায়, গুনাহ না করার ওয়াদা করে, তখন তিনি ক্ষমা না করে পারেন না। আসলে তিনি দয়ার সাগর। কখনও বান্দার এক ফোঁটা অশ্রুতেই তিনি সকল গুনাহ ধুয়ে সাফ করে দেন; জাহান্নামকে চিরতরে হারাম করে দেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (স.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলার ভয়ে যে লোক কাঁদে, তার জাহান্নামে যাওয়া এরূপ অসম্ভব যেমন অসম্ভব দোহন করা দুধ আবার ওলানের মধ্যে ফিরে যাওয়া। আল্লাহ তাআলার পথের ধুলা এবং জাহান্নামের ধোঁয়া কখনো একত্র হবে না (আল্লাহ তাআলার পথের পথিক জাহান্নামে যাবে না)। (তিরমিজি: ১৬৩৩)

আরও পড়ুন: সবসময় ইস্তেগফার করার উপকার

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু’ (সুরা বাকারা: ১৪৩) এখানে গুরুত্বপূর্ণ চারটি ইস্তেগফার তুলে ধরা হলো।

১.  أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়ুল কাইয়ুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।

অর্থ: আমি সেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও চিরন্তন এবং আমি তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি। (আবু দাউদ: ১৫১৭)

২. رَبِّ اغْفِرْ لِي وَتُبْ عَلَيَّ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الْغَفُورُ

উচ্চারণ: রাব্বিগ ফিরলি ওয়া তুব আলাইয়্যা ইন্নাকা আংতাত তাওয়্যাবুল গাফুর।

অর্থ: হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি তাওবা কবুলকারী, পরম ক্ষমাশীল। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত: ২৩৫২)

৩. اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّه“ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ 

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা আনতা রব্বি লা ইলাহা ইল্লা আনতা খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু, আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু। আবু-উ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়া ওয়া আবু-উ লাকা বিজাম্বি ফাগফিরলী ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা।’ 

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক, তুমি ছাড়া কোনো প্রভু নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমার বান্দা। আমি সাধ্যমত তোমার কাছে দেয়া ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতিগুলো পালনে সচেষ্ট আছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। আমাকে যে নেয়ামত দান করেছ, তা স্বীকার করছি এবং আমি আমার পাপগুলো স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা তুমি ছাড়া কেউ ক্ষমাকারী নেই।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩০৬)

আরও পড়ুন: সাইয়িদুল ইস্তেগফারের অর্থ ও মর্ম

৪. أَستَغْفِرُ اللهَ

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ।

অর্থ: আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি। 
প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর রাসুলুল্লাহ (স.) এই ইসতেগফারটি ৩ বার পড়তেন। (মেশকাত: ৯৬১)

দোয়ার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে এবং গুনাহ মাফের সুযোগ পায়। আমাদের উচিত প্রতিদিনের জীবনে এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্তেগফারগুলো নিয়মিত পাঠ করা। আন্তরিক দোয়া আল্লাহ তাআলাকে খুশি করে এবং এতে জীবন শান্তিময় ও কল্যাণময় হয়ে ওঠে।