ধর্ম ডেস্ক
১২ আগস্ট ২০২৪, ০৭:৫৯ পিএম
আল্লাহ তাআলা বান্দার নিয়মিত আমল পছন্দ করেন। এজন্য একসঙ্গে অনেক ইবাদতের চেয়ে ধারাবাহিক আমলের প্রতি উৎসাহিত করেছেন নবীজি (স.)। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হচ্ছে, যা কোনো বান্দা অব্যাহতভাবে করে থাকে— যদিও তা পরিমাণে কম হয়। (মুসলিম: ২৬১৩)
জীবনে সফলতা অর্জনেও তা উপকারী গুণ। যারা একসঙ্গে অনেক কাজ হাতে নেয়, দেখা যায় অল্পদিন পর বিরক্ত বা ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তাদের পক্ষে সফল হওয়া কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু নিয়মমাফিক চেষ্টা ও নিশ্ছিদ্র সাধনা মানুষকে উচ্চতার শিখরে নিয়ে যায়। নিয়মমাফিক কাজেই মূলত বরকত বেশি। একইভাবে ধারাবাহিক আমলের মাধ্যমে বান্দা বিশেষ স্তরে পৌঁছার সুযোগ পায়।
আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (স.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে এমন আমল সবচেয়ে প্রিয় যা কম হলেও স্থায়ীভাবে করা হয়। হাদিসের বর্ণনাকারী কাসেম ইবনে মুহাম্মদ বলেছেন, আয়েশা (রা.) কোনো আমল শুরু করলে তা স্থায়ী ও অবশ্যকরণীয় করে নিতেন। (মুসলিম: ১৭১৫)
আরও পড়ুন: যে আমলে আল্লাহর সাহায্য অবধারিত
অতএব, কোনো আমল যেন ছেড়ে দিতে না হয়, সেজন্য প্রথমে অল্প অল্প করার মাধ্যমে ধারণক্ষমতায় নিয়ে আসতে হবে। যাতে আমলটি সহজ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, কোনো অবস্থায় নেক আমল ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। প্রিয়নবী তাঁর সাহাবিদের আমল শুরু করে আবার ছেড়ে দিতে নিষেধ করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (স.) আমাকে বলেন, হে আবদুল্লাহ! তুমি অমুক ব্যক্তির মতো হয়ো না, সে রাত জেগে ইবাদত করত, পরে রাত জেগে ইবাদত করা ছেড়ে দিয়েছে। (সহিহ বুখারি: ১১৫২)
আমরা জানি যে, ছোট ছোট অনেক আমল আছে, যা নিয়মিত করলে জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। যেমন— ১. ‘যে ব্যক্তি সময়মতো নামাজ আদায়ে যত্নবান হয়, তার জন্য রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর প্রতিশ্রুতি’ (আবু দাউদ: ১৪২০)। ২. ‘যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অজু করে এবং একাগ্রচিত্তে তনুমনে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত’ (আবু দাউদ: ১৬৯)। ৩. ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি তেলাওয়াত করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের জন্য মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা নেই।’ (আস-সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ি: ৯৮৪৮)
আরও পড়ুন: যে আমল করলে জাহান্নামে যেতে হবে না
এ ধরণের আরও অনেক আমল আছে, যেগুলো আমরা নিয়মিত করার চেষ্টা করতে পারি। যেমন- এতিমের লালনপালন, দান-সদকা, মা-বাবার সেবা, ইলম অর্জন, আল্লাহর সুন্দর নামগুলো মুখস্থ করা ইত্যাদি। এসব আমল নিয়মিত করলে হাদিস অনুযায়ী অনেক বেশি ফজিলত লাভ করা যাবে।
আল্লাহর কাছে নিয়মিত আমলের এত গুরুত্ব হওয়া তাঁরই মহান কুদরতের অংশ। আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য নির্ধারিত সময়ে আসমান ও জমিনে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। এই সময়গুলোতে পৃথিবীতে যে পরিবর্তন হয়, সেটা মানুষের শরীর ও মনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। রাতের নিকষ কালো অন্ধকার ভেদ করে প্রভাতের আলো ফোটে, তখন আল্লাহর প্রিয় বান্দা ফজরের নামাজের জন্য দাঁড়িয়ে প্রভুর প্রশংসা করে। এভাবে দিন-রাতের পরিবর্তনের সময় আল্লাহ তাআলা তার বান্দাকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান দিয়েছেন। (আহকামে ইসলাম আকল কি নজর মে, পৃষ্ঠা-৪৮)
আল্লাহ ইচ্ছা করলে এ নামাজ একসঙ্গে অথবা দুই ওয়াক্তে ফরজ করতে পারতেন। কিন্তু আল্লাহ তাআলা নামাজকে পাঁচ সময় ভাগ করে দিয়েছেন; যাতে বান্দা কিছুক্ষণ পরপর আল্লাহকে স্মরণ করে। আর এভাবেই ধীরে ধীরে সে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যেকোনো আমল নিয়মিত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।