প্রবাস ডেস্ক
২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৯ এএম
সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি ২২ বাংলাদেশির নামের পাশে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ লেখা থাকলেও তাদের সাজার বিস্তারিত তথ্য নেই। সৌদি কর্তৃপক্ষের পাঠানো তালিকায় এই তথ্য না থাকায় তাদের কী সাজা হয়েছে, তা জানতে পারছে না জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট। তালিকায় থাকা দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর বাকি ২০ জনের সাজা জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে রায়ের সারসংক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছে কনস্যুলেট।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতাধীন কারাগারগুলোতে থাকা ২ হাজার ৪৬১ জন বাংলাদেশি বন্দীর তালিকা পাঠায়। তালিকাটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২২ জনের নামের পাশে ‘দণ্ডপ্রাপ্ত’ লেখা থাকলেও ‘রায়ের সারসংক্ষেপ’ কলামটি ফাঁকা। ফলে তাদের কত দিনের কারাদণ্ড হয়েছে, নাকি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা জানা যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় গত ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা অঞ্চল শাখাকে (জেদ্দা) চিঠি দেয় কনস্যুলেট। এতে সংশ্লিষ্ট বন্দীদের রায়ের সারসংক্ষেপ দ্রুত পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়। জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের দণ্ডিত নাগরিকদের কনস্যুলার সুবিধা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সাজার সুস্পষ্ট তথ্য চাওয়া হয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী, এই ২২ জনের মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলায় বিচার হয়েছে। মাদক পাচারের মামলায় রয়েছেন পাঁচজন এবং ‘ব্যক্তিগত অধিকার’ সংক্রান্ত মামলায় পাঁচজন। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘনের মামলায় দুজন এবং সাইবার অপরাধ ও ব্যভিচারের মামলায় একজন করে রয়েছেন।
আরও পড়ুন: মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: নতুন করে যা জানা গেল
বন্দীদের মধ্যে ছয়জন জেদ্দার জাহবান কারাগারে, ছয়জন শুমাইসি কারাগারে এবং চারজন জেদ্দা জেনারেল কারাগারে রয়েছেন। বাকি ছয়জন নাজরান, খামিস, আল-বাহা, হাদ্দাহ ও জেদ্দার নারী কারাগারে বন্দী। ‘ব্যক্তিগত অধিকার’–সংক্রান্ত মামলার পাঁচজনই শুমাইসি কারাগারে রয়েছেন। এ ধরনের মামলা সাধারণত ব্যক্তিগত দাবি বা ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত হয়ে থাকে। তবে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, তা মামলার নথি ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
সৌদি আরবে হত্যা মামলায় কিসাসের বিধান অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। আবার রক্তপণের মাধ্যমে সমঝোতা কিংবা কারাদণ্ডের মধ্য দিয়েও মামলার নিষ্পত্তি হতে পারে। ফলে মামলার ধরন দেখে কারও চূড়ান্ত সাজা নিশ্চিত করা যায় না। সম্প্রতি নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের নামও ৩০ সেপ্টেম্বর পাঠানো তালিকায় ছিল, কিন্তু সেখানে সাজার বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি।
রায়ের বিস্তারিত তথ্য না থাকায় বন্দীদের জন্য কী ধরনের আইনি সহায়তা প্রয়োজন, আপিলের সুযোগ আছে কি না কিংবা রক্তপণের মাধ্যমে সমঝোতা বা ক্ষমার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব কি না, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অনিশ্চয়তায় দেশে থাকা বন্দীদের পরিবারও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।
আরও পড়ুন: মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে ছড়ানো ভিডিওটি 'ভুয়া': সৌদি
সাজার তথ্য চাওয়ার পাশাপাশি ১৯ অক্টোবর আরও একটি চিঠি পাঠায় জেদ্দা কনস্যুলেট। এতে ২ হাজার ৪৬১ জন বন্দীর বিষয়ে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। যাদের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের দ্রুত মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো, ভালো আচরণ করা বন্দীদের রাজকীয় ক্ষমার তালিকায় রাখা এবং প্রথমবার আটক হওয়া ও ছোটখাটো অপরাধে বন্দী ব্যক্তিদের অবশিষ্ট সাজা মওকুফের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে আরও দুই বাংলাদেশিকে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী গ্রেফতার করেছে বলে দাবি করেছে তাদের পরিবার। এ বিষয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়েছে কনস্যুলেট। তবে ওই দুই ব্যক্তিকে কী কারণে এবং কোথা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা তাদের পরিবারের সদস্যরা জানেন না।
বন্দীদের সাজার বিস্তারিত তথ্য, মুক্তির উদ্যোগ এবং অন্য দুই বাংলাদেশির গ্রেফতারের বিষয়ে পাঠানো চিঠিগুলোর জবাব সৌদি কর্তৃপক্ষ দিয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। ফলে বাকি ২০ বাংলাদেশির সাজার বিষয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।