images

ইসলাম

নারীরা শাওয়ালে কাজা রোজা রাখলে কি নফলের সওয়াবও পান?

ধর্ম ডেস্ক

২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:২৯ পিএম

ইসলামে ওজরের কারণে ফরজ রোজা না রাখা বা ভেঙে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে সেই রোজা কাজা করা জরুরি। কারো যদি রমজানের রোজা কাজা হয়, বিশেষ করে নারীদের পিরিয়ডকালীন কাজা রোজাগুলো তারা শাওয়ালের বিশেষ ফজিলতপূর্ণ ৬ রোজার আগেই রাখেন। কারণ শাওয়ালের নফল রোজাগুলো আদায় করতে হয় কাজা রোজার পরে। (আল মুগনি: ৪৪০)

অনেকে জানতে চান, শাওয়াল মাসে নারীদের কাজা রোজা আদায়ের মাধ্যমে কি কাজা ও শাওয়ালের নফল রোজা-দুইটার সওয়াব একসঙ্গে লাভ হয়?

এর উত্তর হলো ‘না’। কারণ, রমজানের রোজার কাজা আদায় করা ফরজ। এরপর শাওয়ালের নফল রোজার ফজিলত আলাদা। 

কাজা রোজা আদায়ে বিলম্ব করাও বোকামি। বরং যত দ্রুত সম্ভব তা আদায় করা উচিত। কারণ, ক্ষণস্থায়ী জীবনে আকস্মিকভাবে মৃত্যু চলে আসতে পারে। তখন আর ফরজ রোজাটি আর রাখা সম্ভব হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন তাদের নির্ধারিত (মৃত্যুর) সময় উপস্থিত হয় তখন তারা আর এক মুহূর্তও বিলম্ব করতে পারে না এবং এর চেয়ে একটু এগিয়েও আসতে পারে না।’ (সুরা ইউনুস: ৪৯)

আরও পড়ুন: শাওয়ালের ৬ রোজার নিয়ম কানুন ও ফজিলত

এছাড়াও শাওয়ালের ৬ রোজার বিশেষ ফজিলত লাভ করতে হলে রমজানের কাজা রোজা আদায়ের প্রয়োজন রয়েছে। হিসাবটা হলো- রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারাবছরই রোজা রাখল।’ (মুসলিম: ১১৬৪; আবু দাউদ: ২৪৩৩)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেন, যেহেতু যেকোনো নেক আমলের সওয়াব ১০ গুণ (দ্র: সুরা আনআম: ১৬০), সেই হিসেবে রমজান মাসের রোজাকে ১০ দিয়ে গুণ করলে ১০ মাস রোজার সওয়াব হয়। এর সঙ্গে শাওয়ালের ৬ রোজা যোগ করলে আরও ৬০টি রোজা যোগ হয়। এভাবে ১২ মাসের রোজা (পূর্ণ এক বছর) সম্পূর্ণ হয়। এ সম্পর্কে হাদিসও বিদ্যমান রয়েছে। সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ সব ভালো কাজের প্রতিদান ১০ গুণ করে দেন। তাই রমজান মাস ১০ মাসের সমতুল্য এবং পরবর্তী (শাওয়াল মাসের) ছয় রোজার মাধ্যমে এক বছর পূর্ণতা লাভ করে।’ (নাসায়ি: ২/১৬২)

আরও পড়ুন: যেসব দিনে নফল রোজা রাখতেন নবীজি

অতএব, ফরজ রোজার কাজা যেমন বিলম্ব ছাড়াই আদায় করা উচিত, একইসঙ্গে শাওয়ালের নফল রোজাগুলোর পূর্ণ ফজিলত লাভের জন্যও রমজানের কাজা রোজাগুলোর ভুমিকা রয়েছে।

শাওয়ালের ৬ রোজা ঈদের দিনটি বাদ দিয়ে শাওয়াল মাসের যেকোনো ছয়দিনে রাখলেই হবে। কেউ চাইলে ধারাবাহিকভাবেও রাখতে পারে, আবার বিরতি দিয়ে দিয়ে ছয়টি রোজা পূরণ করারও অবকাশ রয়েছে। 

ইমাম নববি (রহ) বলেন, শাওয়াল মাসের ছয় রোজা রাখা মোস্তাহাব। শাওয়াল মাসের প্রথম দিকে কোনো বিরতি না দিয়ে ধারাবাহিকভাবে রোজাগুলো রাখা মোস্তাহাব। আর যদি বিরতি দিয়ে আলাদা আলাদাভাবে রাখে তবুও জায়েজ আছে এবং এভাবেও সুন্নত পালনকারী হিসেবে গণ্য হবে। (আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব, ইসলাম সওয়াল ওয়া জওয়াব)