Dhaka Mail Logo

ইসলাম

ঋতুস্রাব অবস্থায় কোরআন শেখানো যাবে?

ধর্ম ডেস্ক

১৩ মে ২০২৪, ০৫:২৯ পিএম

কোরআন মাজিদ সাধারণ কোনো বই নয়। পবিত্র কোরআন পাঠ করতে হয় পবিত্র অবস্থায়, যথাযথ ভক্তি সহকারে। অপবিত্র অবস্থায় কোরআন স্পর্শ করা নিষেধ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘যারা পূত-পবিত্র তারা ছাড়া অন্য কেউ তা (কোরআন) স্পর্শ করে না।’ (সুরা ওয়াকিয়া: ৭৯) 

ঋতুস্রাব, প্রসব পরবর্তী স্রাব বা গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় কোরআন তেলাওয়াত করা, শিক্ষা দেওয়া ও স্পর্শ করা কোনোটিই জায়েজ নয়। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঋতুমতি মহিলা ও গোসল ফরজ হয়েছে—এমন ব্যক্তি যেন কোরআন মাজিদ না পড়ে। (আলইলাল, ইবনে আবি হাতিম: ১/৪৯)

আরও পড়ুন: সহবাস না করলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,  كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقْرِئُنَا الْقُرْآنَ مَا لَمْ يَكُنْ جُنُبًا ‘শরীর নাপাক না হলে রাসুলুল্লাহ (স.) আমাদের সর্বাবস্থায় কোরআন তেলাওয়াত করাতেন। (মুসনাদে আহমদ: ৬২৭,সুনানে তিরমিজি: ১৪৬, সহিহ ইবনে হিব্বান: ৭৯৯)

তাই যেসব মহিলা কোরআন মাজিদ শেখানোর সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা অপবিত্রতার সময় তা থেকে বিরত থাকবে। প্রয়োজনে অন্য নারীর মাধ্যমে কাজ সমাধা করে নিবে। যদি তা-ও সম্ভব না হয় তাহলে তারা কেবল শিক্ষার্থীদের পড়া শুনতে পারবে এবং প্রয়োজনের সময় দুয়েক শব্দ বলে দিতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে পূর্ণ আয়াত একত্রে তেলাওয়াত করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: সহবাসের পর গোসল ছাড়া দৈনন্দিন কাজ করা যাবে?

তবে, অপবিত্র অবস্থায় নারীরা দোয়া হিসেবে বিভিন্ন আয়াত পাঠ করতে পারবে। যেমন আয়াতুল কুরসি। দোয়ার অর্থবহ সুরাও দোয়ার নিয়তে পড়া যাবে। যেমন সুরা নাস ও ফালাক ইত্যাদি দোয়ার নিয়তে পড়া জায়েজ হবে। (ফাতহুল কাদির: ১/১৬৮, রদ্দুল মুহতার: ১/১৭২, আহসানুল ফতোয়া: ২/৭১)

(তথ্যসূত্র: মুসান্নাফ আব্দুর রাজজাক: ১৩০৩; মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ১০৯০; আদ্দুররুল মুখতার: ১/১৭২; আলবাহরুর রায়েক: ১/১৯৯; ফাতহুল কাদির: ১/১৪৮; ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৩৮; ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া: ১/৪৭৯; আলমুহিতুল বুরহানি: ১/৪০১)