ধর্ম ডেস্ক
০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৩৫ পিএম
নবীজি (স.)-এর জীবন ছিল দয়া, মমতা আর ভালোবাসার অফুরন্ত ভাণ্ডার। তিনি শুধু উপদেশই দিতেন না, বরং ছোট ছোট বিষয়েও তাঁর সাহাবিদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও কল্যাণকামিতা প্রকাশ পেত। তেমনই এক অনন্য ঘটনা হজরত আনাস (রা.)-এর জীবন থেকে জানা যায়। যার জন্য নবীজি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বরকত ও প্রাচুর্যের এক আশ্চর্য দোয়া করেছিলেন।
১০ বছর বয়সী আনাস (রা.)কে তাঁর মা উম্মে সুলাইম (রা.) নবীজি (স.)-এর খেদমতে সমর্পণ করেন। এই মায়ের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে এক বিনীত আবেদন- ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! আনাস আপনার খাদেম। তার জন্য দোয়া করুন।’ নবীজি (স.) এই আবেদন গ্রহণ করে বলেন- اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ ‘হে আল্লাহ! তার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করুন এবং যা তাকে দান করেছেন, তাতে বরকত দান করুন। (সহিহ বুখারি: ৬৩৪৪, মুসলিম: ২৪৮১)
এই দোয়ার ফল ছিল অবিশ্বাস্য। আনাস (রা.)-এর জীবনের প্রতিটি অংশে এই দোয়ার প্রতিফলন ঘটেছিল।
আরও পড়ুন: যেসব আমলে হালাল রিজিকের দরজা খুলে যায়
১. সম্পদের অলৌকিক বরকত: আনাস (রা.)-এর বাগান মদিনার মধ্যে সবচেয়ে উর্বর ছিল। তিনি বর্ণনা করেন- ‘আমার বাগান থেকে একবার ৩০০ মুদ (প্রায় ৬,০০০ কেজি) খেজুর বিক্রি করেছিলাম।’ (মুসনাদে আহমাদ: ১২৫৬২, এই রেওয়ায়াতের সনদ দুর্বল হলেও বিষয়বস্তুটি অন্যান্য সহিহ সূত্র দ্বারা সমর্থিত)
২. সন্তান-সন্ততির প্রাচুর্য: ইবনে হাজারের মতে আনাস (রা.) জীবদ্দশায় ৮০ জনেরও বেশি সন্তান-নাতির জানাজা পড়েছিলেন। (আল-ইসাবা: ১/২৬৮) কিছু বর্ণনায় ১০০ জনের বেশি সন্তানের উল্লেখ রয়েছে।
৩. দীর্ঘায়ু লাভ: ৯৩ হিজরি পর্যন্ত জীবিত ছিলেন (১০৩ বছর বয়স)। শেষ জীবনে মদিনার সর্বশেষ নববী সাহাবি হিসেবে সম্মানিত। (তাবাকাতে ইবনে সাদ: ৭/১৭)
আরও পড়ুন: আল্লাহ কারো প্রতি সন্তুষ্ট হলে যে আলামত প্রকাশ পায়
এই ঘটনা থেকে আমরা একটি অমূল্য শিক্ষা পাই। নবীজি (স.)-এর দোয়া কেবল মুসিবত বা দুঃখ দূর করার জন্যই ছিল না, বরং জীবনের আনন্দ ও প্রাচুর্যের জন্যও ছিল। এটি আল্লাহর কাছে একজন প্রিয় বান্দার জন্য ভালোবাসার উপহারের মতো। এই দোয়া প্রমাণ করে, নবীজি (স.) তাঁর সাহাবিদের ধর্মীয় শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি তাদের পার্থিব জীবনের কল্যাণও কামনা করতেন।
এই ঘটনাটি আমাদের শেখায় যে, সন্তানদের জন্য মায়ের দোয়া এবং একজন নেককার মানুষের দোয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদেরও উচিত নিজের জন্য ও আমাদের প্রিয়জনদের জন্য বরকতময় জীবন কামনা করা এবং নেক ব্যক্তিদের কাছে দোয়ার অনুরোধ জানানো—ঠিক যেমন উম্মে সুলাইম (রা.) করেছিলেন।