ধর্ম ডেস্ক
২২ জুলাই ২০২৫, ০৮:৪৭ পিএম
মানুষ প্রতিনিয়ত গুনাহ করে—ইচ্ছায়, অনিচ্ছায় কিংবা শয়তানের প্ররোচনায়। এর মধ্যে কিছু গুনাহ রয়েছে, যা তাওবা ছাড়া মাফ হয় না। আবার কিছু গুনাহ এমনও রয়েছে, যা তাওবা-ইস্তিগফার ছাড়াও আল্লাহ তাআলা বিশেষ নেক আমলের বিনিময়ে মাফ করে দেন। নিচে কোরআন-হাদিসের আলোকে সেরকম ২৩টি গুনাহ মোচনের আমল তুলে ধরা হলো।
তাওবা সব গুনাহ মুছে দেয়। (সুরা জুমার: ৫৩, ফুরকান: ৭০, তাহরিম: ৮, হুদ: ৩; ইবনে মাজাহ: ৪২৫০)
প্রতিদিনের নামাজে ছোট গুনাহগুলো মাফ হয়। (মুসলিম: ৬৬৭, ২৩৩; বুখারি: ৫২৮)
এক জুমা থেকে আরেক জুমা পর্যন্ত গুনাহ মাফ হয়। (মুসলিম: ৮৫৭)
মসজিদে যাওয়ার প্রতিটি কদমে গুনাহ মাফ হয়। (বুখারি: ৬৪৭)
অজু করার সময় গুনাহ ঝরে যায়। (মুসলিম: ২৪৪; তিরমিজি: ৩২৩৩)
সুরা ফাতিহা শেষে আমিন ফেরেশতার সঙ্গে মিললে গুনাহ মাফ হয়। (আহমদ: ৭১৮৭)
আরও পড়ুন: নামাজে ‘আমিন’ জোরে নাকি আস্তে বলা উত্তম?
রুকু থেকে উঠে বলা গেলে গুনাহ মাফ হয়। (বুখারি: ৭৯৬)
সওয়াবের আশায় রোজা রাখলে পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা। (বুখারি: ৩৮)
রমজানে রাতের নামাজ গুনাহ মোচন করে। (বুখারি: ৩৭, ১৯০১)
এক বছর পূর্ব ও এক বছর পরবর্তী গুনাহ মাফ হয়। (তিরমিজি: ৭৪৯; মুসলিম: ১১৬২)
এক বছরের গুনাহ মোচন হয়। (মুসলিম: ১১৬২)
সঠিকভাবে হজ করলে সব গুনাহ মাফ হয়। (বুখারি: ১৫২১)
আরও পড়ুন: হজের গুরুত্ব ও ফজিলত
প্রতি কদমে গুনাহ মাফ হয়। (তিরমিজি: ৯৫৯)
হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানি স্পর্শ গুনাহ দূর করে। (তিরমিজি: ৮৭৭, ৯৫৯)
এতে আল্লাহর ক্ষমা লাভ হয়। (আহমদ: ৩০৪১; বায়হাকি: ৩৭৭৭)
দুই ওমরার মধ্যবর্তী গুনাহ মাফ। (বুখারি: ১৭৭৩; মুসলিম: ১৩৪৯)
ধৈর্য ধারণকারী ব্যক্তি গুনাহমুক্ত হয়। (আহমদ: ১৬৫৬০; মুসলিম: ২৫৭২)
আরও পড়ুন: ধৈর্যশীলদের জন্য আল্লাহর বিশেষ পুরস্কার
পরস্পর কুশল বিনিময়ে গুনাহ মাফ। (তিরমিজি: ২৭২৭; আবু দাউদ: ৫২১২)
খাবারের পর শুকরিয়া করে দোয়া পড়লে গুনাহ মাফ হয়। (তিরমিজি: ৩৪৫৮)
এক হাজার সওয়াব ও এক হাজার গুনাহ মাফ। (মুসলিম: ২৬৯৮)
প্রতি দরুদে ১০টি গুনাহ মাফ হয়। (নাসায়ি: ১২৯৭)
ফজর ও মাগরিবের পর ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদির’ দোয়াটি ১০ বার পড়লে গুনাহ মাফ হয়। (আহমদ: ২৩৫১৮)
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ইউহয়ী ওয়া ইউমিতু, ওয়াহুয়া হাইয়্যু লা ইয়ামূতু, বিয়াদিহিল খাইরু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাই-ইং কাদির’ দোয়া পাঠে ১০ লাখ গুনাহ মাফ হয়। (তিরমিজি: ৩৪২৮)
মানুষ ভুল করে, কিন্তু মহান আল্লাহ গুনাহ মাফকারী। উল্লেখিত আমলগুলো মুমিনের জন্য অপার সুযোগ। আল্লাহ যেন আমাদের এসব নেক আমল করার তাওফিক দেন এবং ইচ্ছাকৃত-অনিচাকৃত সব গুনাহ মাফ করে দেন। আমিন।