ধর্ম ডেস্ক
২৬ জুন ২০২৪, ০৮:১৯ পিএম
মুমিনদের মধ্যে কিছু মানুষ আল্লাহর বিশেষ বান্দার অন্তর্ভুক্ত। হাদিস শরিফের বিভিন্ন বর্ণনায় তাদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। তারা হলেন ১. আল্লাহর পথে জিহাদকারী। ২. হজ পালনকারী। ৩. ওমরা পালনকারী। ৪. মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়কারী। ৫. কোরআন তেলাওয়াতকারী
১. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী
মুমিন ব্যক্তি তার জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ও চিন্তা-ভাবনায় শয়তান ও কুপ্রবৃত্তির বিরুদ্ধে জিহাদ করে এবং সঠিক ক্ষেত্র ও পরিস্থিতিতে বৈধভাবে সশস্ত্র লড়াই করার জন্য প্রস্তুত থাকে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম জিহাদ বা আল্লাহর পথে লড়াই। আল্লাহর কাছে জিহাদকারীদের মর্যাদা অনেক বেশি। এর প্রতিদান জান্নাত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন (এর বিনিময়ে) যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত...’। (সুরা তাওবা: ১১১) মহানবী (স.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, ‘সর্বাধিক উত্তম আমল কোনটি?’ তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ওপর ঈমান আনা।’ পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, ‘এরপর কোনটি?’ তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।’ পুনরায় জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তারপর কোনটি?’ তিনি বলেন, ‘হজে মাবরুর বা মকবুল হজ করা।’ (বুখারি: ১৪২৯)
২. হজ পালনকারী
হাজিরা আল্লাহর মেহমান বা প্রতিনিধি। ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (স.) বলেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদকারী, হজযাত্রী ও ওমরা যাত্রীরা আল্লাহর প্রতিনিধি। তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তিনি তা কবুল করেন এবং কিছু চাইলে তা তাদের দান করেন।’ (ইবনে মাজাহ: ২৮৯৩; নাসাঈ: ২৬২৫) হজের প্রতিদান একমাত্র জান্নাত। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, এক ওমরা আরেক ওমরা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহর ক্ষতিপূরণ হয়ে যায়। আর হজ্বে মাবরুরের (কবুল হজ) প্রতিদান তো জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়। (বুখারি: ১৭৭৩, মুসলিম: ১২১)
আরও পড়ুন: হজ ও ওমরা পালনকারীরা যেসব প্রতিদান পাবেন
৩. ওমরা পালনকারী
ওমরা পালনকারীরাও আল্লাহর প্রতিনিধি বা বিশেষ বান্দা। উল্লেখিত হাদিসই এর দলিল। ওমরার আরও অনেক ফজিলত রয়েছে। হজ ও ওমরা দরিদ্র ও গুনাহ একসঙ্গে মিটিয়ে দেয়। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘তোমরা হজ ও ওমরা ধারাবাহিকভাবে পালন (হজ সমাপনের পর ওমরা এবং ওমরার পর হজ) করবে, কেননা তা (এ দুটি) অভাব-অনটন ও গুনাহগুলোকে মিটিয়ে দেয়, যেমন (কামারের) হাঁপর লোহার মরিচা দূর করে থাকে।’ (নাসায়ি: ২৬৩০)
৪. মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়কারী
মসজিদে গমনকারীরাও আল্লাহর মেহমান। মহান আল্লাহ প্রতি ওয়াক্তে মসজিদে আগত মুসল্লিদের জন্য জান্নাতে মেহমানদারির আয়োজন করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারির ব্যবস্থা করে রাখেন।’ (বুখারি: ৬৬২)
আরও পড়ুন: নামাজের আগে-পরে মসজিদে অবস্থানের ফজিলত
৫. কোরআন তেলাওয়াতকারী
হাদিসে কোরআন তেলাওয়াতকারীদের আল্লাহর পরিজন বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘কতক লোক আল্লাহর পরিজন। সাহাবিগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! তারা কারা? তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াতকারীগণ আল্লাহর পরিজন এবং তাঁর বিশেষ বান্দা।’ (ইবনে মাজাহ: ২১৫)