images

ইসলাম

সাহাবিদের ঈদ উদযাপন যেমন ছিল

ধর্ম ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫১ পিএম

সাহাবিদের যুগে কেনাকাটার ধুমধান ছিল না, কিন্তু আনন্দ-খুশিরও কমতি ছিল না। ঈদের দিন সাহাবিদের ঈদ আনন্দের ভাগাভাগির পদ্ধতি ছিল ভিন্ন রকম; নির্মল, সুন্দর। পরস্পর দেখা হলে তারা দোয়ার মাধ্যমে ঈদের আনন্দ উদযাপন করতেন। যা ছিল প্রকৃত ঈদ আনন্দের অনন্য উদাহরণ।

সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রহ.) বলেন, ঈদের দিন সাহাবায়ে কেরাম একসঙ্গে হলে একে-অপরকে বলতেন- ‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম’ অর্থ: ‘আল্লাহ কবুল করুন আমাদের থেকে এবং আপনাদের থেকে (সব আমল)।’ (ফাতহুল বারি: ২/৪৪৯)

ঈদের দিনের শুরুতে তারা পবিত্রতা অর্জন ও পরিচ্ছন হতেন। সামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পোশাক পরিধান করতেন। হজরত নাফে (রহ.) বলেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) দুই ঈদে উত্তম পোশাক পরতেন। (সুনানে কুবরা, বায়হাকি: ৬১৪৩)

আরও পড়ুন: ঈদের দিনে করণীয় ও বর্জনীয়

সাহাবায়ে কেরাম সকল ক্ষেত্রে নবীজিকে অনুসরণ করতেন। আর নবীজি (স.) ঈদের দিন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতেন। ছোট-বড় সবার আনন্দের প্রতি খেয়াল করতেন, ছোটদের সঙ্গে নিয়ে তাকবির বলতে বলতে ঈদগাতে যেতেন; এমনকি মদিনার ছোট ছোট শিশু-কিশোরের সঙ্গে বিশ্বনবী (স.) আনন্দ করতেন। তাদের কোনো বৈধ আনন্দ উদযাপনে বাধা দিতেন না। (বুখারি: ২৯০৬, ৩৯৩১, ২৯০৭; সুনানে কুবরা বায়হাকি: ৬৩৪৯)

এর কারণ হিসেবে নবীজি (স.) এক হাদিসে বলেন, ইহুদিরা যেন জানতে পারে, আমাদের ধর্মে প্রশস্ততা আছে। নিশ্চয়ই আমি একনিষ্ঠ ও মহানুভব ধর্ম ইসলাম নিয়ে প্রেরিত হয়েছি। (মুসনাদে আহমদ: ২৫৯৬২)

আরও পড়ুন: ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে যে দোয়া পড়া সুন্নত

তবে, সাহাবায়ে কেরাম মাহে রমজানে গুনাহ মাফ হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে বেশি চিন্তিত থাকতেন। এমনকি ঈদের দিনও সেই চিন্তা থাকত। ঈদের দিন আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলতেন, জানি না, আমাদের মধ্যে কে পুরস্কৃত, তাকে আমরা শাবাশি দিতাম! আর কে বঞ্চিত, তার জন্য আমরা শোক প্রকাশ করতাম! হে পুরস্কৃত! তোমাকে অভিনন্দন। হে বঞ্চিত! আল্লাহ তোমার ক্ষতিপূরণ করুন। (লাতাইফুল মাআরিফ, পৃষ্ঠা-২৩৫)

সারকথা হলো- নবীজি ও সাহাবিদের ঈদ উদযাপন একদিকে ছিল ইবাদত, ধর্মীয় আচার এবং আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উপায়; অন্যদিকে মনের দুঃখ-কষ্ট ও কালিমা দূর করে পরিবার-পরিজন, সন্তানাদি ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠার অনন্য মাধ্যম।