images

ইসলাম

নামাজ না পড়লে রোজার সওয়াব পাওয়া যাবে?

ধর্ম ডেস্ক

১৪ মার্চ ২০২৫, ০৪:০২ পিএম

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভ বা রুকন একে অপরের পরিপূরক। রমজান মাস এলে আমাদের মাঝে ইবাদতের এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি হয়, আমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে রোজা পালন করি। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, রোজার প্রতি যতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, নামাজের ক্ষেত্রে ততটা সতর্কতা থাকছে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো- ভিত্তি ছাড়া কি ইমারত টিকে থাকে? নামাজ ও রোজা যেহেতু স্বতন্ত্র ফরজ ইবাদত, তাই নামাজ না পড়ে রোজা রাখলে তার আধ্যাত্মিক ফলাফল বা সওয়াব কতটুকু অর্জিত হবে, তা ইসলামের অকাট্য দলিল ও হাদিসের আলোকে জেনে নেওয়া জরুরি।

মুসলমান শুধু রোজা রাখবেন, নামাজ পড়বেন না—এমনটা হতে পারে না। নামাজ ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগই রাখেনি ইসলাম। ঈমান ও কুফরের মধ্যে মূল পার্থক্যই হলো নামাজ। নামাজ না পড়াকে মহানবী (স.) কুফরি কাজ ও কাফিরের স্বভাব বলে হুঁশিয়ার করেছেন। এক হাদিসে জাবির (রা.) বলেন, আমি নবী (স.)-কে বলতে শুনেছি, বান্দা এবং শিরক-কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত ছেড়ে দেওয়া। (মুসলিম: ১৪৮) হজরত বুরাইদা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে (মুক্তির) যে প্রতিশ্রুতি আছে তা হলো নামাজ। সুতরাং যে ব্যক্তি নামাজ ছেড়ে দেয়, সে কুফুরি কাজ করে। (তিরমিজি: ২৬২১) অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যার ভেতর নামাজ নেই, তার ভেতর দ্বীনের কোনো অংশ নেই। (মুসনাদে বাজ্জার: ৮৫৩৯)

নামাজ না পড়লে আমল নষ্ট হয় বলেও নবীজি (স.) উম্মতকে সতর্ক করেছেন। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন— مَنْ تَرَكَ صَلاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ ‘যে ব্যক্তি আছরের নামাজ ত্যাগ করে তার আমল নিষ্ফল হয়ে যায়।’ (বুখারি: ৫২০)

ইমাম ইবনুল কায়্যিম (রহ) এই হাদিসের মর্মার্থ আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘বেনামাজি দুই ধরণের-১. পুরোপুরিভাবে ত্যাগ করা বা কোনো নামাজই না পড়া। এ ব্যক্তির সমস্ত আমল বিফলে যাবে। ২. বিশেষ কোনোদিন বিশেষ কোনো নামাজ ত্যাগ করা। এক্ষেত্রে তার বিশেষ দিনের আমল বিফলে যাবে। অর্থাৎ সার্বিকভাবে নামাজ ত্যাগ করলে তার সার্বিক আমল বিফলে যাবে। আর বিশেষ নামাজ ত্যাগ করলে বিশেষ আমল বিফলে যাবে।’ (আস সালাত পৃ-৬৫)

অতএব, নামাজ ছেড়ে দিয়ে রোজার সওয়াব পাওয়া যাবে—এমন মনে করা উচিত হবে না; বরং সওয়াব না পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার, নামাজ না পড়ে রোজা রাখলে রোজা আদায় হবে না; এমনটাও বলা যায় না। কারণ নামাজ ও রোজা দুটো স্বতন্ত্র ইবাদত। এজন্য আমরা এমন ব্যক্তিকে বলবো, নামাজ পড়ুন, রোজাও রাখুন। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সেই তাওফিক দান করুন। আমিন।