ধর্ম ডেস্ক
২৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:৫৭ পিএম
ইসলামে মেহমানদারির অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এতে মানুষের আত্মিক ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়। মেহমানদারির সঙ্গে ঈমানের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। নবী কারিম (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।’ (সহিহ বুখারি: ৬০১৮)
রাসুলুল্লাহ (স.) ছিলেন মেহমানদারির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নবী হওয়ার আগে থেকেই তিনি অতিথিসেবায় সচেষ্ট ছিলেন। সাহাবিরাও নবীজির সেই শিক্ষা ভালোভাবে ধারণ করেছিলেন। হাদিসে এমনই একটি ঘটনা উল্লেখ রয়েছে, যেখানে সাহাবির মেহমানদারি দেখে স্বয়ং আল্লাহ তাআলা হেসেছেন অর্থাৎ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.)-এর বরাতে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, জনৈক ক্ষুধার্ত ব্যক্তি নবী করিম (স.)-এর খেদমতে এলো। তিনি খাদ্যদ্রব্য কিছু আছে কি না তা জানার জন্য তাঁর স্ত্রীদের কাছে লোক পাঠালেন। তাঁরা জানালেন, আমাদের কাছে পানি ছাড়া অন্যকিছুই নেই। তখন রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, কে আছে যে এই (ক্ষুধার্ত) ব্যক্তিকে মেহমান হিসেবে নিয়ে নিজের সঙ্গে খাওয়াতে পারো? তখন জনৈক আনসারি সাহাবি (আবু তালহা) বলেন, আমি পারব। এ বলে তিনি মেহমানকে নিয়ে বাড়িতে গেলেন এবং স্ত্রীকে বলেন, রাসুল (স.)-এর মেহমানের সম্মান করো।
আরও পড়ুন: যে হাদিস শুনলে না হেসে পারবেন না
স্ত্রী বললেন, বাচ্চাদের আহার ছাড়া ঘরে অন্যকিছু নেই। আনসারি বলেন, তুমি আহার প্রস্তুত করো এবং বাতি জ্বালাও। এবং বাচ্চারা খাবার চাইলে তাদের ঘুম পাড়িয়ে দাও। (স্বামীর কথামতো) সে বাতি জ্বালাল, বাচ্চাদের ঘুম পাড়াল এবং সামান্য খাবার যা তৈরি ছিল তা উপস্থিত করল। (তারপর মেহমানসহ খেতে বসলেন) বাতি ঠিক করার বাহানা করে স্ত্রী উঠে গিয়ে বাতিটি নিভিয়ে দিলেন। তারপর তাঁরা স্বামী-স্ত্রী উভয়েই অন্ধকারের মধ্যে আহার করার মতো শব্দ করতে লাগলেন এবং মেহমানকে বোঝাতে লাগলেন যে তাঁরাও সঙ্গে খাচ্ছেন। তাঁরা উভয়েই সারারাত অভুক্ত অবস্থায় কাটালেন। ভোরে যখন তিনি রাসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে গেলেন, তখন তিনি (স.) বলেন, আল্লাহ তোমাদের গত রাতের কার্যকলাপ দেখে হেসে দিয়েছেন। অথবা বলেছেন খুশি হয়েছেন এবং এ আয়াত নাজিল করেছেন। (আনসারদের অন্যতম গুণ হলো এই) তারা অভাবগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। আর যাদের অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফল। (সুরা হাশর: ৯; সহিহ বুখারি: ৩৫২৬)
আল্লাহ তাআলা এমন মেহমানদারির গুণ আমাদের সবাইকে দান করুন। আমিন।