ধর্ম ডেস্ক
১০ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:১৭ পিএম
ঝগড়া-বিবাদ বাজে অভ্যাস। এতে ব্যক্তিত্ব নষ্ট হয়; বঞ্চিত হতে হয় বহু কল্যাণ থেকেও। রাসুলুল্লাহ (স.) উম্মতকে ঝগড়া-বিবাদ থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। ঝগড়াকে মুনাফিকের অভ্যাস বলে আখ্যা দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, চারটি (দোষ) যার মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে সে খাঁটি মুনাফিক; একটি বিদ্যমান থাকলে তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকির একটি স্বভাব থেকে যায়। (দোষগুলো হলো) ১. যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, ২. সে সন্ধি চুক্তি করলে তা ভঙ্গ করে, ৩. সে ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং ৪. সে ঝগড়া করলে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে। (মুসলিম: ১১৩)
এখানে অশ্লীল ভাষা ব্যবহারকে মুনাফিকের চরিত্র বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আর অশ্লীল ভাষা ছাড়া তো ঝগড়াই জমে না। তখন মানুষকে শয়তান প্রভাবিত করে আর তারা বিবেক-বুদ্ধি হারিয়ে অশ্লীল কথা বা কাজ করতে দ্বিধাবোধ করে না। এভাবে দুই মুসলমানের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটলে শয়তান খুশি হয়। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটানো শয়তানের জন্য সবচেয়ে আনন্দের খবর। এতে শয়তানের প্রধান খুশি হয়ে তার অনুগত শয়তানকে বুকে জড়িয়ে ধরে। (মুসলিম: ৭২৮৪; আহমদ: ১৪৩৭৭)
আরও পড়ুন: আপনার যে গুনাহের কারণে শয়তানের আনন্দের সীমা থাকে না
ঝগড়া-বিবাদ মানুষকে হেদায়াতের পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। মানুষের ঈমান ও চরিত্রকে কলুষিত করে দেয়। হজরত আবু উমামাহ (সাদি বিন আজলান) (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আমার পরে হেদায়াতপ্রাপ্ত লোক তখনই পথভ্রষ্ট হবে, যখন তারা ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হবে। অতঃপর তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করেন ‘বরং এরা তো এক বিতর্ককারী সম্প্রদায়’ (সুরা যুখরুফ: ৫৮)। (ইবনে মাজাহ: ৪৮)
বুঝা গেল- হেদায়াতপ্রাপ্ত লোকেরা ঝগড়ায় লিপ্ত হবে না, হেদায়াতের পথ থেকে বিচ্যুত হলে, পথভ্রষ্ট হলেই মানুষ অহেতুক ঝগড়ায় লিপ্ত হবে। তাই আমাদের উচিত ঝগড়া থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা। এমনকি যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত বিষয়েও ইসলাম ঝগড়া এড়িয়ে চলতে উৎসাহিত করে।
এমন মানুষদের জন্য জান্নাতের ঘোষণা দিয়ে নবীজি (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ন্যায়সংগত হওয়া সত্ত্বেও ঝগড়া পরিহার করবে আমি তার জন্য জান্নাতের বেষ্টনীর মধ্যে একটি ঘরের জিম্মাদার; আর যে ব্যক্তি তামাশার ছলেও মিথ্যা বলে না আমি তার জন্য জান্নাতের মাঝখানে একটি ঘরের জিম্মাদার আর যে ব্যক্তি তার চরিত্রকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছে আমি তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থিত একটি ঘরের জিম্মাদার। (আবু দাউদ: ৪৮০০)
আরও পড়ুন: অন্যের দোষ গোপন করার পুরস্কার
অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, তোমরা অনুমান থেকে বেঁচে চলো। কারণ অনুমান বড় মিথ্যা ব্যাপার। আর কারো দোষ খুঁজে বেড়িও না, গোয়েন্দাগিরি করো না, পরস্পরকে ধোঁকা দিয়ো না, আর পরস্পরকে হিংসা করো না, একে অন্যের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করো না এবং পরস্পরের বিরুদ্ধাচরণ করো না। বরং সবাই আল্লাহর বান্দা ভাই ভাই হয়ে যাও। (সহিহ বুখারি: ৬০৬৬)
মহান আল্লাহ আমাদের ঝগড়া-বিবাদ এড়িয়ে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।