ধর্ম ডেস্ক
০৪ জুন ২০২২, ১২:০০ পিএম
পবিত্র কোরআনের ১১৪ সুরার মধ্যে সুরা ইয়াসিনের অবস্থান ক্রমানুসারে ৩৬ নম্বর। সুরাটিতে রয়েছে ৮৩টি আয়াত ও পাঁচটি রুকু। পবিত্র কোরআনের একেক সুরার একেক গুরুত্ব ও ফজিলতের বর্ণনা পাওয়া যায়। হাদিসের ভাষ্যমতে, সুরা ইয়াসিনও একটি ফজিলতপূর্ণ সুরা।
রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক বস্তুর একটি হৃদয় রয়েছে, আর কোরআনের হৃদয় হচ্ছে- ইয়াসিন। যে ব্যক্তি ইয়াসিন পড়বে, আল্লাহ তার আমলনামায় ১০বার পূর্ণ কোরআন পড়ার নেকি দান করবেন।’ (তিরমিজি: ২৮৮৭; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব: ২১৭৫) কারো মৃত্যু আসন্ন মনে হলে তার কাছে বসে সুরা ইয়াসিন পাঠ করা ও নরম স্বরে কালিমায়ে তায়্যিবা পাঠ করতে থাকা উচিত; সম্পদের আলোচনা করা উচিত নয়। (আদ্দুররুল মুখতার: ২/১১৯, ৬/৩৭০, আবু দাউদ: ৩১২১)
মাকিল ইবনে ইয়াসার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (স.) বলেন, ‘তোমরা তোমাদের মৃতদের উপর সুরা ইয়াসিন পড়ো’ (সুনানে নাসায়ি: ১০৯১৩)। আবু হাতেম (রহ.) বলেন, ‘এখানে মৃত বলতে মুমূর্ষু ব্যক্তি উদ্দেশ্য।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৩০০২) আতা বিন আবি রাবাহ (রা.) বর্ণনা করেন, আমি শুনেছি- রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি দিনের বেলায় সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, তার সব হাজত বা প্রয়োজন পূর্ণ করা হবে।’ (ফাজায়েলে আমল: ০১/৫২)
অন্য হাদিসে ইয়হিয়া ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে-স্বস্তিতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে।’ (আহকামুল কোরআন লিল-কুরতুবি: ২/১৫) আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রাতে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তার ওই রাতের সব গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (ইবনুস সিন্নি, আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ: ৪৭)
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহর রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কবরস্থানে প্রবেশ করে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াত করে, আল্লাহ তাআলা কবরবাসীর আজাব হালকা করে দেন এবং তার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ সওয়াব লেখা হয়। (শারহুস সাদুর: ৩০) সুরা ইয়াসিনের ফজিলত নিয়ে কিছু ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য হলো- কোরআনের অন্যান্য আয়াত তেলাওয়াত করলে প্রতিটি অক্ষরে যে পরিমাণ সওয়াব পাওয়া যায়; সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াতেও একই সওয়াব পাওয়া যাবে। কয়েকটি সুরার অতিরিক্ত ফজিলত বর্ণিত হলেও সহিহ হাদিসে সুরা ইয়াসিনের অতিরিক্ত বা বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়নি। তাদের মতে, কিছু দুর্বল হাদিসের বর্ণনায় এ সুরার বিভিন্ন ফজিলতের কথা এসেছে।
তবে, ফাজায়েলের ক্ষেত্রে জয়িফ হাদিস মানলে মুহাদ্দিসিনে কেরামদের মতে কোনো সমস্যা নেই। তাই বেশি বেশি সুরা ইয়াসিন পাঠ করলে কিছু হোক বা না হোক প্রতি অক্ষরে সহিহ হাদিস অনুযায়ী ১০ নেকি পাওয়া যাবে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে নিয়মিত সুরা ইয়াসিন পড়ার তাওফিক দান করুন। একইসঙ্গে পবিত্র কোরআনের কোনো সুরাকেই যেন অবহেলা করা না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।