ধর্ম ডেস্ক
০২ জুন ২০২৫, ০৭:৩৫ পিএম
হজ ও ওমরার অন্যতম প্রথম ফরজ ও মূল রুকন ইহরাম। মিকাত পার হওয়ার পর প্রত্যেক হজযাত্রী নিজেকে সাদা, সেলাইবিহীন কাপড়ে আবৃত করতে হয়। পৃথিবীর যেখান থেকে আসুন না কেন, এই নিয়ম সকলের জন্য বাধ্যতামূলক। এই শুভ্র ইহরামের পোশাকের পেছনে রয়েছে গভীর ইসলামি অর্থ ও শিক্ষা।
প্রথমত, নবী কারিম (স.) নিজে এই সাদা কাপড় পরিধান করতেন এবং সাহাবিরাও তাঁর অনুসরণ করতেন। হজরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (স.) বলেছেন- البَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمُ البَيَاضَ، فَإِنَّهَا مِنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ، وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ ‘সাদা পোশাক পরো, কারণ এটি তোমাদের উত্তম পোশাক। তোমাদের মৃতদেরও এ দিয়ে কাফন দাও।’ (নাসায়ি, আবু দাউদ: ৪০৬১; তিরমিজি: ৯৯৪)
এ থেকে বোঝা যায়, ইহরামের সাদা কাপড় শুধু পোশাক নয়, বরং পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা এবং মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়—এমন একটি প্রতীক। এটি মুসলমানদের সাম্যের প্রতীক; যেখানে ধনী-দরিদ্রের পার্থক্য থাকে না; সবাই সমান। ইহরামের এই কাপড় পরিধান করে হাজিরা যেন জীবনের সর্বোচ্চ পরিশুদ্ধ অবস্থায় মহান প্রভুর সামনে উপস্থিত হন।
আরও পড়ুন: হজ কবুলের জন্য যেসব আমলে গুরুত্ব দেবেন
ইহরামের শুভ্র পোশাক পরিধানের সময় ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ বলে হাজিরা তালবিয়া পাঠ করেন, যা পুরো মক্কাজুড়ে গগনে, পাহাড়ে, গাছ-গাছালিতে প্রতিধ্বনিত হয়। তিরমিজিতে বর্ণিত, এই তালবিয়া এতটাই মহিমান্বিত যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত তা ছড়িয়ে পড়ে।
তাছাড়া, সাদা কাপড় সাদাসিধে জীবনযাপন, নিরহংকার, শুদ্ধতা ও পরস্পরের প্রতি সৌহার্দ্যের বার্তা বহন করে। এটি জীবনের সকল বিলাসিতা ও ভেদাভেদ থেকে মুক্ত থাকার শিক্ষা দেয়।
হজের প্রতিটি আমল—কাবা শরিফের চত্বরে তাওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সায়ি, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান—আখেরাতের ময়দান ও মৃত্যুর পরের জীবন স্মরণ করিয়ে দেয়। ইহরামের এই শুভ্র পোশাক সেই অনন্ত যাত্রার প্রস্তুতি।
সবশেষে, আমরা দোয়া করি—আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর প্রত্যেক হজপ্রত্যাশীকে হজ করার তাওফিক দান করুন, তাদের ইহরামের গুরুত্ব উপলব্ধি করান এবং সকলকে মাকবুল হজ নসিব করুন। আমিন।