images

ইসলাম

জিলহজের প্রথম দশক নাকি রমজানের শেষ দশক শ্রেষ্ঠ?

ধর্ম ডেস্ক

০৩ জুন ২০২৪, ০৬:৩০ পিএম

আল্লাহ তাআলার কাছে কিছু মাস, নির্দিষ্ট কিছু দিন বা রাত বেশ মর্যাদাপূর্ণ। আসলে কাউকে বা কোনোকিছুকে মর্যাদাপূর্ণ করা বা বিশেষায়িত করা তাঁরই ইচ্ছাধীন বিষয়। যেমন- আল্লাহ তাআলা মসজিদুল হারাম, মসজিদে নববি ও মসজিদুল আকসাকে পৃথিবীর অন্য মসজিদগুলোর ওপর মর্যাদা দিয়েছেন, হজের মাসসহ ৪টি মাসকে সম্মানিত ঘোষণা করেছেন, কদরের রাতকে সব রাতের ওপর, রমজান মাসকে সব মাসের ওপর এবং মুহাম্মদ (স.)-কে অন্য নবীদের ওপর মর্যাদা দান করেছেন। 

ইসলামে দুটি দশকেরও বিশেষত্ব রয়েছে। জিলহজের প্রথম দশক ও রমজানের শেষ দশক। কোরআন-হাদিসের অসংখ্য দলিল থেকে এ কথা বুঝতে অসুবিধা হবে না যে, জিলহজ মাসের প্রথম দশকের আমল খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই ১০ দিনের ইবাদত আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে যেকোনো দিনের ভালো কাজের চেয়ে জিলহজ মাসের প্রথম ১০ দিনের আমল অধিক প্রিয়। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়? তিনি বললেন, না, আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে যে ব্যক্তি তার জান-মাল নিয়ে জিহাদে বের হয় এবং এর কোনো একটি নিয়েও ফিরে না আসে তার কথা স্বতন্ত্র।’ (সুনানে আবি দাউদ: ২৪৩৮)

আরও পড়ুন: জিলহজের প্রথম দশকের আমল ও অনন্য ফজিলত

এ প্রসঙ্গে আলেমরা বলেন, জিলহজ মাসে কয়েকটি মহান ইবাদত রয়েছে। যেমন- আরাফার দিন; এটি ক্ষমা ও মাগফেরাতের দিন, জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও নাজাতের দিন। এছাড়াও এতে রয়েছে কোরবানির দিন। কোরবানি আল্লাহর কাছে মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। (তিরমিজি: ৮৯৩; নাসায়ি: ৩০১৬; সহিহ ইবনে খুজাইমা: ২৮৬৬) হাফেজ ইবনে হাজর (রহ) ফাতহুল বারি গ্রন্থে বলেন,‘জিলহজের দশকের বৈশিষ্ট্যের কারণ হলো, এতে সকল মৌলিক ইবাদতের সন্নিবেশ ঘটে। যথা: সালাত, সিয়াম, সদকা, হজ ইত্যাদি। অন্যকোনো দিন এতগুলো ইবাদতের সমাবেশ ঘটে না।’ (ফাতহুল বারি: ২/৪৬০)

আবার জিলহজের প্রথম ১০ দিন সম্পর্কে মহান আল্লাহ শপথ করেছেন। এ কারণেও জিলহজের প্রথম দশকের মর্যাদা বেড়ে যায়। ইরশাদ হয়েছে- ‘ভোর বেলার কসম! আর কসম দশ রাতের!’ (সুরা ফজর: ১-২) এখানে ১০ রাত বলতে জিলহজের ১০ রাতকেই বোঝানো হয়েছে।

এখন প্রশ্ন দাঁড়ায়, রমজানের শেষ দশক অধিক ফজিলতপূর্ণ নাকি জিলহজ মাসের প্রথম দশক? এর উত্তরে আলেমরা বলেন, রমজানের শেষ দশকের রাতগুলো বেশি ফজিলতপূর্ণ। কারণ, তাতে লাইলাতুল কদর রয়েছে। অপরদিকে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের দিনগুলো অধিকতর ফজিলতপূর্ণ। কারণ এ দিনগুলোতে তালবিয়ার দিন, আরাফার দিন, কোরবানির দিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনসমূহ রয়েছে। (জাদুল মাআদ: ১/৫৬-৫৭)

আরও পড়ুন: হজের গুরুত্ব ও ফজিলত

আবার কিছু আলেমের মতে, রাত-দিন সব মিলিয়ে হিসাব করলেও রমজানের শেষ দশকের চেয়ে জিলহজের প্রথম দশকের গুরুত্ব বেশি এবং জিলহজের প্রথম ১০ দিনের ইবাদত সারাবছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয়। এর দলিল হিসেবে এই হাদিসটি লক্ষণীয় যে, রাসুল (স.) বলেন, ‘আল্লাহর কাছে জিলহজের প্রথম দশকের নেক আমলের চেয়ে বেশি প্রিয় অন্যকোনো দিনের আমল নেই। এ দিনগুলোর এক দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমতুল্য এবং এক রাতের ইবাদত শবে কদরের ইবাদততুল্য।’ (তিরমিজি, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা-১৫৮)

শেষ কথা হলো- রমজানের শেষ দশক এবং জিলহজ মাসের প্রথম দশক দুইটাই আল্লাহ তাআলার কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ সময়। রমজানের শেষ দশকে যেমন ইবাদত-বন্দেগীতে ব্যস্ত হয়ে পড়া উচিত, জিলহজের প্রথম দশকও আমলহীন থাকা মোটেও উচিত নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেকআমলগুলো কবুল করুন। নবীজির অনুসরণে মর্যাদাপূর্ণ দিন ও রাতগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।