ধর্ম ডেস্ক
০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০১:২২ পিএম
ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ নামাজ। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঙ্গে রয়েছে আরও কিছু সুন্নত ও নফল নামাজ। এর মধ্যে সুন্নতে মুয়াক্কাদার গুরুত্ব অনেক বেশি। রাসুলুল্লাহ (স.) নিয়মিত সুন্নতে মুয়াক্কাদা পড়তেন। ওজরবিহীন কখনো ছাড়তেন না।
সুন্নতে মুয়াক্কাদা ওয়াজিবের মতোই। অর্থাৎ ওয়াজিবের ব্যাপারে যেমন জবাবদিহি করতে হবে, তেমনি সুন্নতে মুয়াক্কাদার ক্ষেত্রে জবাবদিহি করতে হবে। তবে ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ার জন্য সুনিশ্চিত শাস্তি পেতে হবে, আর সুন্নতে মুয়াক্কাদা ছেড়ে দিলে কখনো মাফ পেয়েও যেতে পারে। আবার শাস্তিও হতে পারে। ফিকহের কিতাবে এসেছে, ওজরবিহীন এমন সুন্নত ত্যাগকারীকে তিরস্কার করা হবে, তবে তাকে ফাসেক বা কাফের বলা যাবে না। (আত-তাআরিফাতুল ফিকহিয়্যাহ: ৩২৮, আল-মুজিজ ফি উসুলিল ফিকহ: ৪৩৯-৪০)
আরও পড়ুন: জুমার আগের চার রাকাত সুন্নত কি নবীজি পড়তেন?
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে-পরে প্রায় ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদার অত্যধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। হাদিসে এ নামাজের ব্যাপারে বলা হয়েছে- এগুলো জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম। উম্মে হাবিবা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (স.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ পড়বে, এর প্রতিদান হিসেবে জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর বানানো হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ৭২৮)
এই ১২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা হলো— জোহরের আগে চার রাকাত। পরে দুই রাকাত। মাগরিবের পরে দুই রাকাত। এশার পরে দুই রাকাত। ফজরের আগে দুই রাকাত।’ (সূত্র: তিরমিজি: ৬৩৬২)
আরও পড়ুন: নামাজের যেসব ভুল নিয়ে সতর্কতা জরুরি
সুন্নত নামাজ খুবই গুরুত্ব দিয়ে আমল করতেন পূর্ববর্তীরা। কারণ হাদিসের বর্ণনামতে, শুধু নিয়মিত জোহরের সুন্নত আদায়কারীর জন্যও জাহান্নাম হারাম হয়ে যায়। আমবাসা বিন আবু সুফিয়ান (রহ.) বলেন, আমি আমার বোন উম্মে হাবিবা (রা.)-কে (উম্মুল মুমিনিন) বলতে শুনেছি, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জোহরের আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত (সুন্নত) পড়বে আল্লাহ তাআলা তার দেহ জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন। হাদিসটি বলার পর আমবাসা বিন আবু সুফিয়ান (রহ) বলেন, উম্মে হাবিবা (রা.)-এর কাছে এটি শোনার পর থেকে এ নামাজগুলো আমি কখনও ছাড়িনি। (মুসনাদে আহমদ: ২৬৭৬৪ (হাদিসটি সহিহ); সুনানে নাসায়ি: ১৮১২)
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকেও সুন্নতে মুয়াক্কাদাসহ সকল সুন্নত নামাজ নিয়মিত আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।