images

ইসলাম

সৎকর্মের আগ্রহ আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের ইঙ্গিত

ধর্ম ডেস্ক

২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩১ পিএম

বান্দার প্রতি আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও ভালোবাসা অসীম। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- إِنَّ ٱللَّهَ بِٱلنَّاسِ لَرَءُوفٞ رَّحِيمٞ ‘নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা বাকারা: ১৪৩) কিন্তু কোনো বান্দাকে তিনি বিশেষ অনুগ্রহ করেন, কল্যাণ দান করেন এবং ভালোবাসেন। এর অন্যতম আলামত হলো- অন্তরে সৎকর্ম তথা নেক আমলের আগ্রহ তৈরি হওয়া এবং বেশি বেশি নেক আমল করা।

ভালোবাসার বান্দাকে আল্লাহ তাআলা নেক আমলের অবারিত সুযোগ দিয়ে থাকেন। হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তাকে মৃত্যুর আগে পবিত্র করেন। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, পবিত্র করেন কীভাবে? তিনি বললেন, মৃত্যুর আগে তাকে নেক আমলের তাওফিক দেন। অতঃপর তার ওপর তার মৃত্যু ঘটান’। (সহিহুল জামে: ৩০৬)

আরও পড়ুন: বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা কেমন?

আনাস (রা.) হতে বর্ণিত অপর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন—‘আল্লাহ তাআলা যখন তাঁর বান্দা সম্পর্কে কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন তাকে আমল করতে দেন। বলা হলো, হে আল্লাহর রাসুল (স.)! কীভাবে তিনি আমল করতে দেন? তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে তিনি তাকে নেক আমলের তাওফিক দান করেন’। (তিরমিজি: ২১৪২; মেশকাত: ৫২৮৮)

আল্লাহ তাআলাকে রাজিখুশি করতে হলে নেক আমলের বিকল্প নেই। বেশি বেশি নেক আমলের গুরুত্ব এতই বেশি যে, আল্লাহ তাআলা এর জন্য প্রতিযোগিতা করতে বলেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা নেক কাজে পরস্পর প্রতিযোগিতা করো।’ (সূরা মায়েদা: ৪৮)

নেক আমলকারীরা ধন্য। হাদিসের ভাষায় সুমিষ্ট। এক হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কল্যাণ চান, তখন সে বান্দাকে সুমিষ্ট করেন। জিজ্ঞেস করা হলো সুমিষ্ট কী? তিনি বললেন, মৃত্যুর আগে ভালো কাজ তার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। অতঃপর এর ওপরই তার মৃত্যু হয়’। (আহমদ: ১৭৮১৯; সহিহ ইবনে হিববান: ৩৪২; সহিহাহ: ১১১৪)

আরও পড়ুন: ৪ আলামতে বুঝবেন আল্লাহ আপনাকে ভালোবাসেন

উল্লেখ্য, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করাও কল্যাণলাভের উপায়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন—‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন। আল্লাহই দানকারী আর আমি বণ্টনকারী।’ (বুখারি: ৭১; মুসলিম: ১০৩৭; মেশকাত: ২০০)

প্রজ্ঞা বা দ্বীনি জ্ঞান মহান আল্লাহপ্রদত্ত অপার নেয়ামত। অমূল্য এই সম্পদ যাদের নসিব হয়, তারা পরম ভাগ্যবান। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘আপনি বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? বুদ্ধিমান লোকেরাই তো নসিহত গ্রহণ করে থাকে। (সুরা জুমার: ৯)

রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে কোরআন শিক্ষা করে এবং শিক্ষা দেয়’ (বুখারি: ৫০২৭)। আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে আল্লাহর কিছু পরিবারভুক্ত লোক আছে।’ সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, তারা কারা? তিনি বললেন, ‘যারা কোরআনের ধারক-বাহক; এরা আল্লাহর পরিবারভুক্ত ও তার বিশেষ লোক।’ (তারগিব ওয়াত তারহিব: ০২/৩০৩)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে দ্বীনি জ্ঞান অর্জন ও বেশি বেশি নেক আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।