images

ইসলাম

ঈদের জামাতে নারীদের অংশগ্রহণ জায়েজ?

ধর্ম ডেস্ক

১০ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৫৫ পিএম

মদিনায় হিজরতের পরের বছর থেকে ঈদের নামাজের সূচনা হয়। সে যুগে নবীজি (স.) ঈদগাহে নারীদেরও উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিতেন। কিন্তু পরবর্তীতে ফিতনার আশংকা বেড়ে যাওয়ায় নারীদের ঈদগাহে যেতে নিষেধ করা হয়। নবীজির ইন্তেকালের পর আমিরুল মুমিনিন হজরত ওমর (রা.) নারীদের ঈদগাহে যাওয়া বিষয়টি অপছন্দ করেন। হজরত আয়েশা (রা.)-ও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত নারীদের মসজিদে কিংবা ঈদগাহে যাওয়ার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা হয়।

এক হাদিসে উম্মে আতিয়্যাহ (রা.) বর্ণনা করেন, ঈদের দিন আমাদেরকে বের হওয়ার আদেশ দেওয়া হতো, আমরা কুমারী মেয়েদের, এমনকি ঋতুবতী মহিলাদেরও ঘর থেকে বের করতাম। অতঃপর পুরুষদের পেছেনে থেকে তাদের তাকবিরের সাথে সাথে তাকবির পড়তাম এবং তাদের দোয়ার সাথে সাথে আমরাও ওই দিনের বরকত ও পবিত্রতা লাভের দোয়া করতাম। (সহিহ বুখারি: ৯৭১)

নবীজির আমলে মূলত চার কারণে নারীদের ঈদগাহে উপস্থিত হওয়ার অনুমতি ছিল। ১. পর্দার বিধান না থাকা ২. মুসলিম উম্মাহর আধিক্য প্রকাশ করা ৩. তালিম গ্রহণ করা এবং ৪. নারীদের জন্য সুব্যবস্থা ও সুন্দর নিয়মনীতি কার্যকর থাকা।

আরও পড়ুন: ঈদের নামাজের সঠিক নিয়ম

উল্লেখিত হাদিসেই দেখা যাচ্ছে- ঋতুবতী মহিলারাও ঈদগাহে উপস্থিত হতেন। অথচ, শরিয়তে ঋতুবতী মহিলাদের জন্য নামাজ পড়া হারাম। তাদের মসজিদে আসতে উৎসাহ দেওয়া হত মূলত বেদ্বীনদের কাছে মুসলিমদের সংখ্যাধিক্য দেখানোর উদ্দেশ্যে। এছাড়া নবীজির যুগে নারীদের যথারীতি মসজিদে এসে জামাতে নামাজ পড়ার সুব্যবস্থা ছিল। তখন প্রথমে পুরুষ এরপর বাচ্চা ছেলেরা ও এরপর মহিলারা নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। পরবর্তীতে পর্দার হুকুম নাজিল হয় এবং ফেতনা থেকে বাঁচতে তাদেরকে জামাতে আসতে সরাসরি নিষেধ না করলেও নিরুৎসাহিত করা হয়। রাসুল (স.) বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর বান্দিদের মসজিদে আসতে বাধা দিও না, তবে তাদের জন্য নিজ ঘরবাড়িই উত্তম স্থান।’ (আবু দাউদ: ৫৬৭)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, মহিলাদের জন্য ঘরের আঙ্গিনায় নামাজ আদায়ের চেয়ে তার গৃহে নামাজ আদায় করা উত্তম। গৃহে নামাজ আদায়ের চেয়ে তার গোপন কামরায় নামাজ আদায় করা উত্তম। (আবু দাউদ: ৫৭০) আরেক নির্দেশনায় বলা হয়- কোনো নারী মসজিদে আসতে চাইলে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার না করে।’ (সহিহ মুসলিম: ৪৪৩ ও ৪৪৪, আবু দাউদ ৫৬৫)

এভাবে ধীরে ধীরে ফিতনার করাল গ্রাস থেকে উম্মাহকে বাঁচাতে নারীদের জন্য মসজিদে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। সর্বপ্রথম হজরত ওমর (রা.) ইজতেহাদ করে নারীদের মসজিদে এসে জামাতে নামাজ পড়তে নিষেধ করে দেন। এতে কোনো সাহাবির আপত্তি তো ছিলই না, বরং তাঁরা এই নিষেধাজ্ঞায় সম্পূর্ণ একমত ছিলেন। এরপর নারীরা হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.)- এর কাছে গিয়ে এ ব্যাপারে অভিযোগ করেন, তখন আয়েশা (রা.) বলেন, যদি নবীজি (স.) তোমাদের এ অবস্থায় পেতেন, তবে অবশ্যই তিনিও তোমাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন। (সহিহ বুখারি: ৮৬৯, মুসলিম: ৪৪৫, আবু দাউদ: ৫৬৯)

আরও পড়ুন: রমজানে পিরিয়ডের দিনগুলোতে নারীরা কি রোজার সওয়াব পান?

ঈদের নামাজ নারীদের ওপর ওয়াজিব নয়। তাই তাদের ঈদগাহে যাওয়ার প্রয়োজনও নেই। সাহাবায়ে কেরাম অনেকেই নারীদের ঈদগাহে যেতে নিরুৎসাহিত করতেন। নাফে (রাহ.) আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর পরিবারের নারীদেরকে দুই ঈদে ঈদগাহে যেতে দিতেন না। (আলআওসাত: ৪/৩০১)
 
উরওয়া তার পিতা (যুবাইর রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নিজ পরিবারের নারীদেরকে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাতে যেতে দিতেন না। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৫৮৪৬)

হজরত ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আলআনসারি (রহ.) বলেন, لَا نَعْرِفُ خُرُوْجَ الْمَرْأةِ الشَّابَّةِ عِنْدَنَا فِي الْعِيْديْنِ আমাদের সময়ে দুই ঈদের জন্য যুবতী নারীদের বের হওয়ার প্রচলন ছিল না। (আলআওসাত: ৪/৩০২; উমদাতুল কারি: ৩/৩০৫)
 
হযরত ইবরাহিম নাখায়ি (রহ) বলেন, يُكْرَهُ خُرُوجُ النِّسَاءِ فِي الْعِيدَيْن উভয় ঈদে মহিলাদের (নামাজের জন্য) বাইরে যাওয়া মাকরুহ। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা: ৫৮৪৬)

উল্লেখিত নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত দলিলাদির মূল কারণ হলো- ফেতনার আশঙ্কা। বর্তমান যুগে নারী-ফেতনা বেড়ে যাওয়ার আশংকা বেশি, তাই আলেমরা তাদেরকে ঈদের জামাতসহ সবরকম জামাতে শরিক হতে বারণ করে থাকেন।

তবে, ফেতনার কোনোরকম আশঙ্কা না থাকলে এবং পর্দার বিধান পালনসহ নারীদের সুন্দর ব্যবস্থা থাকলে জামাতে শরিক হতে নিষেধ নেই। উল্টো পরিস্থিতিতে নাজায়েজ হবে। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামি শরিয়তের হুকুম আহকাম বোঝার ও মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।