ধর্ম ডেস্ক
২৭ মার্চ ২০২৪, ১২:১৫ পিএম
পবিত্র রমজান মাসের সিয়াম সাধনার পূর্ণতা ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতা অর্জনে ‘সদকাতুল ফিতর’ বা ফিতরা এক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ঈদের আনন্দ যেন সমাজের প্রতিটি স্তরে, বিশেষ করে অভাবী মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়- ইসলাম সেই চমৎকার ব্যবস্থা রেখেছে এই ফিতরার মাধ্যমে। তবে ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে পরিবার ও অধীনস্তদের নিয়ে অনেকের মনেই নানা প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে, স্ত্রীর ফিতরা আদায় করা স্বামীর ওপর বাধ্যতামূলক কি না, তা নিয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন।
ঈদুল ফিতরের দিন আদায় করা সদকাকেই মূলত সদকাতুল ফিতর বলা হয়। ইসলামি শরিয়তে এটি অত্যন্ত গুরুত্ববহ। হাদিস শরিফে এসেছে- ‘ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন ও নারী-পুরুষ সবার ওপরই এটি ওয়াজিব।’ (সহিহ বুখারি: ১৫১২)
আরও পড়ুন: ফিতরা কেন দেবেন, কাকে দিলে বেশি সওয়াব পাবেন
যার ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, তিনি নিজের পক্ষ থেকে যেমন আদায় করবেন, তেমনি নিজের অধীনদের পক্ষ থেকেও আদায় করবেন। ফিতরার নিসাব হলো জাকাতের নিসাবের সমপরিমাণ সম্পদ থাকা। তবে জাকাতের ক্ষেত্রে সম্পদের ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত হলেও, ফিতরার ক্ষেত্রে এই বর্ষ অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। (ফাতহুল কাদির: ২/২৮১)
এমনকি পবিত্র রমজানের শেষ দিনেও যদি কোনো নবজাতক দুনিয়ায় আসে কিংবা কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করে, তবে তার পক্ষ থেকেও এই ফিতরা আদায় করতে হবে। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ১/১৯২)
রাসুলুল্লাহ (স.) সদকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন মূলত দুটি মহৎ উদ্দেশ্যে-
আরও পড়ুন: সর্বনিম্ন কত টাকা থাকলে জাকাত ফরজ?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে- স্ত্রীর ফিতরা কি স্বামীকেই আদায় করতে হবে? অর্থাৎ স্ত্রীর পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায় করা কি স্বামীর জন্য ওয়াজিব বা বাধ্যতামূলক?
নির্ভরযোগ্য ইসলামি আইনবিদ ও ফিকহবিদদের মতে, এর উত্তর হলো- ‘না’। অর্থাৎ স্ত্রীর পক্ষ থেকে সদকাতুল ফিতর আদায় করা স্বামীর জন্য ‘ওয়াজিব’ নয়। তবে স্ত্রীর ফিতরা স্বামী স্বতঃস্ফূর্তভাবে আদায় করে দিলে তা আদায় হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে ফিতরা আদায়ের আগে স্ত্রীকে অবগত করে নেওয়া উত্তম; তবে না জানালেও ফিতরা আদায় হয়ে যাবে। (ফতোয়া খানিয়া: ১/২২৮; আলবাহরুর রায়েক: ২/২৫২; ফতোয়া বাজজাজিয়া: ৪/১০৬; তাতারখানিয়া: ২/৪২৪; হেদায়া: ১/২০৯; দুররে মুখতার: ৩/৩৮৫)
সদকাতুল ফিতর কেবল একটি দান নয়, বরং এটি সামাজিক সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য নিদর্শন। পরিবারের কর্তা হিসেবে সামর্থ্য থাকলে স্ত্রী ও পরিজনের ফিতরা আদায় করে দেওয়া সৌহার্দ্য ও সওয়াবের পরিচায়ক। রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে ইবাদতকে আল্লাহর দরবারে কবুল করানোর এই সুযোগ আমাদের সবার হাতছাড়া করা উচিত নয়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সহিহভাবে শরিয়তের বিধানগুলো পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।