Dhaka Mail Logo

প্রবাস

মানসিক সমস্যায় ভোগা ৯২ শতাংশই থাকেন চিকিৎসার বাইরে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

১৩ নভেম্বর ২০২২, ১২:৩১ এএম

দেশে ক্রমেই বেড়ে চলছে মানসিক সমস্যায় ভোগা মানুষের সংখ্যা। যার মধ্যে বয়সে তরুণরা বেশি ভুগছেন। সব মিলিয়ে এই সমস্যায় আক্রান্তদের ৯২ শতাংশ চিকিৎসার বাইরে থাকেন বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থা অ্যাকসেস বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপের (২০১৮-১৯) কথা তুলে ধরে অ্যাকসেস বাংলাদেশ জানিয়েছে, ওই সময়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে মানসিক রোগের হার ১৮.৪% যা খুবই উদ্বেগজনক। আক্রান্তদের মধ্যে তরুণদের সংখ্যাই বেশি। অবশ্য এ সমস্যার সমাধানে চিকিৎসক সংকট অনেক বেশি।

শনিবার (১১ নভেম্বর) অ্যাকসেস বাংলাদেশের আয়োজন মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক সহায়তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে এমন তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশে বছরে গড়ে ১০ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। একইসঙ্গে আক্রান্তদের ৯২ শতাংশই চিকিৎসার বাইরে রয়ে যাচ্ছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশে মানসিক সমস্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলেছে। মানসিক চিকিৎসা সেবা নিয়ে আমাদের দেশে অনেক অবহেলা রয়েছে। অনেকেই সামাজিক নানা কারণে মানসিক অসুখ গোপন করতে চান।

তথ্যের কথা তুলে ধরে একসেস বাংলাদেশ জানায়, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রত্যাশী ৩ লাখ মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন মানসিক চিকিৎসক রয়েছে। দেশে মানসিক চিকিৎসক, সাইক্রিয়াটিস্ট, সাইকোলজিস্ট- মানসিক স্বাস্থ্যসবার সাথে জড়িত পেশাজীবীর সংখ্যা হাজারেরও কম।

burhan

অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন মনে করে, মানসিক সমস্যায় প্রাথমিক ভুক্তভোগীদের সহায়তা করতে পারলে মানসিক রোগীর সংখ্যা হ্রাস পাবে।

অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক পরিচর্যাকারী তৈরি করতে দেশব্যাপী ৮টি বিভাগ থেকে ২৪ জনকে বাছাই করে দুটি ব্যাচে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক পরিচর্যাকারী বিষয়ে আশুলিয়ার সিসিডিবি হোপ সেন্টারে দুই দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

প্রশিক্ষণটি ডিজ্যাবিলিটি রাইটস ফান্ড এর আর্থিক সহায়তায় ৬টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন- অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন, ডিসিএফ, এনসিডিডাব্লিউ, সীতাকুন্ড ফেডারেশন, টার্নিংপয়েন্ট ও ডাব্লিউডিডিএফ যৌথভাবে এবং ইনোভেশন ফর ওয়েলবিয়িং ফাউন্ডেশন এর কারিগরি সহায়তায় অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক পরিচর্যাকারীর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এছাড়াও মানসিক রোগের বিভিন্ন ধরণ যেমন- বিষন্নতা, উদ্বেগ, আত্মহত্যা, ব্যক্তিত্ব বৈকল্য, খাদ্যবিকার, সিজোফ্রেনিয়া, বাইপোলার ডিজঅর্ডার ইত্যাদি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়।

এছাড়াও প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক সহায়তা বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে। প্রশিক্ষণটির ফলে ৮টি বিভাগে প্রাথমিক সহায়তার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সচেতনতা তৈরি হবে। মানসিক স্বাস্থ্যের প্রাথমিক পরিচর্যার মাধ্যমে মানসিক রোগ হ্রাস করতে সহায়তা করবে।

বিইউ/এমআর